Home / জাতীয় / আপনার আশপাশেই রয়েছে মলম পার্টি

আপনার আশপাশেই রয়েছে মলম পার্টি

এসএম দেলোয়ার হোসেন
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের কারনে গেল ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালন করতে পারেনি সাধারণ জনগণ। তবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত পহেলা জুন থেকেই সীমিত আকারে সবকিছুই খুলে দেওয়া হয়। আর সেই থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের অফিস, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করে। ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনমনে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় এবারের কোরবানির ঈদ উদযাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। বরাবরের মতো এবারও নাড়ির টানে প্রিয়জনের সাথে কোরবানির ঈদ উদযাপনের জন্য রাজধানীর অধিকাংশ মানুষই ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি ফিরবেন। আর এই বাড়ি ফিরতে গিয়ে অনেকেই চলার পথে নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হন। এসব বিড়ম্বনার মধ্যে অন্যতম এক আতংকের নাম অজ্ঞান-মলম পার্টি। সাধারণত ঈদ বা জাতীয় কোন উৎসব এলেই তৎপর হয়ে ওঠে এ চক্রের সদস্যরা। ওদের প্রধান টার্গেট থাকে ঘরমুখো মানুষ আর নগদ অর্থ-মূল্যবান সামগ্রী বহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। যাত্রী-হাকারসহ নানা ছদ্মবেশে এ চক্রের সদস্যরা ব্যস্ততম মার্কেট, শপিংমল, ট্রেন, বাস-লঞ্চ টার্মিনাল, কোরবানির পশুর হাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। চক্রের সদস্যরা এতোটাই চতুর, তাদের দেখে কারো চেনার উপায় থাকেনা। চক্রের সদস্যরা তাদের টার্গেটকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ভাব জমিয়ে যেকোন খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে দিয়ে নগদ টাকাসহ সর্বস্ব লুটে নেয়। শুধু তাই নয়, সুযোগ বুঝে অজ্ঞান হওয়া ব্যক্তির স্বজন-পরিবারের নিকট ফোন করে বিকাশ বা অন্যকোন মাধ্যমে নগদ টাকাও হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে। এরা ৫ থেকে ৮ জনের গ্রুপ হয়ে মিশন চালায়। তাই সবাই সাবধান! ঈদ যাত্রাপথে এমনকি কোরবানির পশুর হাটে আপনার আশপাশেই অবস্থান করতে পারে নানা ছদ্মবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংঘবদ্ধ অজ্ঞান-মলম পার্টির সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এসব অপরাধীরা ধূর্ত প্রকৃতির। এরা মাঝেমধ্যে গ্রেফতার হলেও কিছুদিন কারাভোগ শেষে এমনকি আইনের ফাঁক গলে জামিনে বের হয়ে পুরনো সেই পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এরপরও নগরবাসীর ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অজ্ঞান-মলম পার্টির সদস্যদের ধরতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এ চক্রের কবল থেকে রক্ষা পেতে নগরবাসীকে সতর্কতা অবলম্বনসহ ১২টি পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ভুক্তভোগীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ঈদ বা জাতীয় কোন উৎসব এলেই নগদ অর্থের লেনদেন, বেচাকেনা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে গত মার্চ মাসে দেশে শুরু হওয়া বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রদুর্ভাবের কারনে গেল ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালন করতে পারেনি অনেকেই। করোনা আতঙ্কে মার্কেট-শপিংমলে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে ধস নেমে আসে। এরপরও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গত পহেলা জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সবকিছুই খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকারের এমন নির্দেশনা মেনেই ধীরে ধীরে চালু হয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম। আর এভাবেই সচল হতে শুরু করে দেশের অর্থনীতির চাকা। ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনমনে ফিরে আসতে শুরু করে কর্মচাঞ্চল্যতা। করোনার কারনে উৎসবমুখর পরিবেশে গেল রমজানের ঈদ প্রিয়জনদের সাথে উদযাপন করতে না পারলেও এবারের কোরবানির ঈদ উদযাপনে ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্মজীবী নগরবাসী। আগামী সপ্তাহেই নাড়ির টানে প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে ঢাকা ছাড়াবে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষ। আর এ সুযোগকে কাজে লাগাতে ইতোমধ্যেই সক্রিয় হতে শুরু করেছে অজ্ঞান-মলম পার্টির সদস্যরা। ঈদযাত্রা পথে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে অজ্ঞান করে নগদ টাকাসহ সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় ছক কষছে এ চক্রের সদস্যরা। চক্রের প্রতিটি গ্রুপে ৫ থেকে ৮ জন সদস্যকে ইতোমধ্যেই বিশেষ টেনিং দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে।
অজ্ঞানপার্টির কবলে পড়া একাধিক ব্যক্তি জানান, ওরা পোশাক-আশাকে বেশভূষাণ। তাদের দেখলে কারো চেনার উপায় নেই যে ওরা অজ্ঞান-মলম পার্টির সদস্য। ওরা বেশিরভাগ সময় যাত্রীবাহী বাসে যাত্রী বা হকারবেশে অবস্থান করে। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই টার্গেটকৃত ব্যক্তির সঙ্গে কৌশলে ভাব জামিয়ে সখ্য গড়ে তোলে। পরবর্তীতে শুকনো বা পানীয় জাতীয় খাবার খেতে অনুনয়-বিনয় করে। সেই খাবার খাওয়ার পরই অচেতন হয়ে পড়লে চক্রের সদস্যরা পকেট হাতিয়ে নগদ টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বাসে চড়ে সদরঘাট থেকে তাগাদার এক লাখ টাকা নিয়ে মিরপুর যাচ্ছিলেন ওসমান মিয়া। তিনি জানান, সরকারের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসের এক সিটে একাই বসেছিলেন তিনি। তার সামনে পেছনে বসা ছিলেন দম্পতিসহ ছদ্মবেশের আরও কয়েকজন যাত্রী। বাসটি গুলিস্তান অতিক্রম করার পর ব্যবসায়ীক বিষয় নিয়ে তার পাশের সিটের এক ব্যক্তি আলাপচারিতা শুরু করেন। এরপর সখ্যতা গড়ে তুলে তার কর্মস্থল ও গন্তব্য জেনে নেয় যাত্রীবেশের ওই ব্যক্তি। বাসটি পল্টন মোড় অতিক্রমকালে একজন হকার ওঠে। ওই হকারের কাছ থেকে বাদাম কিনেন। পরবর্তীতে তাকেও সেই বাদাম খেতে অনুরোধ করেন পাশের সিটে বসা যাত্রীটি। সেই বাদাম খাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বাসটি মিরপুর সাড়ে ১১ পৌঁছালে হেলপার তাকে ডাকাডাকি করেন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে এলে তার পকেটে থাকা টাকা ও মোবাইল সেটটি আর খুঁজে পাননি। তার ধারণা, পাশের যাত্রীবেশে অপ্সানপার্টির সদস্যরাই বাদামের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দিয়ে তা খাইয়ে অচেতন করে সর্বকিছু হাতিয়ে দিয়ে চম্পট দিয়েছে। তবে সেই টাকা আর ফেরৎ পাবেন না এমনকি ঝামেলা এড়াতে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি বলে দাবি করেন ওসমান মিয়া। এদিকে গত ১৯ জুলাই ভোরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে ধরা পড়েছে অজ্ঞানপার্টির সক্রিয় ৪ সদস্য। এরা হলেন- মাসুদ, মামুন হোসেন ওরফে সাত্তার, সুমন ওরফে মুসা ও সুমন। এসময় তাদের কাছ থেকে নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। করোনাকাল উপেক্ষা করেই ওদের টার্গেট ছিল এবারের কোরবানির পশুর হাট ঘিরে। গত ২০ জুলাই দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছিলেন সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান। তিনি জানান, রাজধানীতে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই ভোরে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম সড়ক থেকে মাসুদ, মামুন হোসেন ওরফে সাত্তার, সুমন ওরফে মুসা ও সুমন নামের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা অজ্ঞান-মলম পার্টির সক্রিয় সদস্য। তাদের প্রধান কাজই হচ্ছে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কৌশলে খাবারের সঙ্গে নেশার ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো। খাওয়ার পর অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাদের সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ও মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাওয়া। গ্রেফতারকৃতরা বহুদিন ধরে ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় সিএনজি-অটোরিক্সার যাত্রী, চালক ও পথচারীদের গতিরোধ করে মলম লাগিয়ে ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নির্জনস্থানে ফেলে গাড়িসহ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যেত। এসব কাজে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ছুরি, চাপাতি, রশি, মরিচের গুঁড়া ও বিষাক্ত মলম এবং নেশাজাতীয় ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করত তারা। এমন কাজে ব্যবহৃত তাদের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছুরি, রশি, গামছা, নেশাজাতীয় ঘুমের ওষুধ ও বিষাক্ত মলম।
এদিকে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, বরাবরের মতো এবারের ঈদযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে সব ধরণের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদসহ জাতীয় কোন উৎসব এলেই নানা কৌশলে অপরাধীরা তৎপর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বছরের দুটি ঈদ উৎসবকে ঘিরে বেচাকেনা ও আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগাতে চুরি-ডাকাতি ছিনতাই ও অজ্ঞান-মলম পার্টির তৎপরতাও বেড়ে যায়। এসব বিষয়কে মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ছক তৈরি করে মাঠে কাজ করছে র‌্যাবের প্রতিটি ইউনিট। তিনি জানান, কোরবানির ঈদে নগদ টাকা বহন ও লেনদেন বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আর এমন চিন্তা ভাবনা নিয়ে মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠে অজ্ঞান-মলম পার্টি। ওদের টার্গেট কোরবানির পশুর হাট, ব্যস্ততম মার্কেট, শপিংমল, ট্রেন-লঞ্চ ও বাস টার্মিনাল এবং যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের ওপর। চক্রের সদস্যরা নানা ছদ্মবেশে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে সুযোগ বুঝে নেশাদ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়। যে কোন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড দমাতে এবং এসব অপরাধীদের ধরতে ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজনদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কোরবানির পশুর হাট, পাইকারি বাজার, মার্কেট-শপিংমল এবং ট্রেন, বাস-লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে বাড়তি নজরদারিসহ র‌্যাবের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ছুটিতে ঈদের আগে পরে ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সড়কে বাড়তি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও পাড়া-মহল্লায় টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যে কোন ধরেনর অপরাধ দমনে র‌্যাব সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার শীর্ষ এ কর্মকর্তা।
অপরদিকে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, এবারের কোরবানির ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অজ্ঞান-মলম পার্টিসহ যেকোন ধরণের অপরাদ দমেন রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাট, ট্রেন, বাস-লঞ্চ টার্মিনালে বাড়তি সতর্ক রয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা টিম। ঈদযাত্রায় স্বাচ্ছন্দে বাড়ি ফিরতে ও নিবিঘ্নে কেনাকাটা করতে সাধারণ জনগণকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, কারো আশপাশে অবস্থান নেওয়া অপরিচিত কেউ থাকলে বা সন্দেহ হলে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করুন। অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে নিজেদের রক্ষার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১২টি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরামর্শসমূহ ঃ ♦ ভ্রমণ পথে অযাচিতভাবে অপরিচিত কেউ অহেতুক ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পাত্তা না দেই। মনে রাখবেন দুষ্ট লোকেরাই মিষ্ট কথা বলে ফাঁন্দে ফেলে।
♦ আপনার পাশের সিটের লোকটিই আপনার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে চাইবে এবং এক সময় নিচের থেকে খাবার (কেক, চিপস, কোমল পানীয়, কাটা পেয়ারা বা আনারস ইত্যাদি) কিনে সেও খাবে আপনাকেও খেতে বলবে। ভুলেও সেই খাবার না খাই।
♦ ফুটপাতে বা রাস্তার মোড়ে টং দোকান থেকে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকি।
♦ ফেরিওয়ালা বা ভ্রাম্যমাণ কারো কাছ থেকে আচার, আমড়া, শসা, পেয়ারা প্রভৃতি না খাই।
♦ বাসে, ট্রেনে বা লঞ্চে ভ্রমণের সময় লজেন্স বা চকলেট, আইসক্রিম, সিগারেট জাতীয় কোন খাবার গ্রহণ না করি।
♦ আজকাল ডাবের ভিতরে আগে থেকেই সিরিঞ্জের মাধ্যমে চেতনানাশক ঔষধ মেশানো থাকতে পারে। তাই কখন কোথা হতে তৃষ্ণা নিবারণ করছি সে ব্যাপারে সতর্ক থাকি।
♦ প্রয়োজনে যাত্রাপথে হালকা নাস্তার জন্য বাড়ি থেকে সংগৃহীত খাবার বা পানীয় সঙ্গে রাখি অথবা স্থায়ী দোকান থেকে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করি।
♦ সিএনজিতে চলার সময় যাত্রীরা ড্রাইভারের কাছ থেকে এবং ড্রাইভাররা যাত্রীদের কাছথেকে কোন খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকি।
♦ যাত্রাপথে নগদ অর্থ বা যে কোন মূল্যবান দ্রব্য নিরাপদ হেফাজতে রাখি।
♦ ভ্রমণের সময় পরিচিত কাউকে সাথে রাখার চেষ্টা করি।
♦ যাত্রাপথে পাশের কোন যাত্রী অসুস্থ হলে তাৎক্ষনিকভাবে যানবাহন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করি। আপনার একটু সহযোগিতাই পারে বড় একটা দূর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে।
♦ যাত্রাপথে কোন ব্যক্তির আচার-ব্যবহার সন্দেহজনক হলে নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করি।
শুধু একটু সচেতনতাই রক্ষা করতে পারে আপনার জীবন ও সম্পদ।

Loading...

Check Also

দেয়াল চিত্রে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক দেয়াল চিত্রের উদ্বোধন করেছেন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *