Home / জেলার খবর / গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্রী মরিয়ম সুলতানা মুন্নিকে ভুল ইনজেকশন প্রদানকারী নার্স শাহনাজ ও কর্তব্যরত চিকিৎসক তপন কুমার মন্ডলের স্থায়ী চাকুরিচ্যুতসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই মানববন্ধনে অংশ নেয়। এদিন শিক্ষার্থীরা ‘জবাব চাই জবাব দাও’, ‘কসাই নার্সের বিচার চাই’,‘আমরা বাঁচতে চাই’- লেখা সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানায়। এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার বিচার সহ চারদফা দাবিতে আজ মানববন্ধন করছি এবং আমাদের দাবি সমূহ মেনে নেয়া না হলে পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।’ সমাজবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা একটি সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে। শুধুমাত্র অবহেলার কারণে মুন্নি আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে এটা সাধারণ ঘটনা। তাদের মতে এমনটি ঘটতেই পারে! হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে আমরা লজ্জিত। আমরা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের চার দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা দিয়েছেন এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে ৪৮ ঘন্টায়ও জ্ঞান ফেরেনি মুন্নির। বড় ভাই হাসিবুল হাসান জানিয়েছেন, ‘মুন্নির শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, চিকিৎসক বলেছেন ৭২ ঘন্টার আগে কিছুই বলা যাবে না।’ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ড.ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাক্সিক্ষত। আশা করি মেয়েটি দ্রম্নত সুস্থ হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে ড.মাসুদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। ওই নার্স দোষী সাব্যস্ত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রসঙ্গত, পিত্তথলিতে পাথর জনিত কারণে মুন্নিকে গোপালগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার তপন কুমার মন্ডলের কাছে দেখানো হয়। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ওই শিক্ষার্থীর অপারেশন করার দিন ধার্য ছিল। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের নার্স ওই ছাত্রীকে গ্যাসের ইনজেকশনের পরিবর্তে ভুল করে অজ্ঞান করার ইনজেকশন দিয়ে দেন। অন্যদিকে, এ ঘটনায় মুন্নীর চাচা জাকির হোসেন বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ডাঃ তপন কুমার মন্ডল ও দুই নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকাকে আসামী করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ দাখিল করেন।

Loading...

Check Also

কিশোরীকে বিক্রি মামলায় মুন্সীগঞ্জে একজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : মুন্সীগঞ্জে এক কিশোরীকে ফুসলিয়ে নিয়ে বিক্রি করার অপরাধে সোমবার দুপুরে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *