Home / অর্থ-বাণিজ্য / ক্যাসিনোর উপকরণ আমদানি, এলসি খোলায় নিয়ম মানেনি ব্যাংকগুলো

ক্যাসিনোর উপকরণ আমদানি, এলসি খোলায় নিয়ম মানেনি ব্যাংকগুলো

অর্থনীতি ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : ক্যাসিনো বা জুয়া খেলার উপকরণ আমদানির জন্য এলসি খোলার সময় প্রচলিত নিয়ম মানেনি সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। একই সঙ্গে কাস্টম হাউসগুলো আমদানি করা পণ্য ছাড় করার সময় প্রচলিত আইনের প্রয়োগ করেনি। আইন প্রয়োগে শিথিলতার সুযোগ নিয়ে অনেকটা অবাধেই আমদানি হয়েছে বেআইনি ক্যাসিনোর উপকরণ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পাবলিক গ্যামলিং আইন অনুযায়ী দেশে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ। ক্যাসিনো এক ধরনের আধুনিক জুয়া। প্রচলিত আইন অনুযায়ী ক্যাসিনো নিষিদ্ধ। তারপরও বিশেষ প্রয়োজনে সরকার বিদেশিদের জন্য ক্যাসিনো পরিচালনার লাইসেন্স দিতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী মদ বিক্রি ও পানও নিষিদ্ধ। তারপরও মদ বিক্রি বা মদপানের লাইসেন্স দেয়া হলেও ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নীতিমালাও নেই। ফলে দেশের যেসব স্থানে ক্যাসিনো পরিচালিত হচ্ছে তার পুরোটাই বেআইনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আমদানিনীতিতে আমদানি নিষিদ্ধ ও আমদানি নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকা রয়েছে। কিন্তু ওই তালিকায় ক্যাসিনো বা সমজাতীয় পণ্য আমদানি করা যাবে না এমন কোনো নাম নেই। ফলে খেলার সামগ্রীর নামে বা সরাসরি ক্যাসিনোর উপকরণের নামে এসব পণ্য আমদানি হয়েছে।

এদিকে আমদানিনীতি অনুযায়ী যে ধরনের ব্যবসার কোনো বৈধতা দেশে নেই, ওই ধরনের ব্যবসার উপকরণ আমদানিরও কোনো বৈধতা নেই। যেহেতু ক্যাসিনো ব্যবসার কোনো বৈধতা নেই, সেহেতু ক্যাসিনোর উপকরণ আমদানি করাও অবৈধ। এছাড়া আমদানিনীতিতে বলা আছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয় এমন কোনো পণ্য আমদানি করা যাবে না। ক্যাসিনো বা জুয়া যেহেতু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়, সে কারণে এ ধরনের পণ্য আমদানি করা যাবে না।

ব্যাংকগুলোর সূত্র জানায়, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো পণ্যের এলসি খোলার সময় পণ্যের নাম, এর শনাক্তকরণ নম্বর, কি কাজে ব্যবহার হবে এসব তথ্য উল্লেখ করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্যাসিনোতে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, খেলাধুলার উপকরণ, বাণিজ্যিকভাবে আমদানি হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের খেলার উপকরণের আড়ালে বেআইনিভাবে ক্যাসিনোর সামগ্রী আমদানি করেছে। চারটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসিনোর নামেই সরাসরি এর উপকরণ আমদানি করেছে। এগুলো হচ্ছে, পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ, এ থ্রি এন্টারপ্রাইজ, নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও এএম ইসলাম অ্যান্ড সন্স। তারা বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকে এসব এলসি খুলেছে। এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তারা যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না। যে কারণে আমদানিকারক ক্যাসিনোর নামেই পণ্য আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে পণ্য দেশে আসার পর কাস্টমস এলসি ও পণ্যের চালান মিলিয়ে ছাড় করে। এক্ষেত্রে যেসব এলসিতে ক্যাসিনো খেলা ছিল সেগুলোর পণ্য ছাড় করার কথা নয়। কিন্তু তারপরও তারা ছাড় করেছে। এক্ষেত্রে তারা আইনের প্রয়োগ করেনি।

এদিকে সম্প্রতি এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, কাস্টমস পণ্য খালাসের সময় আগে দেখে আমদানিনীতিতে কী আছে। সেখানে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আছে কিনা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন নিষিদ্ধ কোনো পণ্য আছে কিনা, এমন পণ্য থাকলে তারা ছাড় করে না। এর বাইরে অন্য পণ্য থাকলে ছাড় করে দেয়। কিন্তু আমদানি নীতিতে সুনির্দিষ্টভাবে ক্যাসিনোর পণ্য আমদানি করা যাবে না এমন কোনো কথা বলা নেই। ক্যাসিনো যে দেশে আছে এটাই তো কল্পনার বাইরে ছিল। ফলে কাস্টমসের অজান্তেই এসব পণ্য দেশে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে সীমিত আকারে কিছু হোটেল ও ক্লাবে মদ-বিয়ার বিক্রি ও আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ জাতীয় পণ্যের আমদানিতে উচ্চ শুল্ক-কর আরোপিত আছে। কিন্তু জুয়ার ব্যাপারটি বৈধ নয়। এখন বিভিন্ন ক্লাবের নামে ক্যাসিনো চালানোর বিষয়টি সত্যি কথা বলতে জানতামই না। এগুলোতে কীভাবে যন্ত্রপাতি (জুয়া খেলার সামগ্রী) এসেছে সেটা খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা।

এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা বেআইনিভাবে বা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ক্যাসিনোর উপকর আমদানি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, যারা ক্যাসিনোর নামে পণ্য আমদানির এলসি খুলেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

ভোলার ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে রঙ ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : ভোলার ঘটনা নিয়ে শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রঙ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *