Home / জেলার খবর / সিদ্ধিরগঞ্জে থামছে না আশরাফের চোরাই তেল ব্যবসা

সিদ্ধিরগঞ্জে থামছে না আশরাফের চোরাই তেল ব্যবসা

এম আসলাম, নারায়ণগঞ্জ থেকে
নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল এসও রোড এলাকায় অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো গোদনাইল শাখার শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি মোঃ আশরাফ উদ্দিন। তিনি গোদনাইল এসও এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে। বর্তমানে আশরাফ উদ্দিন অন্য একজনের মালিকানাধীন মেসার্স শরিফুল টেডার্সের নামে চালান তৈরি করে মেঘনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করে বাহিরে ব্যবসা করছে।
শরিফুল ট্রেডার্স পরিচালনা করার জন্য আশরাফ এটি ভাড়া চালায়। দীর্ঘদিন ধরে এই শরিফুল ট্রেডার্সের মাধ্যমেই ডিপোর ইনচার্জ ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফ উদ্দিনের যোগসাজেসে চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে করে আসা চোরাই তেল ডিপোতে তুলে এবং তা শরিফুল ট্রেডার্সের নামে ২ হাজার, ৩ হাজার লিটার চালান করে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০টি ট্যাংকলরী করে ৯ হাজার লিটার তেল ডিপো থেকে পাচার করতো। এই চোরাই কারবারে ডিপোর ইনচার্জ খান নিজামুল করিম ও আশরাফ এই দুই জনে মিলে শরিফুল ট্রেডার্সের নামে ছোট ছোট চালান তৈরি করে ওই তেল বাহিরে বিক্রয় করতো। এতে করে দুইজনে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার তেল ডিপো থেকে পাচার করে।তারা এই পাচারকৃত তেল মেসার্স আলবি ট্রেডার্স- নামক চালানে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন কারখানায় সরবরাহ করতো।
গোপন সুত্রে জান যায়, আশরাফসহ তার সহযোগীরা মিলে প্রতিদিন শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তেলবাহি জাহাজ থেকে রাতের আধারে তেল পাচার করে । কিছুদিন পূর্বে তেল পাচারকালীন সময় আশরাফ হাতেনাতে ধরা পড়ে কিন্তু অবাক করা কান্ড হলো রাতের অন্ধকারেই নিজের মত করে সাজিয়ে টাকার মাধ্যমে সকল অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয় তিনি। ফলে আড়ালেই থেকে যায় তার চোরাই তেল ব্যবসা। এমন অবস্থায় সে পূনরায় তার এই চোরাই তেল ব্যবসা পূর্বের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ভাবে পরিচালনা করতে থাকে। যা পুলিশ, র‌্যাব আইন প্রশাসনের কাছে আজও অধরা। কিন্তু কেন আশ্রাফ আইনের কাছে অধরা, এর পিছনে কোনো শক্তিশালী হাত রয়েছে জনমনে এই প্রশ্ন?
যদদিন গড়াচ্ছে তার এই চ্রোাই তেলের ব্যবসার গতিবিধি আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুমাত্র এই এক শরিফুল ট্রেডার্সের জন্য অন্যান্য ছোট ছোট তেল ব্যবসায়ীরা হুমকির মুখে পড়ছে। যেখানে একটি পাম্পের মালিক প্রতিদিন এক গাড়ি তেল বিক্রি করতে হিমশিম খায় সেখানে সামান্য এজেন্সি শরিফূল ট্রেডার্স কীভাবে এই হাজার হাজার লিটার তেল বিক্রি করে এই প্রশ্ন থেকেই যায়।
জানা যায়, এক সময় মোঃ আশবাফ উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, রনি, মহিউদ্দিন একসাথে বিএনপি’র নেতা সামসু পুলিশের সহযোগি হিসেবে কাজ করতেন। আর এই পুলিশের ছত্রছায়ায় তারা বিভিন্ন কাজ ক্ষমতার বলে করতো। বর্তমানে তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী নেই কারন তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় ২০১৪ সালের পর মেঘনা ডিপোর দায়িত্ব নিয়েই ডিপোর ইনচার্জ খান নিজামুল করিমের সাথে যোগসাজেসে অনিয়ম করে তেল পাচার করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে মোঃ আশরাফ উদ্দিন। তার মাধ্যমেই জেলার বিভিন্ন মহলে প্রতি মাসে একটি মোটা অংকের টাকা দেওয়া হতো।
এ প্রসঙ্গে এলাকাবাসী জানায়, আজ থেকে দশ বছর আগেও এত টাকার মালিক ছিলোনা আশরাফ। এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। তার এই টাকার উৎস কোথা থেকে এসেছে তা অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর প্রতি আহ্বান করেছে এলাকাবাসী। পাশাপাশি তার এই তেল চোরাই কারবারি বন্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুনঅর রশিদ (বিপিএম বার, পিপিএম বার) এর দৃষ্টি আকর্ষন করছেন এলাকাবাসী। আশরাফ তার নিজের এই অপকর্ম এড়িয়ে যেতে এবং তা ধামাচাপা দিতে বর্তমানে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমের সরনাপন্ন হচ্ছে।

Loading...

Check Also

শ্রীপুরে বন্দুকযুদ্ধে যুবক নিহত

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাসুদ পারভজ ওরফে পারভেজ (৩৩) ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *