Home / জাতীয় / নদীমাতৃক বাংলাদেশে পানিতে ডুবে বাড়ছে শিশু প্রাণহানী

নদীমাতৃক বাংলাদেশে পানিতে ডুবে বাড়ছে শিশু প্রাণহানী

এসএম দেলোয়ার হোসেন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় পানিতে ডুবে শিশু প্রাণহানীর ঘটনা নদীমাতৃক বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে। শিশু প্রাণহানির দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে। প্রতিবছরই এভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অনেক পরিবারেই চলছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ইউনিসেফ বলছে, সাঁতার না জানায় এ দেশে পানিতে ডুবে প্রতিবছর প্রাণ হারাচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার শিশু। এ দেশে এভাবে শিশু প্রাণহানির ঘটনা বিশ্বের সর্বোচ্চ জনসংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে শিশু বয়স থেকেই সাঁতার শেখানো জরুরি। অভিভাবকদের অসচেতনতা আর সাঁতার না জানার কারণেই পানিতে ডুবে শিশু-কিশোরের মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। পানিতে ডুবে শিশুর প্রাণহানী রোধে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি শিশুকেই সাঁতার শেখানো উচিৎ। একই সঙ্গে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভূক্ত করে শিশু বা প্রথম শ্রেণিতে ৫ বছর বয়স থেকেই সাঁতার শেখানো বাধ্যতামূলক করতে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদীমাতৃক বাংলাদেশ। এ দেশের মানুষের জীবনমানও নদী কেন্দ্রীক। নদী কেন্দ্রীক এ দেশে তাই পানিতে ডুবেই প্রতিবছর প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছে শিশু-কিশোর। সূত্র জানায়, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় এশিয়া মহাদেশেই বেশি। তবে পানিতে ডুবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রামে আব্দুর রশিদ তার আদরের মেয়ে সামিয়া খাতুনকে (৮) নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ ধরতে নামেন। এসময় তার অজান্তেই পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায় সামিয়া। গত ৯ নভেম্বর দুপুরে জয়পুরহাটের সদর উপজেলার পাকারমাথা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে সাফিন হোসেন (৩) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই শিশু উপজেলার পাকারমাথা গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবার জানায়, গতকাল দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে অন্য শিশুদের সাথে খেলার সময় সবার অজান্তে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় সাফিন। বেশ কিছুক্ষণ পর শিশু সাফিনকে পুকুরে ভাসতে দেখে তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুর মৃত্যুর খবরে সাফিনের মা-বাবার আহাজারিতে মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহরিয়ার খান ঢাকা প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একইদিন দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁপাল কানাইডাঙ্গা গ্রামে পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো- খাদিজা খাতুন (৫) ও রাকিবা খাতুন (২)। তারা উভয়েই সম্পর্কে চাচাতো বোন। উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুল হক জানান, ঘটনার সময় ওই দুই শিশু বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে যায়। বিকেলে রাকিবার লাশ পুকুরের পানিতে ভেসে ওঠে। কিছুক্ষণ পর খাদিজার লাশও পাওয়া যায়। এদিকে গত ১৯ অক্টোবর বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপনের গয়পুর গ্রামে আমান মিয়ার ছেলে আরিয়ান (৩) ও আটপাড়া উপজেলার মঙ্গলসিদ্ধ উত্তরপাড়া গ্রামের মো. আলমগীর হোসেনের মেয়ে আবিদা আক্তার (৭) বাড়ির পুকুর ও তুসাই নদে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যায়। সন্তান হারিয়ে তাদের মা-বাবাসহ স্বজনরা এখনো পাগলপ্রায়। এর আগে গত ৯ অক্টোবর ভোলা সদরের ভেদুরিয়া ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ডের খালেক বেপারী বাড়িতে পানিতে ডুবে জাবেদ (৭) ও রাজিব (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২২ আগস্ট শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার খোশালপুর গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশু তামিমের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। একইদিন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তাতারপুর গ্রামে পানিতে ডুবে রুবেল হোসেনের ছেলে আমির হামজার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সাঁতার না জানা কিশোর সাকিব তার বন্ধুদের সাথে খেলা শেষে ফিরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। শূন্য কোল নিয়ে এখনো সন্তানের অপেক্ষায় বিলাপ করছেন সাকিবের মা। তার চারপাশ জুড়ে শুধুই শূন্যতা। যদিও জানেন আর কখনই ফিরে পাবেন না তার নাড়ি ছেঁড়া ধন। নিজের বড় সন্তানকে এভাবে হারানোয়, বাবা দুষলেন কেবল ভাগ্যকেই। তিনি বলেন, ঢাকায় সাঁতার শিখানোর কিছু থাকলে ভালো হত। তাহলে সব বাবা-মা’রাই সন্তানদের নিয়ে সাঁতার শিখাতে নিয়ে যেতে পারতো। সন্তানহারা সাকিবের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন, আমার ছেলের কথা মনে হলেই বারবার ফিট হয়ে যাই। আমার ছেলে তো আর ফিরে আসবে না। কখনো কল্পনাই করি নাই যে, আমার ছেলের জানটা এভাবে চলে যাবে। পানিতে ডুবে মারা যাবে ভাবতেই পারছি না। সন্তান হারানোর পর থেকেই নদী-খাল-বিল, পুকুর-ডোবা আর জলাশয় দেখলেই আঁতকে উঠি। এই বুঝি কারো বুকের ধন পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে ডুবে যাচ্ছে। এভাবে আর কারো মায়ের বুক যেন খালি না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান সাকিবের মা-বাবা।
ইউনিসেফের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু সাঁতার না জানার কারণে নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ জন শিশু-কিশোর পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে। যা প্রতিবছর সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় বাংলাদেশে। এমনকি রোগে ভুগে মৃত্যুর চেয়ে দেশটিতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হারই বেশি বলে মনে করেন গবেষকরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবে বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটে এশিয়া মহাদেশেই। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নদীমাতৃক বাংলাদেশে। সংস্থাটির এক জরিপে বলা হয়, এ দেশে গড়ে দিনে ৪০টি শিশু মারা যাচ্ছে পানিতে ডুবে। বস্নম্নমবার্গ ফিলানথ্রপিস, জন হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ ইউনিট, দি সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বা সিআইপিআরবি এবং আইসিডিডিআরবি’র এক গবেষণায় এই তথ্য বের হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং রিসার্চ সেন্টার (আইডিআরসি) বাংলাদেশের ডিরেক্টর ড. আমিনুর রহমান জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতে পানিতে মৃত্যুর সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় বেশি হলেও জনসংখ্যার অনুপাতে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু হার বাংলাদেশেই বেশি। সবাই বলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় বেশি মারা যায়। কিন্তু আসলে বেশি শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে। কিন্তু এসব মৃত্যুর রিপোর্ট ও যথাযথ রেকর্ড রাখা হয়না। পুলিশের খাতায়ও এদের পরিসংখ্যান তেমন একটা সংরক্ষিত না থাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাগুলো ফোকাস হয়না। তিনি জানান, ২০১৬ বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করে একটি ন্যাশনাল সার্ভে পরিচালনা করা হয়েছিলো। তখন দেশের ১৬টি জেলার শহর ও গ্রামে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এসব জেলা থেকে তারা প্রায় ১ লাখ শিশুসহ মোট ৩ লাখের বেশি মানুষের ওপর চালানো এই জরিপের ফল উঠে এসেছে ২০১৬ সালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আইডিআরসি প্রণীত বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে। ২০০৩ ও ২০০৪ সালেও প্রায় একই ধরণের সার্ভে হয়েছিলো এবং তখনো একই ধরণের ফল এসেছিলো বলে ঢাকা প্রতিদিনকে জানান ড. আমিনুর রহমান।
হেলথ ও ইনজুরি সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, ইনজুরি বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারায় আত্মহত্যা (১৪.৭ শতাংশ) করে। এরপরেই রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা (১৪.৪ শতাংশ), এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যু (১১.৭ শতাংশ)। তবে এটি সব বয়সী মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপের তথ্য। প্রতিবছর এ ধরণের ১২টি ইনজুরি থেকে মৃত্যুর সংখ্যা দেশে বছরে ১ লাখেরও বেশি। অর্থাৎ যত মানুষ দেশে মারা যায় তার ১২ শতাংশই ইনজুরি জনিত কারণে।
ড: আমিনুর রহমান জানান, যত মানুষ মারা যায় তার মধ্যে ১৭ বছরের কম বয়সীদের বেশির ভাগই শিশু-কিশোর পানিতে ডুবে মারা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে ০-১৭ বছর বয়সীরা ডুবেই মারা যায় বেশি। প্রতিবছর ১৪-১৭ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৪০ জন শিশু প্রাণ হারাচ্ছে পানিতে ডুবে। তিনি বলেন, ধরুন একটি ক্লাসে ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকে। আর প্রতিদিনই এদেশে এমন একটি ক্লাসরুম খালি হয়ে যাচ্ছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর কারণে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার মতো পানিতে ডুবে এসব মৃত্যুর ঘটনাটি চোখে পড়েনা এমনকি গণমাধ্যম বা পুলিশের খাতায়ও রেকর্ডভুক্ত হয়না। ফলে পানিতে মৃত্যুর বিষয়টি পোকাস না হওয়ায় সরকারি-বেসরকারিভাবে তেমন কোন আলোচনায়ও আসেনা।
ড. আমিনুর রহমান বলেন, প্রতিদিন গড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সের ৩০ জন শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। অর্থাৎ ১৪ হাজারের মধ্যে ১০ হাজারই হলো পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। নানা গবেষণা ও জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, পানিতে ডুবে রেকর্ড পরিমাণ শিশু মৃত্যুর জন্য কয়েকটি রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকি রয়েছে। সেগুলো হলো- দেশের চারদিকে বিভিন্ন ধরণের প্রচুর জলাশয়-পুকুর, নদী, ডোবা, খাল, বিল; সবচেয়ে বিপজ্জনক পুকুর (৮০ শতাংশ দুর্ঘটনা পুকুরেই হয়, যেটি বাড়ির সীমানা বা ঘরের ২০ মিটারের মধ্যে); দেখভাল করার অভাব: ৬০শতাংশ ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে। কারণ এসময় মায়েরা বা গৃহীনা ব্যস্ত থাকেন পারিবারিক ও সাংসারিক কাজে। বাবারা জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে এবং বড় ভাই-বোন থাকলে তারা হয়তো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকেন; দরিদ্র গরীব পরিবারে শিশু মৃত্যু বেশি; বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাঁতার না জানার প্রবণতা; তাৎক্ষনিক প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান না থাকা। ফলে পানিতে ডুবলে সেখান থেকে উঠিয়ে কী করা হবে সেটাই অনেকে জানেনা- বিশেষ করে হার্ট ও শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর প্রাথমিক চেষ্টা থাকেনা; নানা কুসংস্কার- যেমন মাকে ধরতে না দেওয়া বা অনেক সময় শিশুকে মাথায় তুলে চারদিকে ঘোরানো এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা: অনেক ক্ষেত্রে ডুবে যাওয়া শিশুকে কী করা হবে বা ফার্স্ট রেসপন্স সম্পর্কে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির অভাব থাকে।
ড: আমিনুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে ডুবে যাওয়া শিশুদের নিয়ে যে কাজ করছেন তারা তাদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিলে এ ধরণের দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করছেন তিনি। এগুলো হলো- ১ থেকে ৫ বছরের নীচের শিশুদের সঠিক তত্ত¡াবধান; ২ থেকে ৫ বছরের বেশি বয়সীদের সাঁতার শেখানো; কমিউনিটি সচেতনতা তৈরি করা; কর্মব্যস্ত অভিভাবকদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার যেখানে কেয়ার গিভারের তত্ত¡াবধানে শিশুরা থাকবে এবং বুদ্ধি-ভিত্তিক বিকাশ ত্বরান্বিত করার ব্যবস্থা থাকা।
ড. আমিনুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ডে-কেয়ার কিছু চালু করেছে এবং বেসরকারি উদ্যোগে তারা নিজেরাও কিছু প্রকল্প নিয়েছেন ইউনিসেফের সহায়তায়। তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কেউ ডুবলেও তাকে উদ্ধারের পরপর তার শ্বাস ও হার্ট চালু করার যেসব প্রাথমিক উদ্যোগ আছে সেগুলো মানুষকে শেখানো। হাসপাতালে আনতে আনতে অনেকেই বাঁচেনা। তাই যারা উদ্ধার করেন তাদের যদি প্রাথমিক ওই জ্ঞান থাকে তাহলে অনেক শিশুই বেঁচে যাবে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।
এদিকে বেসরকারি একটি সংস্থা জানায়, শুধুমাত্র সাঁতার না জানার কারণে এমন মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। লেখাপড়ার সাথে সাথে সাঁতার শেখা বাধ্যতামূলক করা গেলে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য ২০০৫ সাল থেকে কাজ করে আসছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ, সিআইপিআরবি। নিছক প্রতিযোগিতাই নয় জীবনের তাগিদেও সাঁতার শেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে ওই সংস্থাটি।
ড্রাউনিং প্রিভিনশন পলিসি অ্যাকটিভিস্ট সদরুল হাসান মজুমদার জানান, সুইমিং শিক্ষাটা যে একটা জীবনের গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা এই জিনিসটাই আমরা অনেকে মাথাতেই নেই না। সুইমিং ফেডারেশন শুধু সাঁতার প্রতিযোগীতে আয়োজন করবে না, সারাদেশে সুইমিং ফেডারেশন ৫ বছরের অধিক বাচ্চাদেরকে সাঁতার শিখানোর আয়োজন করবে। তাহলে হয়তো একটা বড় রকমের বিপ্লব করা সম্ভব। নদীমাতৃক এই দেশে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাগুলো নীরব মহামারী রূপধারণ করছে। এসব মৃত্যু প্রতিরোধে কেবল সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, অভিভাবকসহ সমাজের তৃণমূল পর্যায়ের ব্যক্তিদেরও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারিভাবেও সুইমিং ফেডারেশনকে আরো গতিশিল করতে হবে বলে জানান সদরুল হাসান মজুমদার।

Loading...

Check Also

সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই: সেলিমা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, দেশের সকল দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *