Breaking News
Home / সারাবাংলা / বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতির সভা

বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতির সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন, ২০১৩ ও বিধিমালা, ২০১৭ এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সম্পর্কে জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতির এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। খলিলুর রহমান বলেন, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইনে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো যেন সবাই জানে এবং মায়ের দুধের প্রচার, প্রসার ও সহায়তায় সরকারের সদিচ্ছা সে বিষয়গুলো আমাদের সকলকে তুলে ধরতে হবে। আপনাদের মাঝে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। দেশের সকল বিভাগে ওয়ার্কশপের মাধ্যমে মনিটরিং চেকলিস্ট ও মনিটরিং পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অচিরেই ঢাকায় একটি মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে সকল পর্যায়ে আইনের বিধি-নিষেধ সম্বলিত পত্র প্রেরণ করা হবে।
সভার মূল বক্তব্য উপস্থাপন কালে বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতির প্রেসিডেন্ট, অধ্যাপক ড. এস কে রায় বলেন, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন, ২০১৩ ও বিধিমালা, ২০১৭ এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো যেন সবাই জানে এবং মায়ের দুধের প্রচার, প্রসার ও সহায়তায় সরকারের সদিচ্ছা আপনাদের মাঝে তুলে ধরাই আমাদের আজকের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন তবে জনগণ, সরকার ও বিভিন্ন মহল যারা এ বিষয়ে কাজ করে থাকেন তাদের কাছে এই আইনের বিধি-নিষেধগুলো সহজে পৌঁছাবে এবং তবেই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য সার্থক হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাইন্ডেশন আইন নিয়ে কাজ করছে এবং বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতিও এখন থেকে নিয়মিত এ বিষয়ে কাজ করে যাবে।
মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য, ইত্যাদির ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে মা-বাবাকে অবহিত করতে ও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এর ধারণপাত্র ও মোড়কে, “শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসকরণের উদ্দেশ্যে, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প গুঁড়া বা প্রক্রিয়াজাত দুধে (চড়ফিবৎবফ ওহভধহঃ ঋড়ৎসঁষধ) থাকতে পারে বলিয়া উহা উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রস্তুত করিতে হইবে” শীর্ষক বিবরণ মুদ্রিত থাকতে হবে।
আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কোন মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন পায় নাই। যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধান লংঘন করেন, তা হলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন বৎসর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডত হবেন। কোন শিশু অসুস্থ হলে বা মৃত্যুবরণ করলে তা হবে আইনের অধীন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত গুঁড়াদুধ, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য বা উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদির প্রস্তুতকৃত কোম্পানি ১০ বৎসর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর পরিবারকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতির উদ্যোগে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) এর সহায়তায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদপত্র হতে প্রায় ৪০ জন সাংবাদিকগণের অংশগ্রহণে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন, ২০১৩ ও বিধিমালা, ২০১৭’ বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতির সভাপতি, অধ্যাপক ড. এস কে রায়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতি এর কোষাধক্ষ্য মো. ইসহাক আলী এবং সহ সাধারণ সম্পাদক জনাব খুরশীদ জাহান।
বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতির প্রেসিডেন্ট, অধ্যাপক ড. এস কে রায় আইন ও বিধিমালা অনুসারে উল্লেখযোগ্য বিধি নিষেধসমূহ উপস্থাপন করেন- মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য বা উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদির আমদানি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, বিপণন, বিক্রয় বা বিতরণের বিষয়ে-কোনো আমদানিকারী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকারী, বিপণনকারী, বিক্রয় বা বিতরণকারী বা কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন মুদ্রণ, প্রদর্শন, প্রচার বা প্রকাশ বা অনুরূপ কোনো কাজ করতে পারবে না; কোনো ধরনের জনসচেতনতামূলক কাজ করতে পারবে না; স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য, পুষ্টি বা শিক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি, ছাত্রছাত্রী বা তাহাদের পরিবারের কোনো সদস্যের নিকট কোনো লিফলেট, হ্যান্ডবিল বা অনুরূপ কোনো দলিল, আর্থিক প্রলোভন বা অন্য কোন উপহার বিতরণ করতে পারবে না; কোনো সেমিনার, কনফারেন্স, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক সভা, শিক্ষা সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানসহ উচ্চ শিক্ষায় বা কোনো গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধা প্রদান করতে পারবে না;
শিশুর জীবন রক্ষা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে একান্তভাবে অপরিহার্য বিবেচিত হলে (সকল উপায় অবলম্বন এবং চেষ্টা করার পরও মায়ের দুধ পাওয়া না গেলে), কেবলমাত্র নিবন্ধিত ও রেজিস্টারভুক্ত কোনো মেডিকেল চিকিৎসক, উপযুক্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্যের কোনো ব্যবস্থাপত্র প্রদানসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন। শিশুর বয়স ৬ মাসের পর থেকেই সে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি বিভিন্ন বাড়তি খাবার খেতে পারে। এ সময় শুধুমাত্র ব্যবসায়িক চিন্তা ভাবনা থেকেই মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্যের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে বলা হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের সংখ্যা কত এবং কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? এর উত্তরে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাইন্ডেশন সারাদেশে ৮টি বিভাগে ৩২ জন কর্মকর্তার মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মনিটরিং এর ফলাফল জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা পূর্বক আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Loading...

Check Also

ভোলায় ট্রলারডুবি: এখনো নিখোঁজ ১৩ জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ২৪ জেলের মধ্যে এখনো ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *