Home / জাতীয় / এবার মনোনয়ন প্রদানেও ক্যাসিনোকাণ্ডের আঘাত

এবার মনোনয়ন প্রদানেও ক্যাসিনোকাণ্ডের আঘাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
গত বছরে রাজধানীজুড়ে পরিচালিত শুদ্ধি অভিযান চলাকালে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বেও পরিবর্তন ঘটেছে। সেই পরিবর্তনের জোয়ারে এ বছর ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও দলের মনোনয়ন প্রদানেও ক্যাসিনোকাণ্ডের আঘাত লেগেছে। কপাল পুড়েছে ক্ষমতাসীন অনেকের। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির পর সিটি নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী বাছাই কমিটি ও দলের হাইকমান্ডের দিক-নির্দেশনায় বিভিন্ন অনিয়ম-অপরাধে জড়িতদের বাদ দেয়ায় দলের সমর্থনে প্রার্থী হতে ক্লিন ইমেজধারী অনেকেই জায়গা পেয়েছেন এবারের সিটি নির্বাচনে। তবে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিদের ফের কাউন্সিলর প্রার্থী দেয়ায় খোদ ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূলে এমনকি সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ-হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই বিকল্প প্রার্থীকে বেছে নেয়ার পরিকল্পনায় মাঠে নেমে বৈঠক করছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোটারদের সাথে কথা বলে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীজুড়ে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। ওই অভিযানে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ আরো অনেকে। এরপর বেরিয়ে আসতে শুরু করে তাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো-মাদক ব্যাবসা পরিচালনা আর দখল-চাঁদাবাজির সাথে সম্পৃক্ততার তথ্য। পরবর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনায় ক্যাসিনোকাণ্ডসহ চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িতদের দলের পদ-পদবি থেকে বাদ দিয়ে নতুন করে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের পদ-পদবিতেও ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। সেই শুদ্ধি অভিযানে গ্রেপ্তার এড়াতে খোদ ক্ষমতাসীন দলের ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ অনেক শীর্ষ নেতারাও আত্মগোপনে চলে যায়। শুদ্ধি অভিযানে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগের প্রমান পেয়ে অভিযুক্তদের অবৈধ সম্পদসহ আয়ের উৎসের অনুসন্ধানে মাঠে নামে খোদ দুদক। একই সঙ্গে অভিযুক্ত অনেকের দেশ ছেড়ে পালানো ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় এমনকি প্রতিটি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে দুদুক। চলমান অভিযানেই গ্রেপ্তার হন কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ও তারেকুজ্জামান রাজীব, আর ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত নাম কাউন্সিলর আবু সাঈদ। এরা কেউই এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ঢাকা উত্তরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পাগলা মিজান হিসেবে পরিচিত কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকের কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। দুদকের মামলায় এখন কারাবন্দি মোহাম্মদপুরের এই কাউন্সিলর। তার জায়গায় মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মোহাম্মদপুরের আরেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিব। ১৯ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও মদসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনিও কারাবন্দি রয়েছেন। তার এলাকা ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য আসিফ আহমেদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীদের গ্রেপ্তার হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। এছাড়া আরো যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা হলেন- ঠিকাদার জি কে শামীম, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, তারেকুজ্জামান রাজীব, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, এনামুল হক আরমান, যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা, কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ, যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, ব্যবসায়ী মো. সাহেদুল হক এবং গণপূর্তের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. মুমিতুর রহমান ও তার স্ত্রী মোছা. জেসমীন পারভীন। কমিশনের পরিচালক সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি টিম অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছেন। অপর সদস্যরা হলেন- উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সালাহউদ্দিন, গুলশান আনোয়ার প্রধান, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, আতাউর রহমান ও মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানে যেসব নেতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি-অনিয়ম, দখল-চাঁদাবাজি আর ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের দল থেকে বহিস্কার এবং সিটি নির্বাচনে প্রার্থীতা থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বাছাই কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বর্তমান ১৭২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে এবার ৫৫ জন দলের সমর্থন পাননি। এদের মধ্যে ৩৬ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদেও প্রার্থীতা দিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে বাদ দিয়ে নতুন মুখ ঢাকা-১০ আসনের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯ জন এবং উত্তরে ১৭ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে আওয়ামী লীগ। গত ২৯ ডিসেম্বর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র মনোনয়নের পাশাপাশি কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। ওই দিন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, জনগণের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কোন প্রার্থী নির্বাচনে জেতার উপযোগী, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিতর্কিত কোন ব্যক্তিকে দলের সমর্থনে প্রার্থীতা দেওয়া হবে না। সূত্র আরও জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৫ জন সাধারণ, ২৫ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪ জন সাধারণ এবং ১৮ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর দেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আছেন আওয়ামী লীগের ৬৬ জন ও বিএনপির ১০ জন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের মধ্যে ২০ জন আওয়ামী লীগ এবং ৫ জন বিএনপি সমর্থিত। এই সিটিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের মধ্যে দু’জন দলের মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন, মারা গেছেন একজন। বাকি ৬৩ জনের মধ্যে ৪৪ জন মনোনয়ন পেয়েছেন, মনোনয়ন পাননি ১৯ জন। বিএনপির ১০ জনের মধ্যে আটজন মনোনয়ন পেয়েছেন, একজন কাউন্সিলর নির্বাচনে আসেননি। বাদ পড়েছেন একজন। দক্ষিণে আওয়ামী লীগের ২০ নারী কাউন্সিলরের মধ্যে ১০ জন মনোনয়ন পেয়েছেন, একজন সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পেয়েছেন, আর বাদ পড়েছেন ৯ জন। বিএনপির নারী কাউন্সিলরদের সবাই এবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এদিকে ঢাকা উত্তরের ৫৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে একজন বিএনপি ও একজন জাতীয় পার্টির। মনোনয়ন পেয়েছেন ৩৫ জন, মনোনয়ন পাননি আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ১৭ কাউন্সিলর। এই সিটির ১৮ জন নারী কাউন্সিলরের মধ্যে ৩ জন বিএনপির, বাকি ১৫ জন আওয়ামী লীগের। ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত একজন সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। আর বাকি ১৪ জনের মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন ৫ জন, বাদ পড়েছেন ৯ জন। দক্ষিণের ১, ৮, ৯, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২১, ২২, ৩২, ৩৯, ৫০, ৬০, ৬৩, ৬৭ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবার মনোনয়ন পাননি। আর উত্তরের ৩, ৬, ৭, ৮, ১২, ১৪, ১৭, ২০, ২৩, ২৫, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৪২, ৪৩, ৪৮ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
দলীয় সূত্র জানায়, শুদ্ধি অভিযানে ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত হওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হন একেএম মমিনুল হক সাঈদ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওই অভিযানের সময় চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলেন ক্যাসিনো সাঈদ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিলর। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশে ফিরে আসেন সাঈদ। তবে এবার আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি তিনি। তার জায়গায় ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোজাম্মেল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাঈদ। তার স্ত্রীও একই পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর মোস্তবা জামান পপির জায়গায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে পল্টন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. এনামুল হককে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় ঢাকা উত্তরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন তিতুর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নামে দুদক। সে সময় কিছু দিন দেশের বাইরে ছিলেন তিতু। তার জায়গায় ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুরাদ হোসেনকে প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ।
এদিকে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে মিরপুরের শাহ আলী এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন তিতু জানান, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এ কারণে এবার দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। দলীয়ভাবে সমর্থন ও মনোনয়ন না পাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিছু সাংবাদিককেও ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেন তিতু। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে লেখাইছে। আমি আওয়ামী লীগের বিপদের দিনের ত্যাগী কর্মী। প্রথমে আমাকেই দিয়েছিল। পরে আমাকে কেটে মুরাদ ভাইকে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে ঢাকা উত্তরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোবাশ্বের চৌধুরী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা কায়সারের ভগ্নিপতি। ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসার পর দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় মোল্লা কায়সারকে। তার নির্বাচনী এলাকা মিরপুরের রূপনগরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে মোবাশ্বের চৌধুরী জানান, তিনি নিজেই এবার নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাননি। তিনি বলেন, আমি গত দুই মাস আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করব না। কারণ এখন আর মানসম্মান নিয়ে চলা যায় না।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনকে ফের মনোনয়ন দেয়ায় এলাকায় সাধারণ ভোটারসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তার বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজি, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, অবৈধ ইজিবাইক-অটোরিকশা চালানোর অনুমোদিত কুপন বিক্রি, ডিস-ইন্টারনেট ব্যবসার দখল-নিয়ন্ত্রণ, সরকারি জমিতে ময়লা ফেলে ভরাটের পর গ্যারেজ ভাড়া দেয়া, সালিশের নামে হয়রানি, বিপুল অর্থ আদায়, দলের সিনিয়র নেতা-থানা পুলিশের ওপর হামলা-জুলুম-নির্যাতন, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, বাড়ি বাড়ি নম্বর প্লেট বিতরণের নামে অর্থ আদায়, প্রতিটি অলি-গলিতে কিশোর গ্যাং গ্রুপ তৈরি করা আর বহিরাগতদের মাধ্যমে ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকার অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ৬-৭টি বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি দোকানপাট গড়ে তোলা অবৈধ অর্থে নামে-বেনামে অঢেল সম্পতির মালিক বনে যাওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হতে দলের সমর্থন পেতে অর্থের বিনিময়ে দু’টি গোয়েন্দা সংস্থাকে ম্যানেজ করেন মোহাম্মদ হোসেন। দলের পক্ষে পুনরায় তাকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়ন দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি করেছেন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবারের নির্বাচনে বিতর্কিতদের মনোনয়ন না দেয়ার পক্ষে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাতে তারা আশার আলো দেখেছিলেন। দলীয়ভাবে ৫৫ ও ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে এমন আশায় বুক বেধেছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ সাধারণ ভোটাররা। কিন্তু সেই বিতর্কিত মোহাম্মদ হোসেন ও নূরে আলম চৌধুরীকে দলের সমর্থনে মনোনয়ন দেয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। সাধারণ ভোটাররা জানান, ৫৫ ও ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে দলের পক্ষে নতুন কাউকে সমর্থন না দেয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। ইতোমধ্যেই বিকল্প প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে প্রতিনিয়ত বৈঠক করছেন ও ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন বলেও জানান তারা। এতে করে আসন্ন ঢাকা দক্ষিণের ৫৫ ও ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন ঘিরে খোদ ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপধারণ করছে। বিকল্প প্রার্থীকে ঠেকাতে ইতোমধ্যেই গ্রুপিং লবিং শুরু করেছে দলের সমর্থন পাওয়া মোহাম্মদ হোসেনসহ তার বহিরাগত অনুসারি মাদক কারবারি, বিদ্যুৎ চোরের হোতা মো. সিরাজ তালুকদার, দেহ ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মহি, ইমনসহ অন্যরা। এদিকে ঢাকা উত্তরের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবু তাহের খান মারা যান গত বছরের ২৩ জুন। সেখানে উপ-নির্বাচন হয়নি। ওই ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ হোসেন। দুই সিটিতে এবার দু’জন নারীকে কাউন্সিলর (সাধারণ) পদে প্রার্থী করা হয়েছে। তারা হলেন- উত্তর সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলেয়া সারোয়ার (ডেইজি)। আর দক্ষিণে ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন হেলেন আক্তার, যিনি ৪৫, ৪৬, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত নারী-১৭ আসনের কাউন্সিলর। এছাড়া দক্ষিণের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু আহমেদ মন্নাফী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন। সেখানে তার ছেলে আহমদ ইমতিয়াজ মন্নাফী মনোনয়ন পেয়েছেন। আর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন কবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এই ওয়ার্ডে তার ভাই মকবুল হোসেনকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে মকবুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন সাইজুদ্দিন আহমেদ সাজু ও সাত শহীদ পরিবারসহ ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটাররা।

Loading...

Check Also

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে ঈদ পর্যন্ত!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *