Home / জেলার খবর / মৌলভীবাজারে প্রবীণদের আড্ডাস্থল প্রবীণাঙ্গন

মৌলভীবাজারে প্রবীণদের আড্ডাস্থল প্রবীণাঙ্গন

আবুল হায়দার তরিক, মৌলভীবাজার থেকে
মৌলভীবাজার শহরের পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে এবং ব্যক্তিপর্যায়ের অনুদান নিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের আড্ডা ও বিনোদনের জন্য সুসজ্জিতভাবে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রবীণাঙ্গন। শুধু অপেক্ষা ছিল উদ্বোধনের। অবশেষে ৩০ নভেম্বর প্রবীণ নাগরিকদের আড্ডাস্থল প্রবীণাঙ্গন উদ্বোধন করলেন পরিকল্পনা এম এ মান্নান এমপি। এর মধ্যদিয়ে খুলে দেওয়া হলো শহরের প্রবীণ নাগরিকদের আড্ডা ও বিনোদনের এই মনোমুগ্ধকর অঙ্গনটি। মৌলভীবাজার পৌরসভার সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়ন এবং ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদান থেকে এই স্থানটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে। যাতে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা সকাল ও বিকালে এখানে এসে ঘুরে, আড্ডা দিয়ে, বই পড়ে, খেলাধুলা করে সময় কাটাতে পারেন। স্থানটিকে দৃষ্টিনন্দন করতে লাগানো হচ্ছে বকুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, টেকোমা. স্থলপদ্ম হাসনাহেনাসহ নানা রকম মৌসুমি-স্থায়ী ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের ফুল।
তিনটি কক্ষকে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। এই কক্ষের একটির মধ্যে থাকবে পাঠাগার। এতে সবধরনের বই থাকবে। থাকবে টেলিভিশন। একটি কক্ষ থাকবে বিশ্রামের জন্য। এতে দুটি শয্যা থাকবে। বয়স্ক নাগরিকরা হাঁটাচলা ও খেলাধুলা করে ক্লান্ত হলে এখানে বিশ্রাম নিবেন। প্রবীণ নারীদের জন্য থাকবে একটি কক্ষ। এই কক্ষে নারীরা বিশ্রাম নেবেন, আড্ডা দেবেন। এর বাইরে তিনটি শেড স্থাপন করা হয়েছে। এতে বেঞ্চ থাকবে। যাতে এখানে বসে আড্ডা দেওয়া যায়। এছাড়া মুক্ত স্থানে আছে বসার বেঞ্চ। যার যেখানে খুশি বসতে পারবেন, সময় কাটাতে পারবেন। থাকবে পত্রিকা পড়ার কর্নার। কফি-চা কর্নারও থাকবে।
ভোর থেকে সকাল ৯টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্থানটি প্রবীণদের জন্য খোলা রাখা হবে। নতুন করে সাজানো অংশটি জনমিলন কেন্দ্রের মূল ভবন থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। যাতে জনমিলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানাদি হলেও এখানকার আড্ডায় কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়।
মেয়র ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এদিন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মল্লিকা দে, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানসহ পৌর নাগরিক, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সমাজের বিশিষ্টজনদের। থাকবেন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাও।
প্রবীণাঙ্গন সম্পর্কে পৌর মেয়র ফজলুর রহমান জানান, এক সময় তারা যৌবনের পুরোটা দিয়েছেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে। তাদের পেছন ফিরে তাকানোর সময় ছিল না। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তারা সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। প্রকৃতির নিয়ম একসময় তাদের বার্ধক্যের কাছে নিয়ে যায়। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আগে যেখানে তাদের হাতে একদণ্ড দাঁড়ানোর অবসর ছিল না, এখন তাদের হাতে অফুরন্ত অবসর। কিন্তু বয়সের ভার, বার্ধক্যজনিত রোগ-ব্যাধি তাদের সীমিত পরিসরে আটকে রাখে। চাইলেই তারা সবখানে যেতে পারেন না। কোথাও বসে নির্মল আড্ডা দিতে পারেন না। যদিও এই সময়টিতেই তাদের আরও বেশি কাছের মানুষের সঙ্গ ও সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা।

Loading...

Check Also

অগ্নি সন্ত্রাসীদের কেউ ক্ষমতায় দেখতে চায় না : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : একাত্তরের ঘাতক এবং অগ্নি সন্ত্রাসীদের নতুন করে আর কেউ ক্ষমতায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *