Home / জাতীয় / ছেলে ধরা সন্দেহে আটক যুবককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ!

ছেলে ধরা সন্দেহে আটক যুবককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ছেলে ধরা সন্দেহে আব্দুল আজিজ নামে আটক এক যুবককে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঈদের ছুটিতে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের রহমতবাগ এলাকার ১ নং গলির হাজী শাহ আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ বলছে, এ ব্যাপারে ভিকটিকের কোন পরিবার অভিযোগ না করায় মুচলেকা রেখে ওই যুবককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকালে হাজী শাহ আলমের বাড়ির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটের ভড়াটিয়া বাসিন্দা হারুনের ছোটভাই মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুল আজিজ কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহীম নগর বালুঘাটস্থ ইমান আলীর গলি থেকে শিশু রাহাত (৮) আরাফাত (৮) ও ওসাকা (৭) এবং লালবাগের আমলিগোলা বালু মাঠের ঢাল থেকে ৭ বছরের হিন্দু সম্প্রদায়ের অপর এক শিশুসহ ৪ শিশুকে কাজ করানো ও খাওয়ানোর কথা বলে ফুসলিয়ে ডেকে তার ভাই হারুনের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ৪ শিশুকে আটকে রেখে দেয়। এরপর ওইদিন জোহরের নামাজের সময় আব্দুল আজিজ শিশুদের রুমে রেখে বাথরুমে যায়। এ সুযোগে রাহাত, আরাফাত ও ওসাকা ঘরের মোড়া টেনে দরজার ছিটকিনি খুলে পালিয়ে যায়। এরপর শিশুরা তাদের মা-বাবাকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে ওই শিশুসহ তাদের অভিভাবকরা এবং স্থানীয়রা ওই বাসায় জড়ো হয়। পরে বিষয়টি বাড়ির মালিক হাজী শাহ আলমকে জানায়। বাড়িওয়ালা ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া মীর আলীকে হারুন বা তার ভাই আব্দুল আজিজ আসা মাত্র তাকে খবর জানাতে বলেন। ততক্ষণে প্রায় ৫শ’ লোক ছেলে ধরা সন্দেহে আব্দুল আজিজকে ধরতে বাড়ির আশপাশে ভিড় করেন। ঘটনার একপর্যায়ে বিকেল পৌনে ৪টা আব্দুল আজিজ বাসায় এলে প্রতিবেশী মীর আলী বাড়িওয়ালাকে জানায়। পরে হাজী শাহ আলম ওই বাসায় ঢুকে আরো এক শিশুকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পায়। কান্নার কারণ জানতে চাইলে ওই শিশু হাজী শাহ আলমকে জানায়- খাওয়ানোর প্রলোভণ দেখিয়ে তাকে বাসায় এনে আটকে রেখেছেন আব্দুল আজিজ। এসময় উত্তেজিত জনতা আব্দুল আজিজকে বাড়ি থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে হাজী শাহআলম ফাঁড়ি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ফাঁড়ির এসআই মোস্তফা ও কনস্টেবল রবিউল ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পরিস্থিতির অবনতি দেখে এসআই মোস্তফা বিষয়টি থানায় জানান। পরে এসআই সোহাগসহ সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে ওই বাসায় ঢুকে পালিয়ে যাওয়া ৩ শিশুসহ ছেলে ধরা সন্দেহে জনতার হাতে আটক আব্দুল আজিজকে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চেষ্টা তদবীর চালিয়ে বড় ভাই হারুন থানা থেকেই আব্দুল আজিজকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী শাহ আলম, মোহাম্মদ আলী, আমীর হোসেন, আনছার নাসির, আফিয়া, অপু, মীর আলী ও শাহাবুদ্দিনসহ ৩ শিশুর অভিভাবক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন, বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ ৩ শিশুর বক্তব্য শুনে ছেলে ধরা সন্দেহে আটক যুবক আব্দুল আজিজকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাবু কুমার সাহা জানান, মামলা করলে ৩ শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটকে রাখতে হবে এবং আদালতে পাঠিয়ে জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। এমন বার্তা দিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই মর্মে একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর রেখে ৩ শিশুসহ ৪ শিশুকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। মধ্যরাতে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজকে তার ভাই হারুন ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের নিকট হস্তান্তর করে থানা থেকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুর অভিভাবকসহ স্থানীয়রা। আজ বুধবার এ রিপোর্ট লেখাপর্যন্ত থানায় যোগাযোগ করা হলে পরিদর্শক (তদন্ত) বাবু কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, পালিয়ে যাওয়া ৩ শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে কেউ কোন মামলা বা লিখিত অভিযোগ না করায় মুচলেকা রেখে তার ভাই ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা প্রতিদিনকে জানান, ছেলে ধরা সন্দেহে আব্দুল আজিজকে থানায় আনা হলেও কেউ কোন অভিযোগ না করায় ছেড়ে দেয়া হয়। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি মশিউর রহমান।

Loading...

Check Also

বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আ.লীগে যোগ দিতে যোগাযোগ করছেন: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা দল ত্যাগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন এবং তারা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *