Home / জেলার খবর / রিজভী ওয়াক্ফ এস্টেটের ১০ কোটি কার সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে

রিজভী ওয়াক্ফ এস্টেটের ১০ কোটি কার সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে

আব্দুল হাফিজ, ময়মনসিংহ ব্যুরো
ময়মনসিংহ মহানগরের ৬নং ওয়ার্ডের আকুয়া উত্তরপাড়া ভাঙার পুল এলাকার সৈয়দ নিছার হোসাইন রিজভী ওয়াক্ফ এস্টেট (ইসি নং-১২৩১৮) এর প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ৬৬ শতাংশ ভ‚মি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। ভ‚মিদস্যুদের হাত থেকে ওয়াক্ফ সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক বরাবরে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ খানের পুত্র হামিদুর রহমান মিন্টু গত ২৭ অক্টোবর একটি আবেদন করেছেন। আবেদনের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়, ওয়াক্ফ প্রশাসক (অতিরিক্ত সচিব) সহ আরও অনেককে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে আকুয়া উত্তরপাড়া ভাঙার পুল এলাকায় সৈয়দ নিছার হোসাইন রিজভী ওয়াক্ফ এস্টেট সম্পত্তি ভূমিদস্যুরা আত্মসাতের নেশায় বেসামাল হয়ে পড়েছে। আকুয়া মৌজায় ৭৯ জে.এল. নং ও ৭৮৪ খতিয়ানে যথাক্রমে ৩১২৮, ৩১২৯, ৩১৩০ দাগে অবস্থিত ১টি পুকুর ও বাগানসহ সাড়ে ৮৮ শতাংশ ভ‚মি রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ ভ‚মিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস ভবন এবং অনুমান ১২ শতাংশ ভ‚মিতে কবরস্থান রয়েছে। বাকি ৬৬ শতাংশ ভ‚মি একটি প্রভাবশালী চক্র কৌশলে নামে-বেনামে লিজ এনে দখল করেছে। উল্লিখিত স্থানে একটি পুকুর ও বাগান ছিল। অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ওয়াক্ফ এস্টেটের ময়মনসিংহ প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি লোভী চক্রের যোগসাজশে পুকুরটি ভরাট করা হয়েছে। বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির ৫০ – ৬০টি গাছ, যেগুলোর আনুমানিক মূল্য ৮-১০ লাখ টাকা। ভ‚মিদস্যুরা এসব গাছ কেটে নিয়েছে। ভ‚মিদস্যুদের অন্যতম হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আরডিসি অফিসে কর্মরত কেরানি মো. নেছার হোসেন, তার বিশ^স্ত সহযোগী হচ্ছে কদ্দুসসহ স্থানীয় আরও ৪-৫ জন। ওয়াক্ফ সম্পত্তি দেখাশোনা করার জন্য স্থানীয় আকুয়া উত্তরপাড়া জামে মসজিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মসজিদকে আড়াল করে ভ‚মিদস্যুরা নামে-বেনামে ওয়াক্ফ সম্পত্তি কথিত লিজ এনে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করেছে। শোনা যাচ্ছে ১ কোটি টাকার বিনিময়ে এ সম্পত্তি ভ‚মিদস্যুরা ৮-১০ জনের কাছে বিক্রি করেছে। পুকুর ও বাগানের স্থানে এরা পাকা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছে। ময়মনসিংহ ওয়াক্ফ প্রশাসনকে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। স্থানীয় ওয়াক্ফ অফিসের মোতাওয়াল্লী, কালাম, সায়েদুলসহ আরও একজন কর্মচারী এ অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সম্প্রতি ওয়াক্ফ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বরত বিভাগীয় সচিব ফরিদ আহমদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি অবগত রয়েছি, কিছু দিন হয় যোগদান করেছি, যদি কেউ লিজ নিয়ে না থাকে তবে তারা অবৈধ দখলদার। স্থানীয় রিক্সা চালক শামছু ও আলমসহ আরও অনেক ভূমিহীন লোক জানান, আমাদেরকে জমি দেওয়া হয় না। জমি দেওয়া হয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে। শয্যাশায়ী মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ খানের স্ত্রী হাজেরা বলেন, মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হয়েও জায়গা পাই নাই। পান্নুর বিধবা স্ত্রী জানান, কষ্টে আছি, মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই, অনেক চেষ্টা করেও এ স্থানে জমি পাই নাই। যাদের নামে পূর্বে লিজ ছিল তাদের কাউকে লিজ দেওয়া হয় নাই। কৌশল করে প্রভাবশালীরা ভ‚মি দখলে নিয়ে গেছে। তদন্ত করে প্রভাবশালীদের লিজ বাতিল করে আমাদের মতো গরিবদেরকে লিজ দিয়ে বসবাস করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দাবি জানান তারা। স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এর কিছু জানি না। কেবা বা কারা লিজ নিয়ে এসেছে এবং কিভাবে দখল হয়েছে তাও জানি না।

Loading...

Check Also

অগ্নি সন্ত্রাসীদের কেউ ক্ষমতায় দেখতে চায় না : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : একাত্তরের ঘাতক এবং অগ্নি সন্ত্রাসীদের নতুন করে আর কেউ ক্ষমতায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *