Home / অর্থ-বাণিজ্য / মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে দেড় হাজার কোটি টাকা

মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে দেড় হাজার কোটি টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : ব্যয় বাড়ছে মেট্রোরেল প্রকল্পে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে খরচ ১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

ফলে ফাস্টট্র্যাকভুক্ত মেগা এ প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ১ অক্টোবর ব্যয় বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনকে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ অক্টোবর অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় প্রকল্প চলাকালীন প্রয়োজনে মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৫ শতাংশ বাড়াতে পারে। এ বিষয়ে বিধান রয়েছে। মেট্রোরেল প্রকল্পটিতে যে পরিমাণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে তা ৫ শতাংশের কম। তাই বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কোনো আপত্তি নেই। তবে দ্রুত প্রকল্পটি সংশোধন করে এই ব্যয় যুক্ত করার শর্ত দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পটির অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এখন স্টেশনগুলোকে সম্প্রসারণ করাসহ বিভিন্ন কারণে এই বরাদ্দের অতিরিক্ত দেড় হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ খাতে বরাদ্দ রয়েছে এক কোটি টাকা। কিন্তু রেলটি চালু হলে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ বরাদ্দের অতিরিক্ত ৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে সম্মতি দিয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, শর্ত থাকে যে, প্রকল্পটি জরুরি ভিত্তিতে দ্বিতীয় সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সংশোধনীতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি প্রতিফলিত করতে হবে।

সূত্র জানায়, ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ২০২৪ সালে জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। গত জুন মাসে করা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিশেষ উদ্যোগে উত্তরা তৃতীয় পর্ব (দিয়াবাড়ী) থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ২৯ কিলোমিটার চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগারগাঁও থেকে মতিঝিল সিটি সেন্টার পর্যন্ত ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূর্ণ নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি ৮টি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-১ এর আওতায় ডিপো এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ ২০১৮ সালের অক্টোবরেই শতভাগ শেষ হয়েছে। কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-২ এর আওতায় উত্তরার ডিপো এলাকায় ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের অফিস, প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণ ভবন, ওয়ার্কশন, স্টাবলিং শেড, ইয়ার্ড ও অন্যান্য ভবনসহ অন্যান্য কাজের অগ্রগতি হচ্ছে গত মার্চ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ। কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-৩ ও ৪-এর আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভায়াডাক্ট এবং ১১টি স্টেশন নির্মাণ অংশের অগ্রগতি ৩৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ৩৯৩টি পিয়ারের (পিলার) মধ্যে ২৬৪টির নির্মাণ শেষ হয়েছে। স্টেশনের ১০৮টি আই গার্ডারের মধ্যে ৮১টির নির্মাণ কাজ, ভায়াডাক্ট ৫০ শতাংশ এবং পাঁচটি স্পটে সাড়ে তিন কিলোমিটার ভায়াডাক্ট সেগমেন্ট স্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফাস্টট্র্যাক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পে (মেট্রোরেল)। গত জুলাই মাস পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ০৫ শতাংশ। এছাড়া শুরু থেকে এ সময়ের মধ্যে ব্যয় হয়েছে, ৭ হাজার ৬০৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৯টি স্টেশনের কাজ ৫৪ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ৭টি স্টেশনের কাজ ১৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, ইলেকট্রিক অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেমের ১৪ শতাংশ রেলকোচ ও ডিপো ইকুইপমেন্ট ১৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করা একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছে আইএমইডি।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

তুরস্ক ন্যাটোর মূল অংশীদার : জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : তুরস্ক ন্যাটোর মূল অংশীদার বলে জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *