Home / জেলার খবর / সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স

সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স

শরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল থেকে : টাঙ্গাইলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সরিষা ক্ষেতে মৌ বক্স স্থাপন করে কাঙ্খিত মধু সংগ্রহ করতে পেরে লাভবান হচ্ছে মৌ চাষিরা। অন্যদিকে সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স স্থাপনে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করলে সরিষার ক্ষতি হবে আগে এমন ভ্রান্ত ধারণা ছিল। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরিষা ক্ষেতে মৌবক্স স্থাপন করলে বেশি সরিষা উৎপাদন হয় এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি।

টাঙ্গাইলের বাসাইল, কালিহাতী, ভ‚ঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌ-চাষ পদ্ধতি। বিস্তির্ণ এলাকার কৃষি জমিতে সরিষা ক্ষেতে মৌ বক্স স্থাপন করেছে মৌচাষিরা। এতে একদিকে মৌ চাষিরা কাঙ্খিত পরিমানে মধু সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষি জমিতে সরিষার ফলনও অন্যান্য বছরের তুলনায় কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌচাষে কাক্সিক্ষত লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই স্থানীয় বিসিক শিল্প নগরীতে নতুন নতুন উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ নেয়ার মাধ্যমে মৌচাষ শুরু করেছে। তবে মৌচাষিদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাসহ কৃষকদের সহযোগিতা পেত তাহলে মৌচাষিরা মধু সংগ্রহ করে আরো লাভবান হতে পারত বলে তারা দাবি করেন।

জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৩০ হাজার মেক্ট্রিক টন সরিষার হয়েছিল। এবছর লক্ষ মাত্রার চাইতে ১০হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছর মধু সংগ্রহ করা হয়েছিলো ৩৫ মেক্ট্রিক টন। এবছর লক্ষ মাত্রা নেয়া হয়েছে ৫০ মেক্ট্রিক টন। বাসাইল উপজেলার বাশুলিয়া গ্রামের আয়নাল হক নামের এক কৃষক জানান, মৌবক্স স্থাপনে সরিষার ফলন ভাল হচ্ছে। মৌচাষিদের ক্ষেতে মৌবক্স স্থাপনে কোন বাধা দেয়া হচ্ছে না।
মৌচাষি ইয়াকুব জানান, প্রথমে ৫টি মৌবক্স নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন মৌবক্স ৫০টিরও বেশি। বছরে ৬মাস বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মধু সংগ্রহ করি। এই কয়েকমাসের উপার্জন দিয়ে সারা বছর চলে যায়। মধু সংগ্রহে লাভবান হওয়ার কারনে অনেকেই এই পেশায় চলে আসছে।

টাঙ্গাইল বিসিক শিল্প নগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম জানান, বিসিক শিল্প নগরীতে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌচাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। চাষীদের আরো সুযোগ সুবিধার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করলে সরিষা চাষে শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফলন বৃদ্ধি পায়। কৃষকরা আগে না বুঝলেও এখন কৃষি বিভাগ তাদের বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হয়েছে।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১১ জানুয়ারি/এসকে

Loading...

Check Also

আট মাস বিদ্যুৎহীন ভূঞাপুর ডাকঘর

ফরমান শেখ, ভূঞাপুর থেকে:- ডিজিটাল পদ্ধতির মধ্যে যে সকল দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আমরা গর্ভ করি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *