Breaking News
Home / জেলার খবর / টাকা ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট

টাকা ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে
দালাল ছাড়া পাসপোর্ট হয় না কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। প্রত্যেক দালালের জন্য আলাদা আলাদা করে আদ্যাক্ষর দিয়ে সংকেত দেয়া হয় ফাইলে। দিন শেষে ফাইল হিসাব করে টাকা দিতে হয় অফিসকে। এমন অভিযোগ অসংখ্য। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে। দালাল ছাড়া পাসপোর্ট নানা ভুল আবিষ্কার, হয়রানি করা হয়। আর দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করলে এসব ঝামেলা পোহাতে হয় না। ভুল তারাই ঠিক করে নেন।
সরজমিন দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে টাকা ছাড়া সেবা অচল। সাধারণ কোনো মানুষ দালাল ছাড়া আবেদন জমা দিতে গেলে ভুল হয়েছে বাহানায় ফেরত দেয়া হয়। ফরম পূরণ থেকে জমা দেয়া ও পাসপোর্ট গ্রহণ সবই করেন দালালরা। সত্যায়ন-পুলিশ ভেরিফিকেশন, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই এবং তথ্যের সঠিকতা নিরূপণে সত্যায়িত করার কাজটিও করছেন তারাই। ফলে দালাল ছাড়া সাধারণ আবেদন প্রার্থীরা যেন বড়ই অসহায়। বর্তমান সরকার মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সহজেই মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে এ সেবা চালু করলেও খোদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ মদদে কিশোরগঞ্জ ঘটছে উল্টো ঘটনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি ঘিরে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী দালাল সংগঠন। পাসপোর্ট অফিসের সামনেই রাস্তার পাশে টেবিল বসিয়ে প্রকাশ্যে দালালরা পাসপোর্টের কাজ করেছেন। অবশ্য দালাল নেতারা ঘর ভাড়া নিয়ে অফিস খুলে করছেন পাসপোর্টের কাজ। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি পাসপোর্টে নির্দিষ্ট হারে কমিশন গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানের কর্তারা। ফলে পাসপোর্ট পেতে হলে এ সিন্ডিকেটের কাছে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই সাধারণ আবেদনকারীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিস স্টাফ জানান, পত্রিকায় লিখে কোনো লাভ নেই। আপনার মতো অনেক সাংবাদিক এখানে আসে। কিন্তু কোনো কাজ হয় না। সবই দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। মাঝে মধ্যে পুলিশ-র‌্যাব এসে দালালদের দৌড়ায়। কিন্তু পরক্ষণে যেই-সেই অবস্থা। সেবাপ্রার্থী সোহেল জানান, গত জানুয়ারিতে এক দালালের মাধ্যমে সাড়ে ৬ হাজার টাকা চুক্তিতে আবেদন জমা দিয়ে অবশেষে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি। কিন্তু বাড়তি টাকা দিয়েও পাসপোর্ট পেতে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থেকে আসা রুবেল মিয়া জানান, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। পরে বাধ্য হয়ে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়েছি। কারণ কাজ ফেলে পাসপোর্টের পেছনে দৌড়ানোর সুযোগ নেই।
নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলার শাহীন আহম্মেদ জানান, নিজে ব্যাংক ড্রাফট করেছি। কিন্তু অফিসের অবস্থা বুঝে বাধ্য হয়েই উজ্জ্বল নামের এক দালালের মাধ্যমে ৫ হাজার ৬শত টাকা চুক্তি করে আবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু ৩ বার ভুল ধরে আমার আবেদন ফেরত দেয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে আতিক নামের এক দালালের মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা চুক্তি করে আবেদন জমা দিয়েছি। কেউ দালাল ছাড়া আবেদন জমা দিতে পারে না। এসব বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আনিছুর রহমান বলেন, দালাল বলতে কোনো শব্দের সঙ্গে আমি পরিচিত নই। আমার অফিসে কোনো দালাল নেই। দালাল ছাড়া আবেদন জমা হয় না, এটা আপনার কাছে প্রথম শুনলাম। প্রমাণ দিতে পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Loading...

Check Also

পাহাড় কেটে সমতল

ইমরুল হাসান বাবু, টাঙ্গাইল থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অবাধে জমির শ্রেণি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *