Home / অর্থনীতি / দুই ব্যাংকের মেলেনি লাইসেন্স

দুই ব্যাংকের মেলেনি লাইসেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সম্মতিপত্র (এলওআই বা লেটার অব ইনটেন্ট) পাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন ব্যাংক দুইটির চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলওআই দেওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়। এর মধ্যে লিমিটেড কোম্পানি গঠন করে ৫০০ কোটি টাকা ডিপোজিট করা অন্যতম। এই শর্ত পূরণ করতে পারলেই চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হতো। কিন্তু ব্যাংক দুইটি তথ্যাদি সরবরাহ করতে না পারায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য আরও সময় চেয়েছে। তাই তো চূড়ান্ত অনুমোদনের সিদ্ধান্তও পিছিয়েছে।
গত বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এ বিষয়ে বোর্ড সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এলওআই পাওয়া বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক দুইটিকে চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সবগুলো শর্ত পূরণ করতে না পেরে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য সময় চেয়েছে। আর তাই বোর্ড বিষয়টি বিবেচনা করে সময় দিয়েছে। তবে পিপলস ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন না আসায় এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।
এ বিষয় ছাড়াও আমানত বিমা ট্রাস্ট তহবিলের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিরীক্ষা ও হিসাব ও কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩৯৮তম পর্ষদ সভার কার্য বিবরণী নিশ্চিতকরণ এবং সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং দেশের আর্থিক খাতের প্রধান প্রধান সূচকগুলো পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। একই সভার স্থগিতকৃত ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট পারফরমেন্সের রিপোর্টও পর্যালোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের দুইটি বোইং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ, একটি স্পেয়ার ইঞ্জিন ও একটি স্পেয়ার আই পি ইউ এর ডেলিভারি পেমেন্ট অর্থায়নে সোনালী ব্যাংক থেকে ৩১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সোনালী ব্যাংক থেকে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আমানত রাখা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ-টু-আই প্রকল্পের আওতায় রোডম্যাপ ২০২১ বাস্তবায়নে গভর্নমেন্ট ইন্সট্রুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সংক্রান্ত সফটওয়্যার সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকে চালুকরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা, পরিবেশবান্ধব পণ্য বা উদ্যোগের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার ২০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা ২০১৯ এর চূড়ান্ত অনুমোদনসহ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বর্ধিত চিকিৎসা সুবিধা সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করা হয়।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি খাতের বেঙ্গল কমার্শিয়াল, পিপলস ও সিটিজেন ব্যাংক তিনটি অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অনুমোদন পাওয়া বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের’ প্রধান উদ্যোক্তা হলেন- বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। যদিও শুরুতে ‘বাংলা ব্যাংক’ নামে অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের ভাই এবং তাদের প্লাস্টিক শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে।
অপরদিকে দ্য সিটি ব্যাংকের মালিক হলেন- বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা এম এ কাশেম এই ব্যাংকের উদ্যোক্তা। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যাংকটির আবেদন করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ব্যাংকের অনুমোদন পেতে ১০ লাখ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হয় এবং চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন লাগে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ৩টি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করার শর্ত দিয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকগুলোকে প্রথমে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কোম্পানি গঠন করতে হবে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের জন্য চূড়ান্ত লাইসেন্স দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Loading...

Check Also

নতুন মাইলফলকে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক

নিউজ ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে গত সপ্তাহ থেকে রেল কন্টেইনারে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য পরিবহন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *