Home / জাতীয় / ফিরে দেখা-২০১৯ আলোচিত শুদ্ধি অভিযান বিচারের মুখোমুখি প্রভাবশালীরা

ফিরে দেখা-২০১৯ আলোচিত শুদ্ধি অভিযান বিচারের মুখোমুখি প্রভাবশালীরা

এসএম দেলোয়ার হোসেন
হঠাৎ করেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে, এতে খোদ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা একের পর এক ধরা পড়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, তেমনটাই ঘটেছে বিদায়ী বছর-২০১৯ সালে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপ আর কঠোর নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে বিলাসিতা ছেড়ে এখন কারাগারে দিনযাপন করছেন। ক্যাসিনোর বরপুত্র খ্যাত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে কে না চিনে। যে সম্রাট শুধু ঢাকা দক্ষিণে নয়, পুরো ঢাকা শহরে ছাপিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দাপিয়ে বেড়াতেন, সেই সম্রাটকেই আলোচিত শুদ্ধি অভিযানে ধরা পড়ে মাথা নিচু করে দাঁড়াতে হয়েছে ঢাকা সিএমএম আদালতের কাঠগড়ায়। এরপর তার ঠিকানা হয় চারদেয়ালে বন্দি কারাগারে। অনেক আগে থেকেই ক্যাসিনোকাণ্ডে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও তা কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে ক্যাসিনোর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হন- সম্রাট, আরমান, খালেদ, জি কে শামীমসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিদায়ী বছর-২০১৯ সালে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। বিভিন্ন মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃত ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও সরকারি উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা এখন বিচারের মুখোমুখি। তারা আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ও রায়ের অপেক্ষায় কারাগারে প্রহর গুণছেন। রাজধানীর ক্লাবপাড়ায় অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য এবং টেন্ডারবাজিসহ নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর জনমনে নতুন করে আশাবাদ সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অনমনীয় মনোভাব সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়। শুদ্ধি অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়ায় অভিযুক্ত অনেকেই এখন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। এ ধারা অব্যাহত রাখার দাবিও জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।
বিদায়ী বছর-২০১৯ সাল ছিলো সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আর খোদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের মাঠ কাঁপানো প্রভাবশালী রাজনীতিকদের ওপর চালানো অভিযান আর গ্রেপ্তার আতঙ্কের একটি বছর। মেঘ না চাইতেই যেমন বৃষ্টি নেমে এলো…। এমনটিই ঘটেছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা আর সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি আর ক্যাসিনোব্যবসা পরিচালনার বিস্তর অভিযোগ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপ আর কঠোর দিক-নির্দেশনায় খোদ ক্ষমতাসীন দলের মাঠ কাঁপানো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর শুরু করা হয় শুদ্ধি অভিযান। বিদায়ী বছরের গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানের বাসভবন থেকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে অস্ত্র, মাদক, হত্যা এবং সর্বশেষ দুর্নীতির মামলায় রিমান্ডে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। খালেদের পর ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে নিজ কার্যালয় থেকে জি কে শামীমকে সাত দেহরক্ষীসহ আটক করে র‌্যাব। এরপর তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। ওই দিনই (২০ সেপ্টেম্বর) কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের হেফাজতে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানকালে ৭ প্যাকেট ইয়াবা, ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। ওই রাতেই তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে আছেন। শফিকুল আলমকে গ্রেপ্তারের ৪ দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে তার মণিপুরী পাড়ার বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব। এসময় তার রুম থেকে ৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। মদ উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাব তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার গুরু সেলিম প্রধানকে আটক করে র‌্যাব-১। মানিলন্ডারিং এবং দুর্নীতির মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। তিনিও কারাগারে আছেন।
র‌্যাবের ধারাবাহিক ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলাকালে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ক্যাসিনো হোতা সম্রাট গ্রেপ্তার হচ্ছেন কি হচ্ছেন না, এ নিয়ে জনমনে চলে নানা-জল্পনা। পরে গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সম্রাকে মাদক, অস্ত্র এবং দুর্নীতির মামলায় রিমান্ডে নেয়া হয়। আরমানকে রিমান্ডে নেয়া হয় মাদক এবং দুর্নীতির মামলায়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। শুদ্ধি অভিযানে গত ১১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের এক বাসা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে আটক করা হয়। সে সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করে র‌্যাব। পরদিন ১২ অক্টোবর হাবিবুর রহমান মিজানের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২০ অক্টোবর পাগলা মিজানকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। ১৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২১ অক্টোবর দুই মামলায় রাজিবের সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ৪ নভেম্বর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর অস্ত্র আইনের মামলায় গত ১১ নভেম্বর চার দিন এবং ১৫ নভেম্বর মাদক মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১৯ নভেম্বর রিমান্ড শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। অস্ত্র আইনের মামলার গত ২২ নভেম্বর রাজিবের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর বেলা ১টার দিকে রাজধানীর টিকাটুলিতে নিজ কার্যালয় থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মঞ্জুকে আটক করে র‌্যাব। মঞ্জুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক-ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ আছে। ওই দিনেই মঞ্জুর বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। পরের দিন (১ নভেম্বর) আদালত অস্ত্র ও মাদক মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। গত ২৪ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় এবং ৩০ নভেম্বর মাদক মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। শুদ্ধি অভিযানে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর আটকের পরই ঢাকার দুই সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলর ও নেতাদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া শুদ্ধি অভিযানের নামে দুই সিটির কাউন্সিলরদের যাতে অহেতুক হয়রানি করা না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন। এরপরও দুর্নীতিবাজ কাউন্সিলররা গ্রেপ্তার এড়াতে নিজেদের কার্যালয় আর বাসস্থান থেকে একে একে অবৈধ অস্ত্র-মাদক, লাঠিসোঁটা আর নগদ টাকাসহ অবৈধ অর্থে কেনা দামি গাড়ি অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। শুদ্ধি অভিযান চলাকালে বিদায়ী বছরে দুর্নীতি-ফিটিং, কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম, দখল-চাঁদাবাজি, ডিস-ইন্টারনেট ব্যবসার দখল আর অবৈধ ইজিবাইক-অটোরিকশা চালানোর অনুমোদন থেকে কোটি টাকা মাসোহারা আদায়ের বিস্তর অভিযোগে যেকোন মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। বিদায়ী বছরে এমন গুঞ্জন ছিলো গোটা কামরাঙ্গীরচর জুড়ে। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক এক মন্ত্রীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গোটা কামরাঙ্গীরচরে মূর্তমান আতঙ্কে পরিণত হন মোহাম্মদ হোসেন। তার সাম্রাজ্যে সবাই ছিল অসহায়। খোদ ক্ষমতাসীন দলের থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও রেহাই পাননি। নানা সময়ে অনেক নেতাকর্মীই হোসেন বাহিনীর হাতে হামলা, জুলুম-নির্যাতন, লাঞ্ছিত আর হয়রানির শিকার হয়েছেন। হোসেনের ইন্ধনে সড়ক সংস্কারে কামরাঙ্গীরচরে ৫শ’ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন মোস্তফা কামাল সরকার। তার নিজস্ব কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে কাজ না পেলেও বিএনপি নেতার লাইসেন্স ব্যবহার করে এসব উন্নয়ন কাজ চলছে। শিডিউল বিধি ভঙ্গ করে নিম্নমানের সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে স্যুয়ারেজ লাইনে পাইপ বসানো আর তৃতীয় শ্রেণির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তা ঢালাইয়ে ৫ ইঞ্চি দেয়ার কথা থাকলেও দেড় থেকে ২ ইঞ্চি পরিমাণ ঢালাই দিয়ে কাজের ইতি টেনে টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদার ওই ব্যবসায়ী। এর পেছনে সার্বিক সহায়তা করে কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বড় একটি কমিশন বাণিজ্য করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর গত প্রায় ৫ বছরে মোহাম্মদ হোসেনের বড় অর্জন কামরাঙ্গীরচরের বিস্তির্ণ জনপদের প্রতিটি অলি-গলিতে কিশোর গ্যাং বাহিনী, জুয়ার আসর, ফ্ল্যাট পরিচালনা আর ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওইসব বাহিনীর অনেকেই বহিরাগত-ভাড়াটে। ইতোমধ্যেই তারা দখল-চাঁদাবাজি আর সালিশের নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তাদের রয়েছে নামিদামি ফ্ল্যাট-গাড়ি-বাড়ি। একই অভিযোগ রয়েছে আরেক কাউন্সিলর সাইদুল মাদবর, নূরে আলম চৌধুরী ও হাসিবুর রহমান মানিক। বিদায়ী বছরে চালানো শুদ্ধি অভিযান যাতে এ বছরও অব্যাহত থাকে সেই দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।

Loading...

Check Also

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে ঈদ পর্যন্ত!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *