Home / জেলার খবর / সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস আজ

সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : আজ সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের চার ভাই সিদু কানহু চান্দ ও ভাইরোর নেতৃত্বে আদিবাসীরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। সে যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিল ১০ হাজার সাঁওতাল যোদ্ধা।

এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোতে তেমন কোন কর্মসূচি নেই। অথচ দিবসটিতে জেলার চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল, নবীগঞ্জ উপজেলার চা বাগানগুলোতে বসবাসকারী প্রায় ৩০ হাজার সাঁওতাল দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলার চানপুর চা বাগানের বাসিন্দা ও আদিবাসী ফোরাম হবিগঞ্জ জেলার আহবায়ক স্বপন সাঁওতাল বলেন, ‘হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার সাঁওতাল রয়েছে। আমাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। প্রতি বছর আমরা জাঁকজমকভাবে দিবসটি পালন করলেও এবার করোনার জন্য কোন কর্মসূচি প্রহণ করা হয়নি। তবে কয়েকটি বাগানে সীমিত আকারে কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সহজ-সরল সাঁওতালরাই এই উপমহাদেশের দুর্গম জঙ্গল ও ভূমিকে কঠোর পরিশ্রম করে আবাদী জমিতে রুপান্তর করে কৃষির প্রচলন করে। এখনও সাঁওতালরা চা শিল্প ও কৃষিতে যেভাবে কাজ করে আর কেউই এভাবে কাজ করে না। কিন্তু সাঁওতালরা তাদের এই পরিশ্রমের কোন স্বীকৃতি পায়নি। সরকারি কোন পৃষ্টপোষকতা না থাকায় আমাদের সংস্কৃতি ও ভাষা বিলীন হওয়ার পথে।’

একই বাগানের বাসিন্দা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘আজ থেকে ১৬৪ বছর পূর্বে ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের চার ভাই সিদু কানহু চান্দ ও ভাইরোর নেতৃত্বে আদিবাসীরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সৈন্য ও তাদের দোসর অসৎ ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর ও মহাজনদের অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন যুদ্ধ শুরু হয়। সাওতাঁলরা তীর-ধনুক ও দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলেও ইংরেজ বাহিনীর হাতে ছিলো বন্দুক ও কামান। তারা ঘোড়া ও হাতি যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এ যুদ্ধে ইংরেজ সৈন্যসহ প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল যোদ্ধা মারা যায়। সাঁওতাল বিদ্রোহের লেলিহান শিখা ব্রিটিশ সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধে সিদু কানহু চান্দ ও ভাইরো পর্যায়ক্রমে নিহত হন।১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে যুদ্ধ শেষ হয় ও বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

করোনামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জনগণের পাশে থাকবেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : করোনা সংকটে জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *