Breaking News
Home / অর্থ-বাণিজ্য / ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ কমেছে

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ কমেছে

অর্থনীতি ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : গ্রামের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গেছে। একদিকে এসব খাতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে কম, অন্যদিকে আগে বিতরণ করা ঋণ থেকে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

এতে একদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নতুন করে টাকার প্রবাহ কম যাচ্ছে। অন্যদিকে আগে বিনিয়োগ করা টাকার প্রবাহ বেশি হারে উঠে আসছে। ফলে সার্বিকভাবে গ্রামের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোয় টাকার প্রবাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রামের অপ্রাতিষ্ঠানকি খাত বলতে অতি ক্ষুদ্র ব্যবসা, যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন নেই, ক্ষুদ্র দোকানপাট, ছোট ছোট গ্রামীণ কুটিরশিল্পের উৎপাদন। এসব খাতে ব্যাংকগুলো বিশেষ ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ করে। এর মাধ্যমে গ্রামে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হয়।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে গ্রামের এসব খাতে টাকার প্রবাহ কমলেও এনজিও এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকার প্রবাহ বেড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে এসব খাতে ঋণের প্রবাহ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত এই ১১ মাসে পল্লী এলাকার এসব খাতে ঋণপ্রবাহ তো বাড়েইনি, উল্টো আরও কমেছে। একই সঙ্গে আগে বিতরণ করা ঋণের মধ্য থেকে আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে গ্রামের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন ঋণের জোগান যাচ্ছে কম, কিন্তু আগে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ থেকে ফেরত আসছে বেশি। এতে ওইসব খাতে টাকার প্রবাহ কমে যাচ্ছে।

সদ্যবিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে পল্লী এলাকার অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা, যা আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কম। এদিকে বিদায়ী অর্থবছরে আগের বিতরণ করা ঋণের মধ্য থেকে আদায় করা হয়েছে ৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গ্রামে টাকা যাওয়ার চেয়ে আসছে বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও আগের অর্থবছরের চেয়ে গ্রামে ঋণপ্রবাহ কমেছিল।

এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে এসব খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে কম অর্থ বিতরণ করা হয়েছে সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে। আলোচ্য অর্থবছরে এসব খাত থেকে আদায় করা হয়েছে ৪ হাজার ২৫ কোটি টাকা। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের চেয়ে সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে বেশি অর্থ আদায় হয়েছে।

এদিকে কৃষি বিতরণের হার সামান্য বেড়েছে, আদায় কমেছে। পলে এ খাতে গ্রামে টাকার প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ৫ দশমকি ৬৮ শতাংশ। একই সময়ে আদায় বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছিল প্রায় ৫ শতাংশ। আদায় বেড়েছিল ১৯ শতাংশের বেশি। ফলে এসব খাতে কৃষিঋণের প্রবাহ বেড়েছে।

তবে কৃষিঋণের একটি বড় অংশ যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ফার্ম ও শিল্পগুলোয়। কৃষি খাতের খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশই রয়েছে এসব খাতে।

বিদায়ী অর্থবছরে কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতায় এ খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

মে পর্যন্ত কৃষি খাতে বিতরণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসহ বিতরণের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। জুনে বিতরণ করা ঋণের তথ্যসহ মোট বিতরণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

আমাজনে আগুন, বাণিজ্য চুক্তি বন্ধের হুমকি ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : আমাজন বনের আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে, দক্ষিণ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *