Home / জাতীয় / ধুমপানের কথা পরিবারকে বলায় ঢামেক কর্মচারী খুন

ধুমপানের কথা পরিবারকে বলায় ঢামেক কর্মচারী খুন

 

এসএম দেলোয়ার হোসেন
ধুমপানের কথা পরিবারকে জানিয়ে দেয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কর্মচারী আমির হোসেনকে (৪২) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত আসামি মো. ইব্রাহিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকা প্রতিদিনকে এ তথ্য জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মহসীন সরদার।
তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেলের কর্মচারী আমির হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত ইব্রাহিমকে রোববার দিনভর থানা হেফজতে রেখে রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম পুলিশকে জানায়, তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটির জেরে তিনি ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে ঢামেক কর্মচারী আমির হোসেনকে পিটিয়ে জখম করেন। এতে তার মৃত্যু ঘটে। কী কারণে তাকে পেটানো হয়, তা জানার চেষ্টাকালে ইব্রাহিম জানায়, সে নিজে ধুমপান করতো। ধুমপানের দৃশ্যটি ঢামেক কর্মচারী আমির হোসেন দেখে ফেলেন। এরপর আমির হোসেন ধুমপানের বিষয়টি তার পরিবারকে জানিয়ে দেন। এতে তার পরিবার ইব্রাহিমকে গালমন্দ করেন। সেই থেকেই ঢামেক কর্মচারী আমিরের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল ইব্রাহিম। এর জের ধরেই রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগের প্রধান ফটকের বাহিরে আমির হোসেনের সাথে দেখা হয়ে যায় ইব্রাহিমের। তখন ধুমপান করার বিষয়টি তার পরিবারকে জানিয়ে দেয়ার কারণ জানতে চেয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে ইব্রাহিম। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার হাতে থাকা ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আমির হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করে ইব্রাহিম।
এদিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আমির হোসেন ঢামেক হাসপাতালের রেডিও থেরাপি বিভাগের এমএলএমএম পদের একজন কর্মচারী। তিনি ১ ডিসেম্বর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢামেকের বহির্বিভাগ মেইন গেইটের ভিতর দক্ষিণ পাশে অবস্থানকালে আসামি তাকে বলে, তুই আমার সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি আমার মাকে কেন বলেছিস? এই বলে আসামি ইব্রাহিম ঢামেক কর্মচারী আমির হোসেনকে এলোপাথাড়ি মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে আসামি রাগের বশবর্তী হয়ে দৌড়ে গিয়ে একটি ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে আসে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সেই ব্যাট দিয়ে আমির হোসেনের মাথার পিছন দিকে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। উপস্থিত লোকজন আমির হোসেনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে এ ঘটনা ঘটিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ঢামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত আনসার সদস্য এবং কর্মচারীরা ইব্রাহিমকে আটক করেন। আমির হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় তার ভাই নূর হোসেন বাদী হয়ে রোববার শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহসীন সরদার জানান, ইব্রাহিমের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে আজ সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালতে আসামিকে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তিনি। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢামেক কর্মচারী আমির হোসেন হত্যাকাণ্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত। এরপর বিজ্ঞ আদালত ইব্রাহিমের জবানবিন্দ রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন মামলাটিতে কামাল হোসেন নামে একজন সাক্ষী হিসেবে হাবিবুর রহমান চৌধুরীর আদালতে জবানবন্দি দেন।

Loading...

Check Also

ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও রায় লেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও মামলার রায় লেখার বিষয় বিবেচনার জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *