Home / জেলার খবর / দুর্ভোগের কারণ সেতু

দুর্ভোগের কারণ সেতু

বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের পশ্চিম চরমিয়াজান বাজার সংলগ্ন সেতু ও আলগী সেতু চার বছরেও সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসির দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন পৃথক এই দুইটি সেতু পাড় হতে গিয়ে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুসহ বয়ঃবৃদ্ধরা দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউপির উত্তর চন্দ্রদ্বীপের সাত-আটটি চরের প্রায় ১৪-১৫ হাজার মানুষের চলাচলে এই সেতু দুইটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হলেও সংস্কারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
রায়সাহেব চরের মাঝখান দিয়ে তেঁতুলিয়া নদী থেকে উঠে আসা চন্দ্রদ্বীপ ইউপির পশ্চিম চরমিয়াজান বাজার সংলগ্ন সেতু ও চরনিমদী-চরআলগীর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের উপর জালাল ফরাজি বাড়ির পাশের আলগী সেতু দুটির অধিকাংশ ধসে যায়। ফলে দুইপাশের চর রায়সাহেব, চরমিয়াজন, চরনিমদী, কিসমত পাঁচখাজুরিয়া, চরকচুয়াসহ ৭-৮টি চরের হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দুটি দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া ৯৭নং চর রায়সাহেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরওয়াডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মূল ভূখণ্ডের ধানদী ফাজিল মাদরাসা, ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭১নং নিমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ, বাউফল সরকারি কলেজ, নিমদী লঞ্চঘাটের যাত্রি ও ইউনিয়ন কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেন্টারের রোগী-সাধারণসহ উভয় পাশের চরমিয়াজান ও ধানদী বাজারের লোকজন প্রতিদিন চলাচল করে।
সেতু দুইটির সস্ন্যাব ও লোহার অ্যাঙ্গেল ক্ষতিগস্ত হওয়ায় চলাচলের জন্য স্থানীয়রা গাছের ডাল, বাঁশ ও কাঠের তক্তা দিয়ে কোনো রকমভাবে মেরামত করা হয়। তবে সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরান, শারমীন, নার্গিস, সীফাসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, সেতু দুটি দিয়ে পাড় হতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুরা। অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক বছরে অন্তত ৮-১০ বার দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে সেতু ব্যবহার করা শিক্ষার্থীরা।
চর রায়সাহেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কলি আক্তার জানান, মাত্র বছর চারেক আগে সেতু দুটি নির্মাণ করা হলেও ঠিকাদারের কারসাজির কারণে এই অল্প সময়েই সেতু দুটির করুন হাল হয়েছে। সিমেন্টের সস্ন্যাব ভেঙে যাচ্ছে। গাছের ডাল, কাঠ, বাঁশ দিয়ে মেরামত করা হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না। প্রতিদিন হাজারো চরবাসীকে মূল ভূখণ্ডের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাসপাতাল, বাজার ও নিমদী লঞ্চঘাটে পাড়ি দিতে হয়। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় এই দুটি সেতু পাড় হতে চরবাসীদের দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রায়সাহেব চরের গুচ্ছগ্রামের শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে সেখানেও খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ জরুরি হয়েছে বলে জানান তিনি। চন্দ্রদ্বীপের ১নং ওয়ার্ডের রায়সাহেব এলাকার মেম্বার ছালাম শরীফ বলেন, সিমেন্টের সস্ন্যাব ও লোহার অ্যাঙ্গেলে নির্মিত সেতু দুটির অধিকাংশ সস্ন্যাবই ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। চরের ছেলেমেয়েরা এমনিতেই অনেক কষ্টে নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে রায়সাহেবের গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন খালের ওপার নতুন একটি সেতু নির্মাণসহ এই দুই সেতুর খুব দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনও সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

Loading...

Check Also

গাজীপুরে কলেজছাত্রীর আত্মাহুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক গাজীপুরের কালীগঞ্জে পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তামান্না বেগম (১৭) ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *