Home / আন্তর্জাতিক / নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলার নিন্দা সেই ফরাসি লেখকের

নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলার নিন্দা সেই ফরাসি লেখকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রীতিমতো ঘোষণা দিয়েই নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি করে ৪৯ মুসল্লিকে হত্যা করে অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। হামলার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ৭৪ পৃষ্ঠার ইশতেহারও প্রকাশ করে ২৮ বছরের ওই উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী অসি নাগরিক। সেই ইশতেহারের শিরোনাম ছিল ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট।’ এটি মূলত একটি মুসলিমবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, যার জনক জঁ রেঁনো ক্যামু। তবে ১৫ মার্চের ওই নারকীয় তাণ্ডবে দুনিয়াজুড়ে যখন সমালোচনার ঢেউ উঠে তাতে শামিল হন খোদ এই তত্ত্বের জনকও। মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর এই হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট তত্ত্বের জনক জনক জঁ রেঁনো ক্যামু মনে করেন, ইউরোপের জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে অভিবাসীরা। তবে নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে নৃশংসতা চালানো খুনির ইশতেহারের নিন্দা জানিয়ে এই লেখক দাবি করেছেন, তার তত্ত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েই কেউ একজন এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে যা নিন্দনীয়।
জঁ রেঁনো ক্যামু’র ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ তত্ত্বটি প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। ৭২ বছরের ক্যামু ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ অহিংস’। তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া ২৮ বছরের অস্ট্রেলীয় সন্দেহভাজন ‘ভয়ঙ্কর, অপরাধমূলক, বিপর্যয়কর ও নির্বোধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ সংঘটন করেছে।

জঁ রেঁনো ক্যামু বলেন, সে যদি ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ শিরোনামের পুস্তিকা লিখে থাকে, তবে সেটি একটি ভয়ানক চৌর্যবৃত্তি। তীব্র মুসলিমবিদ্বেষী জঁ রেঁনো ক্যামু লেখালেখির বাইরে সমকামী অধিকারের পক্ষেও সরব। ২০১৫ সালে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানোর দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। দুনিয়ার নানা দেশে উগ্র ডানপন্থীরা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াতে তার মতবাদ ব্যবহার করে থাকে। তাদের দাবি, পশ্চিমা দুনিয়ায় রাজনীতিবিদ ও কর্পোরেট নেতাদের ছত্রছায়ায় স্থানীয়দের স্থান দখল করছে অভিবাসীরা। এভাবে করে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লুটতরাজ করছে। অনেক শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীরা মনে করেন অশ্বেতাঙ্গরা তাদের দেশগুলো দখল করে নিচ্ছে। একই মত নিউ জিল্যান্ডের হামলাকারীরও।
প্রতিশোধের বার্তা দিয়ে মুসলিমদের উদ্দেশে নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের খুনি ব্রেন্টন ট্যারান্ট বলেছে, এই হামলা চালানো হয়েছে এটা দেখানোর জন্য যে, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন শ্বেতাঙ্গও বেঁচে আছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দেশ আমাদেরই (শ্বেতাঙ্গদের) থাকবে। আমাদের দেশ কখনোই তাদের (অভিবাসী মুসলিমদের) হবে না। তারা কখনও আমাদের ভূমি দখল করতে পারবে না।

Loading...

Check Also

আবারও বোমায় কেঁপে উঠলো শ্রীলঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ২৩ এপ্রিল : রোববারের ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলা ও ২৯০ নিহতের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *