Home / জাতীয় / ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অভিযোগ পাল্টা অভিযোগেই চলছে প্রার্থীদের নির্ঘূম প্রচারণা

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অভিযোগ পাল্টা অভিযোগেই চলছে প্রার্থীদের নির্ঘূম প্রচারণা

 

এসএম দেলোয়ার হোসেন
গত ক’দিন ধরেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা গোটা রাজধানী। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত দুই সিটির মেয়র পদের হেভিওয়েট প্রার্থী। পিছিয়ে নেই জাপা’র দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে আর তীব্র শৈতপ্রবাহ উপেক্ষা করেই ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রধান দ্ইু রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়রপ্রার্থী আতিকের পক্ষে ঢাকা-১৩ আসনের সাংসদ সাদেক খান নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বলছেন, আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। আর বিএনপি প্রার্থীরা বলছেন, ধানের শীষের পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে সরকার সমর্থকরা। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীনদের দাপটে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তারা কোথাও তাদের কোন নির্বাচনী পোস্টার-ব্যানার লাগাতে পারছেন না। নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও রাজধানীর কোথাও তাদের পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা। এমন অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগেই চলছে ঢাকার দুই সিটির মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্ঘূম প্রচারণা। এদিকে ঢাকা উত্তরে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল তার নির্বাচনী প্রচারণায় সরকার সমর্থক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ এনে সিইসি’র কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নিরাপত্তা চেয়ে ডিএমপি কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তবে শেষ সময় পর্যন্ত ভোটের মাঠে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও ঘোষণা দুই সিটিতে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্ত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ-ইশরাক। আজ মঙ্গলবার ঢাকার দুই সিটির বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে প্রার্থীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন। ইতোমধ্যেই সিইসি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা প্রদানসহ সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। সিইসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত ঢাকার দুই সিটির মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা গত ১০ জানুয়ারি থেকেই দলীয় প্রতীক নৌকা ও ধানের শীষসহ বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারাভিযান শুরু করেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আজ মঙ্গলবার ভোরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে রয়েছে পুরো রাজধানী ঢাকা। এরপরও কুয়াশার চাদর ভেদ করেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীরা সকাল থেকেই প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ নির্বাচনের যে আর বাকি হাতে গোনা কয়েকদিন।
ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ঢাকা-১০ আসনের সাবেক সাংসদ ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস কামরাঙ্গীরচর এলাকার ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচর এলাকার উন্নয়ণে কাজ করার নানা প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া নির্বাচিত হলে বছরের ৩৬৫ দিনই জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলে জানান। আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী বলেন, নগর ভবনের অভিভাবক হিসেবে আমাকে পাঠানো হলে এই নগরীকে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। আসুন আমাদের ঢাকাকে আমরাই গড়ে তুলি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নত ঢাকা গড়ার জন্য নৌকা মার্কায় আমাকে ভোট দিন। অবহেলিত এই কামরাঙ্গীরচরকে উন্নত ঢাকায় পরিণত করবো। এখানকার রাস্তাঘাট, অলিগলি সবকিছুই উন্নত হবে। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাপস জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কোন ধরণের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না। বরং গত সোমবার পুরান ঢাকায় তার নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, তাদেরকে বাধা দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি অভিযোগ। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করতে ব্যস্ত রয়েছি। তারা তাদের জাতীয় রাজনীতির কলাকৌশল এবং অভিযোগ করতেই ব্যস্ত রয়েছেন। এসময় নির্বাচনী প্রচারণায় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, আবুল হাসনাত, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল, ডা. মোশাররফ হোসেন খানসহ অসংখ্য নেতাকর্মী। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই খিলগাঁও নন্দীপাড়ার ত্রিমোহনী বাজার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন দক্ষিণের বিএনপি’র মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। পরে তিনি সবুজবাগ, বাসাবো এলাকায়ও প্রচারণা চালান। এসময় তিনি জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দেন। এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী বাজারে পঞ্চম দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, জনগণকে সাথে নিয়ে সব অপশক্তি মোকাবিলা করে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাব। কারও কোনও বাধা আমরা মানব না। আর কোনও নালিশও কাউকে দেব না। মহান আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা আছে। আমাদের সঙ্গে জনগণ রয়েছে। জনগণই আমাদের শক্তি। ইশরাক বলেন, গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়ররা ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচন হলে দক্ষিণ সিটির অবহেলিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন করবো। ইশরাক হোসেন আরও বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নয়, ভোট ডাকাতির ফিল্ড তৈরি করছে বর্তমান সরকার। আমাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, পোস্টার লাগাতে গেলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাই আমরা আর কোনও অভিযোগ কারও কাছে দেব না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা ভেদ করে আগারগাঁও, তালতলা থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় গণসংযোগ শুরু করেন ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এসময় তিনি আবারও মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে আধুনিক, সুস্থ ও সচল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রæতি দেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থীরা নির্বিঘেœই প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাই মিথ্যা, অসত্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান আতিকুল। এদিকে নির্বাচন কমিশনের বেধে দেয়া আচরণবিধি ভেঙে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনের সাংসদ সাদেক খান। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শতদল কমপ্লেক্স মাঠে সাদেক খানকে আতিকের নির্বাচনী মঞ্চে দেখা গেলেও সে সময় সেখানে ছিলেন না মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তবে সে মঞ্চে ছিলেন ২৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ফোরকান হোসেন ও ১০নং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হামিদা আক্তার মিতা। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনী মঞ্চে একজন সাংসদের উপস্থিতি নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই আতিকুল ইসলাম আসার আগেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এমপি সাদেক খান। বেলা পৌনে ১টার দিকে অনুষ্ঠানে আসেন আতিকুল ইসলাম। এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তরের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি মতবিনিময় সভায় আসার সময় কোনো সংসদ সদস্য সেখানে ছিলেন না। তার দাবি আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। এদিকে ঢাকা উত্তরের বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আওয়াল উত্তর বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা এবং গুলশান লিংক রোড এলাকার বিভিন্ন অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের প্রতি আহ্বান রাখছেন যেন ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে এলাকাবাসির সেবা করার সুযোগ দেয়া হয়। এসময় তাবিথ অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির জনজোয়ারে ভীত হয়ে সরকারি দলের প্রার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। তাবিথের নির্বাচনী প্রচারণায় তার কর্মীদের মারধর ও মাক্রোফোন ভাঙচুরের অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। ডিএনসিসি ৩৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে সিইসি বরাবর চিঠি দেন তাবিথের একজন প্রতিনিধি। ওই চিঠিতে তাবিথ অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আমার পক্ষে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর ২১ বিধি অনুযায়ী বিধিসম্মতভাবে গত সোমবার বেলা তিনটায় নির্দিষ্ট সময়ে মাইক্রোফোনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল। কিন্তু মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ৩৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা আমার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় আমার নির্বাচনী প্রচারণারতদের মাইক্রোফোন ভাঙচুর ও মারধর করেছে। এরূপ অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং বেআইনি বলপ্রয়াগে বিধিমালার ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন। চিঠিতে আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লংঘনের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। অপরদিকে আসছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ডিএমপি কমিশনারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি রাতে মোহা. শফিকুল ইসলাম বরাবর এই চিঠি দেন উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম। এর আগে, নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তাকে গত ১২ জানুয়ারি চিঠি দিয়েছিলেন ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল।
এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে কাকরাইলের দলীয় কার্যালয় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। এসময় তিনি কাকরাইল ও পল্টন এলাকায় লাঙলের পক্ষে গণসংযোগ চালিয়েছেন। কাকরাইলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিজয়নগর হয়ে পল্টন এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ শেষ করেন মিলন। এসময় তিনি প্রচার মিছিলে অংশ নেন এবং পথসভায় বক্তব্য রাখেন। কাকরাইল মোড়ে এক পথসভায় জাপার মেয়রপ্রার্থী মিলন বলেন, নগরবাসীকে শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে লাঙলের বিকল্প নাই। আমি নেতা নয়, সেবক হিসেবে ঢাকাবাসীর সাথে থাকতে চাই। মানুষ পরিবর্তন ও শান্তি চায়। আর জাতীয় পার্টিই পারে এই পরিবর্তন আনতে। এসময় জাপার মেয়রপ্রার্থী মিলনের সঙ্গে গণসংযোগে জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুদ্দিন ডালু, ইসহাক ভূঁইয়া, হাজী ফারুক, শেখ আলমগীর হোসেন, মো. সোবহানসহ মহানগর জাপার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী আয়াতউল্লাহ বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি পোস্টার-ব্যানার লাগাতে পারছি না। কে বা কারা রাতের আধারে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলছে। যা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের অন্তরায়। একই অভিযোগ করেছেন ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকপ্রাপ্ত কাউন্সিলর প্রার্থী বিল্লাল হোসেন, ঠেলাগাড়ি প্রতীকপ্রাপ্ত কাউন্সিলর প্রার্থী রতন ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের রেডিও প্রতীকপ্রাপ্ত কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদাত হোসেনসহ ঢাকার দুই সিটির স্বতন্ত্র মেয়র-কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
প্রসঙ্গত, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনী তারিখ পেছানোর জন্য করা রিট উচ্চ আদালতে গতকাল খারিজ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুসারে আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র-কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই সিটির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ৫ হেভিওয়েট প্রার্থী ছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রচারণা আর গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Loading...

Check Also

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে ঈদ পর্যন্ত!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *