Home / নারী ও শিশু / বাংলাদেশি নারীর আফ্রিকা দর্শন

বাংলাদেশি নারীর আফ্রিকা দর্শন

ডেস্ক রিপোর্ট

নাজমুন নাহার তার বিশ্ব ভ্রমণে আপাতত বিরতি দিয়ে ফিরছিলেন সুইডেনে নিজের বাড়িতে। পথে কয়েকদিনের জন্যে থামলেন লন্ডনে। এবার যখন বিবিসির স্টুডিওতে এলেন, আগের বারের চেয়ে তাকে দেখতে লাগছিল কিছুটা অন্যরকম – গায়ের রঙে রোদে-পোড়া ছোপ লেগেছে, হেয়ার স্টাইলও একেবারে নতুন।
আফ্রিকান নারীদের মতো তিনি কোঁকড়ানো চুলের বেণী করেছেন মাথায়।
নানান রঙের কাপড়ের তৈরি পোশাক আর চুলের স্টাইলেই তিনি জানিয়ে দিচ্ছেন এবার তিনি ঘুরে এসেছেন আফ্রিকায়।
গত তিন মাস ধরে পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশে ভ্রমণ করেছেন বাংলাদেশী পর্যটক নাজমুন নাহার। এর আগে যখন বিবিসিতে এসেছিলেন তখনও পর্যন্ত তার দেখা ছিল ১১০টি দেশ। এবার পশ্চিম আফ্রিকায় সাহারা মরুভূমির আশেপাশের এই দেশগুলো যোগ করার পর তার ভ্রমণ করা মোট দেশের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৫।
যেখানেই গেছেন তিনি, সাথে করে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের পতাকা। কোন বাংলাদেশী নারীর বিশ্ব ভ্রমণে নিঃসন্দেহে এটা একটা রেকর্ড। তিনি জানালেন, এখানেই শেষ নয়। এই জীবনে বিশ্বের সবকটি দেশই ঘুরে দেখার ইচ্ছে আছে তার।
নাজমুন নাহারকে জিজ্ঞেস করলাম মাথার এই হেয়ার ব্রেইড তিনি কোথায় করিয়েছেন? বললেন, “টোগোতে।
স্থানীয় চারজন নারী মিলে চুলের এই স্টাইল তৈরি করে দিয়েছে।”
এর পেছনে কারণ দুটো- প্রথমত: যেখানেই গেছেন সেখানকার মানুষের মতো রূপ নিতে চেয়েছেন তিনি, যাতে স্থানীয় লোকজন তাকে আপন করে নেয়।
“এরকম হলে ওই দেশের সংস্কৃতিকে বোঝা সহজ হয়। বিদেশি কোন পর্যটক যখন বাংলাদেশে এসে আমাদের শাড়ি কিম্বা লুঙ্গি পরেন, আমরাও তো অনেক খুশি হই, তাই না? একারণে ওরাও আমাকে খুব আপন করে নিয়েছে।”
আর দ্বিতীয় কারণ হলো: নিরাপত্তা। “বেনিন হয়ে আমি যখন নাইজেরিয়ায় যাচ্ছি, শুনেছি ওখানে অনেক দুর্ঘটনা হয়। বিশেষ করে নারীদের। তখন আমার মনে হলো আমাকে যদি ওদের মতো দেখায় তাহলে হয়তো অনেক ঝামেলা থেকে বেঁচে যেতে পারবো।”
এই দফায় তিনি এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়েছেন সড়ক পথে। শুরু করেছিলেন মৌরিতানিয়া থেকে আর শেষ করেছেন পশ্চিম আফ্রিকার শেষের দিকের দেশ নাইজেরিয়ার লাগোস শহরে। একেকটি দেশে গিয়ে তিনি প্রতিবেশী দেগুলোতে যাওয়ার ভিসা নিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল সময় ও অর্থের সাশ্রয়।মিজ নাহার এবার যেসব দেশে গেছেন তার তালিকাটি এরকম: সেনেগাল, মালি, গাম্বিয়া, গিনি বিসাও, গিনি কোনাক্রি, সিয়েরা লিয়ন, লাইবেরিয়া, টোগো, ঘানা, আইভোরি কোস্ট, বুরকিনা ফাসো, নিজার, বেনিন এবং নাইজেরিয়া।
কখনো বাইকে, ভেঙে ভেঙে, কখনো ট্যাক্সিতে বা গাড়িতে, আবার কখনো মিনিবাসে এবং পায়ে হেঁটে হেঁটে তিনি এসব দেশের সীমান্ত পাড় হয়েছেন।
“এসব দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো এতো দুর্গম যে বেশিরভাগ সময় বাইকে যেতে হয়েছে। পাঁচ থেকে ছ’ঘণ্টার পথের জন্যে বাইক ভাড়া করতাম। চালক সামনে আর ব্যাক-প্যাক নিয়ে আমি বসতাম পেছনে।”

তিনি জানান, রাস্তাগুলো একেবারে ভাঙাচোরা। দু’পাশে গভীর অরণ্য। রাস্তায় বড় বড় গর্ত। কখনো কখনো তাকে বাইক থেকে নেমে পায়ে হেঁটে কিছুটা পথ যেতে হতো। হাঁটু পানি ডিঙিয়ে এসব গর্ত পার হয়ে যেতেন তিনি। তারপর আবার চড়ে বসতেন বাইকের পেছনে। এসময় তাকে অনেক পোকামাকড়ের কামড়ও খেতে হয়েছে।

Loading...

Check Also

যৌনপল্লী থেকে বিচারকের আসনে তিনি

ডেস্ক রিপোর্ট সিন্টু বাগুই। বয়স ২৭ বছর। যৌনকর্মীর সন্তান। বেড়ে উঠেছেন যৌনপল্লীতেই। নিষিদ্ধ পল্লীর হাওয়ায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *