Home / জেলার খবর / জনপদের আতঙ্ক গণপরিবহন

জনপদের আতঙ্ক গণপরিবহন

ইসমাইল হোসেন রবিন, লক্ষ্মীপুর থেকে : গ্রামীণ জনপদের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে গণপরিবহণ। প্রতিনিয়ত ঝরছে অজস্র তাজা প্রাণ। সড়কে মৃত্যুর খেলা যেন কিছুতেই থামছে না। স্বজন হারানোর বেদনায় কাঁদছে আপনজন। কেউবা শরীরের অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এছাড়া যত্রতত্র পাকিংয়ের কারণে বাড়ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছে জনসাধারণ মানুষ। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বৈধ কাগজপত্র নেই, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, প্রশাসনের নজরদারী নেই ও সচেতনতার অভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লক্ষ্মীপুর সদর থেকে আলেকজান্ডার রামগতি সড়কে প্রতিনিয়ত চলছে ফিটনেটবিহীন গাড়ি। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এসব পরিবহণের অদক্ষ্য চালকের কারণে প্রায়ই সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। অথচ দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তায় ফিটনেস ও বৈধ কাগজপত্র বিহীন যানবাহন চলাচলে প্রশাসনের নজরদারী থাকার কথা থাকলেও রামগতি সড়কে দেখা যাচ্ছে না। লক্ষ্মীপুর ঝুমুর স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন আলেকজান্ডার-রামগতিতে ছেড়ে যাওয়া মিশু পরিবহন, আজাদ পরিবহন, মাইশা পরিবহন, সেতারা পরিবহণের বাসগুলোর কয়েকটির বৈধ কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নেই অধিকাংশ গাড়ীর ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স। এদিকে, একই রাস্তায় চলছে অদক্ষ চালক ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন শতাধিক লেগুনা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর ঝুমুর স্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া মিশু পরিবহনের প্রায় ১৫টি বাস চলাচল করলেও এর মধ্যে ৩-৪টি গাড়ির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকি বাসগুলোর নেই ফিটনেস ও রুট পারমিট। অথচ দেদারচ্ছে চলছে এ মিশু পরিবহণের বাস। এতে করে এসব পরিবহণে চলাচলকারী কর্মজীবী, পেশাজীবী, জনসাধারণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিকার হচ্ছেন দুর্ঘটনার।

অন্যদিকে, ঝুমুর স্ট্যান্ড থেকে আলেকজান্ডার-রামগতিতে চলাচলকারী লেগুনা গাড়িগুলোর নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সধারী চালক। এ লেগুনাগুলো দ্রæতগামী হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এই লেগুনাগুলো যত্রতত্র পাকিংয়ের কারণে জনসাধারণ বিপাকে পড়ে থাকেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির (রামগতি-আলেকজান্ডার) শাখা অফিসের সাধারণ সম্পাদক ও মিশু পরিবহনের মালিক মো. খোকন জানান, দলীয় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব পরিবহন চলছে। লক্ষ্মীপুর টিআই মামুন আল আমিন জানান, ফিটনেসবিহীন ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহনের উপর আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিকদের সচেতনতার লক্ষ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অবগত করে আমরা বিভিন্ন কর্মশালা করছি। লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে আমরা ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোর জেল, জরিমানা এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়িগুলো ড্রাম্পিং করে থাকি। লাইসেন্সবিহীন চালকদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১১ জানুয়ারি/এসকে

Loading...

Check Also

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, শ্রীপুরে এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী

সোহেল রানা, শ্রীপুর আর মাত্র দুইদিন পরই তৃতীয় ধাপের পঞ্চম উপজেলা নির্বাচন। শেষ মূহর্তে প্রার্থীরা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *