Home / অপরাধ / পাপিয়াকে ঘিরে ওয়েস্টিনের ৫ অপরাধ

পাপিয়াকে ঘিরে ওয়েস্টিনের ৫ অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জালটাকা, অস্ত্র ও মাদকের পৃথক তিন মামলায় পনেরো দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সদ্য বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগের আলোচিত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীকে। রিমান্ডে পাপিয়ার কাছ থেকে তথ্য বের করে কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এত কালো টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন তিনি তা নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তারা। পাপিয়ার অপকর্মের বিস্তৃত অংশের অনেকটা জুড়েই রয়েছে রাজধানী ঢাকার গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। পাপিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষের অন্তত পাঁচটি অপরাধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ধরা পড়েছে। এই হোটেলে পাপিয়া অবস্থান করেছিল ১২৯ দিন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর পাপিয়া প্রথম ওয়েস্টিনে সাধারণ চারটি রুম বুক করেন। ওই ৪টি রুমের একটিতে ছিলেন পাপিয়া, একটিতে তার স্বামী সুমন এবং বাকি দুটিতে ছিল তার বডিগার্ডসহ কেএমসির (খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি) ক্যাডাররা। গেল বছরের অক্টোবরের ১৫ তারিখে পর প্রেসিডেনশিয়াল রুমে চলে যান। ওই রুমগুলোতে থাকা বাবদ ওই সময়ে পাপিয়া প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ওয়েস্টিনকে নগদে পরিশোধ করেছেন। এছাড়া হোটেল ওয়েস্টিনের বার এবং সুইমিং পুল ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছেন যুবলীগের বহিষ্কৃত এই নেত্রী। প্রতিদিনই মধ্যরাতে ওয়েস্টিনের ২৩ তলার বারে নাচের আসর জামাতেন পাপিয়া। সেখানে মদ্য পানের সঙ্গে উদ্যাম নৃত্য এবং নানারকম অপকর্মে মত্ত থাকতেন পাপিয়ার গেস্টরা। ওই চার মাসের অধিক দিনের এসব সার্ভিস প্রদানের কারণে ওয়েস্টিনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের পাপিয়া প্রতিদিন আট থেকে দশ হাজার টাকা টিপস বা বকশিস হিসেবে দিতেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, প্রথমত, চার মাসের অধিক দিনের সেই স্বর্গরাজ্যে কোন কোন গেস্ট অবস্থান করেছে তার কোনো নথি, তথ্য-উপাত্ত ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করেনি। ওই দিনগুলোতে পাপিয়ার স্যূটে যেসব ‘এসকট’ অবাধে যাতায়াত করত তাদের নাম-পরিচয় উল্লেখ নেই ওয়েস্টিনের খাতায়। এছাড়া পাপিয়ার আমন্ত্রণে তার প্রেসিডেনশিয়াল স্যূটে যেসব প্রভাবশালী অতিথিরা আসতেন তাদের নথিও রাখেনি ওয়েস্টিন। একটা পাঁচ তারকা হোটেলের জন্য এ বিষয়টি একটি গর্হিত অপরাধ। দ্বিতীয় অপরাধ হলো- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে পাওয়া লাইসেন্স মোতাবেক, রাত ১২টার পর বার খোলা থাকবে না। এই সময়ে বার খোলা রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া শুক্রবার এবং ধর্মীয় দিনগুলোতে বার বন্ধ রাখতে নির্দেশনা রয়েছে। অথচ ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ পাপিয়ার জন্য এসব বিধি-নিষেধের তোয়াক্কাই করেনি। সেখানে তার জন্য রাত একটা থেকেই বার চালু করা হতো। এরপর আমন্ত্রিত গেস্টদের নিয়ে জমতো পাপিয়ার আসর। তৃতীয় অপরাধ হলো- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নিয়ম মোতাবেক, যে কোনো বারে কোনো বাংলাদেশি মদ পানে গেলে তার সঙ্গে মাদকদ্রব্য গ্রহণের লাইসেন্স থাকতে হবে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে , ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ এই নিয়মটিও অনুসরণ করেনি। চতুর্থ অপরাধ হলো- হোটেল ওয়েস্টিনের সেই রঙ্গমহলে শুধুমাত্র মদই নয়, গাঁজা, চরস-ইয়াবাসহ নানারকম অবৈধ মাদক নিয়ে আসতেন বিতর্কিত নেত্রী পাপিয়া। অথচ পাঁচ তারকা হোটেলে এ ধরনের অনোনুমোদিত মাদক নিয়ে আসা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ টাকার বিনিময়ে পাপিয়াকে এ ধরনের মাদক সেবনে স্বাধীনতা দিয়েছে। পঞ্চম অপরাধ হলো, ওয়েস্টিনে ১২৯ দিন অবস্থানের সময় পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনের সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র থাকত। পাপিয়ার দেহরক্ষীদের কেউ কেউ অস্ত্র নিয়ে ওয়েস্টিনে প্রবেশ করত। অথচ নিয়ম মোতাবেক, অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে পাঁচ তারকা হোটেলে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটা ওয়েস্টিনের মতো একটা হোটেলে কিভাবে পাপিয়াকে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে তা একটা বিষ্ময়। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হতে পাপিয়ার পাপকাণ্ডের সমস্ত তথ্য গোপন করে তাকে মাদক সম্রাজ্য গড়তে সম্পূর্ণ সহায়তা দিয়েছে ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ। তাই পাপিয়ার পাপকাণ্ডে হোটেল ওয়েস্টিনও দায় এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর শেরেবাংলা নগর থানায় দুটি এবং বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়।পৃথক তিন মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডে পাপিয়া তার বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে অবাক করার মতো নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন। এছাড়াও তাদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে এ দুজনকে ফের ৫ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

Loading...

Check Also

খুনি মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকোচ, ফাঁসি যেকোনো দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকোচ করে দিয়েছেন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *