Breaking News
Home / জেলার খবর / বুলবুলের তাণ্ডবে বাগেরহাটে ভেসে গেছে ৭ হাজার মাছের ঘের

বুলবুলের তাণ্ডবে বাগেরহাটে ভেসে গেছে ৭ হাজার মাছের ঘের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাট জেলার ৮০ ভাগ মানুষই চিংড়ি চাষের সাথে জড়িত। উপকূলীয় এ জেলা সাদাসোনাখ্যাত চিংড়ির জন্য সুপরিচিত। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে গত শনিবার মধ্যরাতে এ জেলার সাত হাজারের বেশি মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’ বাগেরহাটের ৭৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬২টিতে কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগ কবলিত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৩২ হাজার। ঝড়ে এই জেলায় ৩৫ হাজার ৭৭৫টি ঘরবাড়ি আংশিক এবং আট হাজার ৭৮৮টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।

সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা গ্রামের শেখ সেলিম পাঁচ বিঘা জমিতে ধারদেনা করে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় করে ঘেরে বাগদা, গলদা ও সাদা মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ের অবিরাম বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে মাছের ঘের তলিয়ে গলদা চিংড়ি ও সাদা মাছ বের হয়ে গেছে।

চিংড়ি বিক্রি করেছি তবে এখনো আসল টাকাই ওঠেনি। এখন আমি সর্বশান্ত। এই ক্ষতি কী করে পোষাব বুঝতে পারছি না।

চাষিরা বলছেন, এ জেলার কয়েক হাজার মানুষ মাছ চাষে জড়িত। সব সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আতঙ্কে থাকতে হয়। এছাড়া তো মাছের ভাইরাস রোগসহ নানা সমস্যা লেগেই থাকে।

জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিদুল ইসলাম সুমন অভিযোগ করে বলেন, উপকূলীয় বাগেরহাট জেলা দুর্যোগপ্রবণ একটি জেলা। প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হন এখানকার মাছ চাষিরা। সরকারের মৎস্য বিভাগ দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ঠিকই কিন্তু তাদের কোনো সাহায্য দেয়া হয় না।

বাগেরহাটের মৎস্য বিভাগের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. খালেদ কনক বলেন, এই জেলায় ৭৮ হাজার ৭০৯টি মাছের ঘের রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাগদা ও গলদা চিংড়ির উৎপাদন লক্ষমাত্রা প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিকটন। আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে হয়ে যাওয়া অবিরাম বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানির চাপে জেলার সাত হাজার ২৩২টি মাছের ঘের ভেসে গেছে।

এতে প্রায় তিন কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এই এলাকার চাষিদের। এসব ক্ষতিগ্রস্ত চাষিকে প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ওই কর্মকর্তা।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ তোড়ে সরবরাহ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে বলে মনে করছে জেলার পল্লী বিদ্যুৎ।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে এ জেলার ছয় হাজার ২০০ কিলোমিটার সরবরাহ লাইনের মধ্যে ৮০৫ কিলোমিটার তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়া ২০৫টি খুঁটি ও ১২৩টি ‘ক্রস আর্ম’ ভেঙে গেছে এবং ৫০টি ট্রান্সফর্মার ও ১৫০টি পল্লী বিদ্যুতের মিটার নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

Loading...

Check Also

মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সোনাপুর এলাকায় মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *