Home / জাতীয় / মিয়ানমারের পর এবার ভারত থেকেও আসছে ইয়াবার চালান

মিয়ানমারের পর এবার ভারত থেকেও আসছে ইয়াবার চালান

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযান আর নজরদারির কারণে শুধু মিয়ানমার নয়, এবার নতুন রুট হিসেবে ভারত থেকেও ইয়াবার চালান আসতে শুরু করেছে মাদক কারবারিরা। আর এক্ষেত্রে পাচারকারীরা ব্যবহার করছে আসাম-রৌমারী-ঢাকা রুট। রাজধানীর রামপুরা থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক ভারতীয় নাগরিকসহ তিনজনকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের। পুলিশ বলছে, মিয়ানমার সীমান্তে কড়াকড়ির কারণেই ভারত হয়ে এই মাদক আনা হচ্ছে ঢাকায়। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, বলছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ২০১৭ সাল থেকে ইয়াবাসহ সকল মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরুর পর টেকনাফ কক্সবাজারে ইয়াবার প্রচলিত রুট বদলে ফেলেছে মাদক কারবারীরা- এমন ধারণা করছিলেন তারা। কারণ বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে কড়া নজরদারির পরও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ধরা পড়ছিলো ইয়াবার বড় বড় চালান। অবশেষে সত্যি হলো ধারণা।
রাজধানীর রামপুরা থেকে আব্দুস সবুর নামে ভারতের আসামের কুকুরমারা গ্রামের এক নাগরিকসহ তিনজনকে গ্রেফতারের পর ইয়াবা বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার দাবি গোয়েন্দা পুলিশের। তারা বলছে, সবুর কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার বেশকটি চালান বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশে তা গ্রহণ করেছে জাকির হোসেন। এবারে সে বাংলাদেশে আসে মূলত ইয়াবার বাজার যাচাই করতে। এক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়েই মানিকচর-রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসে। প্রতি পিস ইয়াবা আব্দুস সবুর ভারতে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় কেনে এবং বাংলাদেশি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ৬৫ টাকায় বিক্রি করে। ইয়াবা পাচারকারী একজন বলেন, আমি জাকিরের বাসায় থাকতাম। সেখানে বসে এই ট্যাবলেটের ব্যবসা করতাম।
ইয়াবা পাচারের এই নতুন পথ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও। প্রয়োজনে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হবে বলেও জানায় পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, এটা অবশ্যই আশঙ্কার বিষয়। আমাদের সীমান্তের যে বাহিনীরা আছেন তারা অবশ্যই সতর্ক হবেন। এছাড়া আমরাও মেসেজ আদান-প্রদান করবো।
অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন জানান, একদিকে কড়াকড়ি হলে অপরাধীরা অন্য পথ খুঁজে নেবে এটাই স্বাভাবিক। তাই এ ব্যাপারে নজরদারি জোরদার করা উচিত এখনই। তিনি জানান, শুধুমাত্র এক জায়গায় নজরদারী বাড়ালে হবে না। যতগুলো সীমান্ত পথ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে জল-স্থল ও আকাশ পথেও নজরদারী বারাতে হবে। বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়নে সকল ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করলেই মাদকের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্তি দেয়া সম্ভব বলে জানান অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।

Loading...

Check Also

ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান শুরু করবে পুলিশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীতে অবৈধ জুয়ার আড্ডা, ক্যাসিনো বন্ধে র‌্যাব অভিযান শুরু করেছে পুলিশও করবে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *