Home / অপরাধ / করোনার মধ্যেও মাদক কারবারিরা বেপরোয়া

করোনার মধ্যেও মাদক কারবারিরা বেপরোয়া

এসএম দেলোয়ার হোসেন
বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণরোধে সরকারের নির্দেশনায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যসহ বেশকিছু শপিংমার্কেট ঘিরে শিথিল করা হয়েছে লগডাউন। একই সঙ্গে সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা। এর পাশাপাশি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও নিত্যপণ্যবাহী পরিবহন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে করোনার মহামারির মধ্যেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পেশাদার মাদক কারবারিরা। ঈদের ছুটিতে কোটি টাকার মাদক বাণিজ্যের টার্গেট করে চক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে দেশের সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মজুদ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চক্রের সদস্যরা প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার এমনকি পচনশীল নিত্যপণ্যবাহী পরিবহনযোগে মাদকের চালান আনছে। এসব চালান আনতে গিয়ে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে মাদক কারবারিরা। তবে মাদকের গডফাদাররা বরাবরের মতো রয়ে যাচ্ছে আড়ালে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের নির্দেশনায় করোনার সংক্রমণরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা মাঠপর্যায়ে সতর্ক থাকলেও মাদক প্রতিরোধেও তৎপর রয়েছে। প্রতিদিনই মাদক কারবারিদের ধরতে দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। আজ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতী করোনার থাবা থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশও। চলতি বছরের গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকে প্রায় নিয়মিত কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর এবং মৃত্যুর খবর দিচ্ছে আইইডিসিআর। এমন পরিস্থিতিতে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছুতেই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। কয়েক দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে তা আগামী ৩০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৪০৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫১১ জনে। গতকাল বৃহস্পতিবার আইইডিসিআরের অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণরোধে সরকারের নির্দেশনায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যসহ বেশকিছু শপিংমার্কেট ঘিরে শিথিল করা হয়েছে লগডাউন। একই সঙ্গে সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা। এর পাশাপাশি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও নিত্যপণ্যবাহী পরিবহন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে করোনার মহামারির মধ্যেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পেশাদার মাদক কারবারিরা। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে কোটি টাকার মাদকদ্রব্য বেচাকেনার টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পেশাদার মাদক কারবারিরা। চক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে দেশের সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মজুদ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চক্রের সদস্যরা প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার এমনকি নিত্যপণ্যবাহী পরিবহনযোগে মাদকের চালান ঢাকায় আনছে। এসব চালান আনতে গিয়ে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে মাদক কারবারিরা। তবে মাদকের গডফাদাররা বরাবরের মতো রয়ে যাচ্ছে আড়ালে।
র‌্যাব জানায়, গত ১০ মে ভোর সাড়ে ৫টায় গোপন সংবাদে র‌্যাব-২ এর একটি দল অভিযান চালায় মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সাদেক খান কৃষি মার্কেটের সামনে। সেখান থেকে পেশাদার মাদক কারবারি আমিনুল ইসলামকে ১৪০ গ্রাম (৭শ পুরিয়া) হেরোইনসহ গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-২ এর সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার শেখ নাজমুল আরেফিন (পরাগ) বলেন, সেদিন আমরা গোপন সংবাদ পাই যে, রায়েরবাজার এলাকায় হেরোইন কেনাবেচা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা নজরদারি করে সেদিন ভোরে অভিযান চালাই। এরপর আমরা তাদের মধ্য থেকে একজনকে আটক করলে তার কাছ থেকে ১৪০ গ্রাম (৭০০ পুরিয়া) হেরোইন উদ্ধার করি। তার সাথে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়। তাদের ধরার জন্য অভিযান চলছে। আমিনুল ইসলাম বরিশালের গৌরনদী থানার কলাবাড়িয়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার আজিজ খান রোডের হেমায়েত গাজীর বাসার ভাড়াটিয়া। জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুল জানান, তার সাথে থাকা সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
এদিকে গত ১০ মে উত্তরা-পশ্চিম থানা এলাকা থেকে ৯২ পিস ইয়াবাসহ মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেফতার করে উল্টরা পশ্চিম থানা পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরদিন ১১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্ণেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, কুমিল্লার সীমান্তবর্তী শশীদল এলাকায় গোপনে মাদক-অস্ত্র সরবরাহের গোপন তথ্য পেয়ে গত ৫ মে রাতে র‌্যাব-১ এর একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। শশীদল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১টি একনলা এলজি বন্দুক, ৯টি ম্যাগজিন, ২৬ রাউন্ড গুলি, ৬ রাউন্ড কার্তুজ, ৯৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ জানান, গোপনে তিনি দীর্ঘদিন যাবত অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে যশোর জেলার কোতয়ালী থানায় অস্ত্র, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। তাকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
র‌্যাব জানায়, গত ৩ মে সকালে র‌্যাব-১ এর সিপিসি-৩ পূর্বাচল ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর অদূরে রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন পৌরসভার মায়ার বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিউ জমজম রেস্টুরেন্টের সামনে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ কেজি গাঁজা ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। আটক তিনজন হলেন- নাজিম উদ্দিন শেখ (২৬), মিলন মির্জা (৩৯) এবং আরিফ মোল্লা (২৮)।
র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-৩) মেজর আব্দুল্লাহ আল মেহেদী জানান, একটি পিকআপ যোগে কুমিল্লা থেকে গাঁজার চালান ঢাকায় আসার সংবাদে রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভার নিউ জমজম রেস্টুরেন্টের সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। ১১ টার দিকে একটি পিকআপ দ্রুতগতিতে চেকপোস্ট অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেখানে কর্তব্যরত র‌্যাব সদস্যরা পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে পিকআপ থেকে গাঁজা জব্দ ও ওই তিনজনকে আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র‌্যাব আরও জানায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মাঝেও থেমে নেই মাদকপাচার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান থেকে ৩১১ বোতল ফেনসিডিলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত ৩ মে ভোরে সীতাকুণ্ড থানাধীন ভাটিয়ারীর পূর্ব হাসানাবাদ এলাকায় এ অভিযান চালায় র‌্যাব-৭।
র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, র‌্যাব গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা একটি কাভার্ডভ্যানযোগে পণ্য পরিবহনের আড়ালে এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসছে। খবরের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব হাসানাবাদের ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশনের সামনে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে র‌্যাব সদস্যরা। তিনি বলেন, ভোরে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামগামী কাভার্ডভ্যানটি চেকপোস্টে পৌঁছাতেই র‌্যাব সদস্যরা গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দেয়। এ সময় তিন মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলে। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কাভার্ডভ্যানের ভেতরে ড্রাইভিং সিটের পেছনে সুকৌশলে লুকানো ৩১১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নোয়াখালীর কবিরহাট থানার মো. আরিফ (৩৫), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার বাসিন্দা সুমন (২৫) ও জাকির (৩২)। তাদের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, গত ৩০ এপ্রিল কুমিল্লা থেকে অনুসরণ করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গিয়ে ৫৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ কুমিল্লার একটি দল। গ্রেফতার দুজন হলেন– সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সানারপাড় এলাকায় মৃত মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়া বেপারি (৪০) এবং কুমিল্লার মুরাদনগরের নিয়ামতপুর গ্রামের মো. মুন্না ওরফে আলাউদ্দিন (২২)। তিনি জানান, সেদিন দিবাগত গভীর রাতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি দল কুমিল্লা থেকে অনুসরণ করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সানারপাড় এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় লবণের বস্তার ভেতর লুকিয়ে অভিনব কায়দায় কাভার্ড ভ্যানে ইয়াবা পাচারকালে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে কাভার্ডভ্যানে লবণের বস্তার ভেতর অভিনব কায়দায় লুকিয়ে ইয়াবা নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিজিবি জানায়, গত ৪ মে সকালে দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তের দাউদপুর বিজিবি বিশেষ ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার হেলাল উদ্দিন শেখের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যের একটি টহল দল দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ২ হাজার ২৬৫ বোতল ভারতীয় আমদানি নিষিদ্ধ ফেনসিডিল ও ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ ফেরদৌস হাসান টিটো জানান, সেদিন সকালে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য এনে দাউদপুর সীমান্তের বাঁশ ঝাড়ের ভেতরে খড় ও গোবরের গাদায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তের ২৯০/২৭-এ পিলারের অভ্যন্তরে দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামে (জোলাপাড়া) অভিযান চালানো হয়। পরে সখান থেকে বস্তার মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা দুই হাজার ২৬৫ বোতল ফেন্সিডিল ও ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মূল্য প্রায় নয় লক্ষ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, করোনার সংক্রমণের মধ্যেও মাদক কারবারিরা যত কৌশল অবলম্বন করেই মাদক সরবরাহ করলেও তাদেরকে নজরদারির মধ্যে রাখ হয়েছে। প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক প্রতিরোধে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Loading...

Check Also

করোনা কেড়ে নিল আরও ২১ প্রাণ, আক্রান্ত ১১৬৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *