Home / জেলার খবর / নিরাপদ ফসল উৎপাদনে বড় চ্যালেঞ্জ

নিরাপদ ফসল উৎপাদনে বড় চ্যালেঞ্জ

সালাহ উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী থেকে
কোনো খাদ্যই খাদ্য বলে বিবেচিত হয় না, যদি তা নিরাপদ না হয়। বিষাক্ত সবজি একদিকে যেমন পুষ্টির বদলে নানা রকম রোগের সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে বিদেশে রফতানি করার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এখন নিরাপদ ফসল উৎপাদন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার সফলতার একটা চিত্র হলো নোয়াখালীর সুবর্ণচর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরাপদ সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকে উৎসাহিত করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নোয়াখালীর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আমির ফয়সল জানান, কৃষকদের নিরাপদ ফসল উৎপাদনে কম্পোস্ট সার, ফেরোমন ফাঁদ, ব্যাগিং, নেটিং, ম্যাজিক পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন তারা। ফলে শতকারা ৮০ কৃষক স্বাস্থ্যসম্মত সবজি উৎপাদন হচ্ছে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার নিরাপদ সবজি চাষে শতভাগ জৈবপদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে না কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। তাই এসব সবজির দামও যেমন বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা, বাজারে চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। অধিক লাভের আশায় এ বর্ষা মৌসুমেও পরিচর্যা ও বেচাবিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার সবজি চাষিরা। সারা বছর সবজি চাষের মাধ্যমে এক ফসলী জমিকে পরিণত করেছেন তিন ফসলী জমিতে, পেয়েছেন সফলতা। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক, মোহাম্মদপুর, চরবাটা, পূর্বচরবাটা, চরজব্বর, চরজুবলী ইউনিয়নের চার শতাধিক কৃষক প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন করছেন নিরাপদ সবজি। প্রতিটি বাড়িই যেন একটি কৃষি খামার। মাচায় ঝুলছে ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শশা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া আর পানিতে মাছ ও হাঁস। এ ধরণের সমন্বিত সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন উপজেলার অনেক চাষি। উৎপাদন খরচ কম ও দাম বেশি পাওয়ায় এ ধরণের সবজি চাষ চাষিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। তাদের দেখাদেখি উৎসাহিত হচ্ছেন অন্য চাষিরাও। এখানকার উৎপাদিত নিরাপদ সবজিগুলো স্থানীয় ও দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে বিদেশেও রফতানির আশা করছেন তারা।
এখানকার উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি বিক্রিকে কেন্দ্র করে উপজেলার সোলেমান বাজার, কালাদূর বাজার, ভূমিহীন বাজার ও হাতিয়া বাজারসহ বেশ কিছু স্থানীয় পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। প্রতিদিনই বহু দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা ট্রাক বোঝাই করে সবজি কিনে নিয়ে যান। কিন্তু বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা খুব একটা আধুনিক না হওয়ায় চাষিরা তেমন মুনাফা করতে না পারলেও আড়তদার ও বেপারিরা অনেক বেশি লাভ করছেন। সবজি দ্রæত পচনশীল হওয়ায় বাজার মূল্য খারাপ হলেও কৃষকরা তা বিক্রি করতে বাধ্য হন। সারা বছর সবজির উৎপাদন উৎসাহিত করতে হলে, সংরক্ষণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এসব বাজারে পাইকারী দর প্রতি কেজি করলা ৪০, শসা, বরবটি, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা ৩৫ টাকা করে, চালকুমড়া ২০, গ্রীষ্মকালীন টমেটো ৮০, সিম ৫০, পেপে ২০, মিষ্টি কুমড়া ১০ টাকা পাইকারী দরে বিক্রি হলেও জেলা শহর মাইজদীতেই যার দাম প্রায় দ্বিগুণ।
কৃষকরা জানান, সাত/আট বছর থেকে তারা নিরাপদ সবজির আবাদ করছেন। প্রথম দিকে লোকসানও গুণতে হয়েছে অনেক। সরকারিভাবে কোনো ঋণ বা সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা। তবে সাগরিকা নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ণ সংগঠন চাষিদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কৃষি কর্মকর্তা শিবব্রত ভৌমিক জানান, সাগরিকার কৃষি ইউনিটের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদনে সমন্বিত শষ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি আওতায় কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সহযোগিতা করছেন তারা।

Loading...

Check Also

টাকা ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট হয় না কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। প্রত্যেক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *