Home / জাতীয় / নির্বাচন কমিশনে সিইসি- ইসি’র বিরোধ চরমে

নির্বাচন কমিশনে সিইসি- ইসি’র বিরোধ চরমে

 

এসএম দেলোয়ার হোসেন
নানা অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনে চলমান কার্যক্রমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার একক সিদ্ধান্তগ্রহণ মেনে নিতে পারছেন না সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ নিয়ে সংস্থাটির মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নানা ধরণের অভিযোগ তুলে একাট্টা হয়েছেন অন্য চার নির্বাচন কমিশনার। এমন পরিস্থিতিতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে সিইসি-ইসিদের বিরোধ চরমে উঠেছে। বিভিন্ন সময় ইসিতে নানা বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও এবারই প্রকাশ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশনের বিরোধ। তবে চার নির্বাচন কমিশন যেসব অভিযোগ তুলছেন, তার জবাব দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বারবার নোট অব ডিসেন্ট আর কমিশন সভা বর্জন করে সিইসিসহ চার নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বরাবরই অবস্থান ছিল কমিশনার মাহবুব তালুকদারের। এবার পাল্টে গেছে সেই দৃশ্যপট। মাহবুব তালুকদার এবং অন্য তিন নির্বাচন কমিশনার এক হয়ে অবস্থান নিয়েছেন স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। সূত্র জানায়, একাট্টা হওয়া চার নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা অর্থ বরাদ্দ, বাজেট নির্ধারণ, কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানো এবং নিয়োগ-প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে চার নির্বাচন কমিশনারকে কিছুই জানানো হচ্ছে না। একক সিদ্ধান্ত নিয়েই সিইসি বিধি বহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে চার কমিশনারের মন্তব্য ও বক্তব্য গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চলামান কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে চার নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে ক্ষোভ অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভ্যন্তরীন কোন্দলেই জড়িয়ে পড়ছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সম্প্রতি সিইসির বিরুদ্ধে আন অফিসিয়াল নোট দেন চার নির্বাচন কমিশনার। অভিযোগের তীর ছোড়েন সচিবের দিকেও। সিইসি আর সচিব মিলে স্বেচ্ছাচারিতা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসি মাহবুব তালুকদারসহ একাট্টা হওয়া চার নির্বাচন কমিশনার।
এ ব্যাপারে ইসি রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আইনে বলা আছে- ব্যয়ের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবে কমিশন। সম্প্রতি সংস্থাটিতে ৩ শতাধিক কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হলো, অথচ সে ব্যাপারে আমরা কেউ কোনো কিছুই জানলাম না। নির্বাচন কমিশনে দৈনিন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমরা জানি না। বিশেষ করে ওইসব বিষয়গুলো আমাদের কারো সুস্পষ্ট করে জানানো হয়না। এমন কার্যক্রম পরিচালনা করা কতটুকু বিধিসম্মত, তা আমাদের বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আর সংস্থাটির সচিব মিলে স্বেচ্ছাচারিতা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মাহবুব তালুকদার।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও সচিবের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে চার নির্বাচন কমিশনার যে ধরনের অভিযোগ তুলেছেন তা যুক্তিসঙ্গত নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে তারাই স্বেচ্ছাচারিতা করছেন। তিনি বলেন, আইনের মধ্যে থেকে কাজ করলে সেটাকে স্বেচ্ছাচারিতা বলে না। বরং যারা আইনের মধ্যে থেকে কাজ করছে, তাদের নিয়ে কথা বললে তা হয় স্বেচ্ছাচারিতা।
বিরোধের এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়মের ভেতরে থেকেই নির্বাচন কমিশনে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমিশনারদের মতের মিল না হতে পারে, তাই বলে তো নির্বাচন কমিশনের কাজ থেমে থাকতে পারেনা। তবে নির্বাচন কমিশনাররা তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলেছেন তার যথাযথ জবাব শিগগিরই দেয়া হবে বলেও জানান সিইসি কে এম নুরুল হুদা।

Loading...

Check Also

সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই: সেলিমা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, দেশের সকল দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *