Home / জেলার খবর / ফুলবাড়ীর খর স্রোতা শাখা যমুনা নদী: শুধুই এখন স্মৃতি

ফুলবাড়ীর খর স্রোতা শাখা যমুনা নদী: শুধুই এখন স্মৃতি

হারুন-উর-রশীদ, ফুলবাড়ী থেকে : দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খর স্রোতা শাখা যমুনা নদীটি কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। ময়লা আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরে উঠেছে, সে কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় এ নদীতে পানি থাকে না। নদীর পাড়ে কিছু কিছু যায়গা দখল হয়েছে, নদীর বুক চিরে পুরোদমে চলছে চাষাবাদ। অথচ এক সময় এই নদীই ছিল এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস, এখন সে সব শুধুই স্মৃতি।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আঁকা-বাঁকা পথে এই নদীটির দৈর্ঘ্য সাড়ে তিনশ কিলোমিটার। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় রয়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার। এই নদীটি এক সময় এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে একমাত্র মাধ্যম ছিলো। নদীকে ঘেষে গড়ে উঠেছে শহর এবং হাজারো বসতি। এই নদীর পানি সেচ দিয়ে এক সময় চলতো এই অঞ্চলের কৃষকের চাষাবাদ ও ঘর-গৃহস্থালীর কাজ। নদীর মাছ দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মাছের চাহিদা পুরো হতো, জীবিকা নির্বাহ করতো অনেক জেলে সম্প্রদায়রা, সেই নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীটি দীর্ঘ সময় সংস্কার না করায়, প্রতিবছর বন্যায় নদীর তলদেশে পলি জমে নদীটির নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে, নদীর পাড় দখল করে অনেকে গড়ে তুলেছে দালান, ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীকে করছে দূষণ।

নদীতে বছরে বেশিরভাগ সময় পানি থাকে না, নদীর বুক চিরে এখন বিভিন্ন রকমের ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফসল উৎপাদন করতে নদীর পাড় কেটে জমি তৈরি করছে অনেকে। এ কারণে বন্যা আসলেই নদীতে পলির স্তর আরো বেশি করে জমে যাচ্ছে। এক সময় কৃষকরা নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করলেও এখন নদীতে পানি না থাকায় সেচ পাম্পের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকের। নদী পাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, নদীতে পানির ধারন ক্ষমতা না থাকায় বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিপাতে বন্যা হয়ে যায়, নদীর পানি ঘর-বাড়িতে প্রবেশ করে। বর্তমানে ফুলবাড়ী পৌর শহরে ২৫ হাজার লোকের বসবাস। শহরের পানি নিস্কাশনের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে এই নদী। নদীর স্রোত না থাকায় ড্রেনের পানি প্রবাহিত না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। পচা দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষের বসবাস করা কষ্টকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

উপজেলা মৎস অধিদফতর জানিয়েছে, নদীতে পানি না থাকায় দেশি প্রজাতির মাছের বংশ হারিয়ে যাচ্ছে। মৎস্য অধিদফতরের হিসেব অনুযায়ী সাধু পানিতে ২০১ প্রকার প্রজাতির মাছ থাকলেও এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ প্রকার মাছ আর দেখা যায় না। নদীতে পানি না থাকায় সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, তাই নদীটি দ্রæত খনন করা প্রয়োজন এমনটাই জানিয়েছে কৃষকরা। নদীটি সময় মতো সংস্কার করা না হলে এক সময় বিলিন হয়ে যাবে এই নদী। তাই দ্রæত সংস্কার করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ফুলবাড়ী পৌর মেয়র মো. মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, এই নদী প্রায় ২০ বছর যাবৎ অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে নদীটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এই নদী খনন করে আবার নদীর জীবন ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে ফুলবাড়ীসহ আশপাশের অনেক উপজেলার পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। বিষটি গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করে দ্রæত উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, পানি দিয়ে সেচ মাছ সংরক্ষণে নদীর প্রবাহমান থাকা জরুরি। খাল খনন ও নদী খনন কাজ বিভিন্ন উপজেলায় চলছে। এই উপজেলায় অনেক জায়গায় এই কাজ চলছে। ফুলবাড়ী উপজেলার মাঝ খান দিয়ে যে ছোট যমুনা নদী বয়ে গেছে, তার অনেক নাব্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা করবো। উপজেলার অনেক সচেতন মানুষ মনে করেন সমাজের কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তিরা নদীর দুই ধার দখল করে গড়ে তুলেছে ইমারত, ছোট যমুনা নদীর এক সময়ের প্রসস্ত নদী পথ বর্তমান সময়ে নালায় পরিণত হয়েছে। অসচেতনতার কারণে শহরের বর্জ আবর্জনা ফেলছে নদীতে। ফলে শহর এলাকায় নদীর নাব্যতা অনেকাংশে কমে গেছে বন্ধ হয়ে গেছে নদীর স্রোত।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১১ জানুয়ারি/এসকে

Loading...

Check Also

আট মাস বিদ্যুৎহীন ভূঞাপুর ডাকঘর

ফরমান শেখ, ভূঞাপুর থেকে:- ডিজিটাল পদ্ধতির মধ্যে যে সকল দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আমরা গর্ভ করি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *