Home / জেলার খবর / তরমুজ চাষে সফল কৃষক চিত্তরঞ্জন

তরমুজ চাষে সফল কৃষক চিত্তরঞ্জন

খন্দকার সিরাজুম মনিরা শোভা, যশোর থেকে
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ। ৮৪ শতাংশ জমিতে তিনি খরচ বাদে ২ লাখ টাকা লাভবান হয়েছে। কেশবপুর উপজেলার মূলগ্রামের যতীন্দ্র দেবনাথের পূত্র চিত্তরঞ্জন দেবনাথ পেশায় একজন শিক্ষক হলেও তিনি একজন অসাধারণ মেধাবী কৃষক। সব সময় নতুন কোনো চমক দেখাতে চান তিনি। চিত্তরঞ্জন দেবনাথ কৃষি বিভাগের একটি প্রকল্প ন্যাশনাল এগ্রিকালরাচাল টেকনোলজি প্রজেক্ট ফেজ-২ প্রকল্পের (এনএটিপি-২) প্রকল্পের ভোগতি নরেন্দ্রপুর সমবায় সমিতির একজন সদস্য। প্রকল্পের অর্থায়নে ১৯/১২/২০১৭ ও ১১/১১/২০১৮ তারিখে (এনএটিপি-২) প্রকল্পের বর্ষাকালীন বর্ষাকালীন জরমুজ ও বারোমাসি আম চাষ এবং সিআইজি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে যশোর সদর উপজেলায় সরেজমিন তরমুজ চাষ দেখতে যান। সেখান থেকে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। প্রথমে জেসমি-২ ও পরে বস্নাক বেবি জাতের তরমুজের চারা তৈরি করেন এবং ৮৪ শতাংশ জমিতে বৈশাখ মাসের শেষের দিকে রোপণ করেন। তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। তিনি আষাঢ় মাসে ফল সংগ্রহ শুরু করেন। ইতিমধ্যে তিনি ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে আরও লক্ষাধিক টাকার তরমুজ রয়েছে। চিত্তরঞ্জন দেবনাথের বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ দেখে পার্শ্ববর্তী কৃষকরাও বর্ষাকালীন তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তার এই বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। কেশবপুরে বর্ষাকালীন তরমুজ চাষের ক্ষেত দেখার জন্য কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের কৃষকরাও আসছেন।
কৃষক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ বলেন, ৮৪ শতাংশ জমিতে এ আবাদ করা হয়েছে। প্রথম আবাদ করায় কিছু সমস্যা হলেও ফলন ধরেছে ভালো। প্রতিকেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি কৃষি বিভাগের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্ট ফেজ-২ প্রকল্পের (এনএটিপি-২) সমবায় সমিতির একজন সদস্য। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি বর্ষাকালীন তরমুজ চাষে আগ্রহী হন। দুই বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তিনি ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন এবং ক্ষেতেও ১ লাখ টাকার তরমুজ রয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের কারণে তিনি বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। এ কাজে তার ছেলে চিন্ময় দেবনাথ সহযোগিতা করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, চিত্তরঞ্জন দেবনাথ শিক্ষক হলেও তিনি একজন মেধাবী কৃষক। কৃষিতে লাভজনক পেশার রূপান্তরের জন্য তার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তার ক্ষেতে যেভাবে ফলন ধরেছে তাতে প্রায় তিন লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে প্রযুক্তিগত পরামর্শসহ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করে অন্য কৃষকদেরও এ চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তুলছেন।

Loading...

Check Also

টাকা ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট হয় না কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। প্রত্যেক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *