Home / ফোকাস / জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধন করা হবে: আইনমন্ত্রী

জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধন করা হবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১০ জানুয়ারি : একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার শুরুর জন্য ফের আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার দুই দিন পর বুধবার সচিবালয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আইন সংশোধন করে জামায়াতের বিচার করা হবে। এ সংক্রান্ত আইনটি অধিকতর যাচাই বাছাই ও মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের বিচারের ব্যাপারে আমরা আইন প্রণয়ন করে দিয়েছি। এখন আমাদের দায়িত্ব এটার শেষ দেখা। এ বিষয়ে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের অনেক আইনকে হালনাগাদ করতে হবে। নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। এভিডেন্স অ্যাক্টের বিরাট পরিবর্তন করতে হবে।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধাপরাধে অংশ নেয়া কয়েকজন জামায়াত নেতার বিচার হলেও দল হিসেবে জামায়াতের বিচার আটকে আছে আইনি জটিলতার কারণে। সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব–্যনাল আইন সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ লেজিসলেটিভ ভাষা আবারও একটু কাজ করার জন্য বলেছে, আইনটি আমাদের কাছে আছে।

আমরা চেষ্টা করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে আবারও আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে; যাতে এটা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ব্যক্তিদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। এজন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের হয়রানি করার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করা হয়নি। যারা প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে তার অপব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এ আইন।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বুধবার মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছর আমরা একসঙ্গে কাজ করলেও এর মধ্যে আড়াই বছর আমাদের এক পাগলের সঙ্গে খেলতে হয়েছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অহেতুক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন। আমাদের বিশ্বাসের শেষ আশ্রয়স্থল সুপ্রিমকোর্টকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার জন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মন্ত্রী বলেন, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হককে যে দিন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে দিন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে নিজের পজিশনকে কাজে লাগিয়ে মামলা করিয়েছিলেন। এরপর তার ক্ষমতা ব্যবহার করে এ নিয়োগ আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু সৌভাগ্য যে আমরা তার রাহু থেকে মুক্ত হয়েছি।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাইলে মানুষ যাতে বিচার পায়, বিচার যাতে বিলম্ব না হয় সেটার একটা ব্যবস্থা আমাদের করতেই হবে। কারণ বিচার বিলম্ব হলে জুডিসিয়ারি ধ্বংস হবে এবং জনগণের মধ্যে স্ট্রিট জাস্টিস ধারণা চলে আসবে। আমরা কেউ চাই না স্ট্রিট জাস্টিট। আমরা কিভাবে ৩৪ লাখ মামলার জট থেকে মুক্তি পাই তার ব্যবস্থা করতে হবে। মামলা জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে (এডিআর) কার্যকর করতে হবে এবং এ বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এডিআরের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করলে মানুষ উপকৃত হবে- এটা জনগণকে বোঝাতে হবে।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/ আর

Loading...

Check Also

উভকামী অ্যাম্বার হার্ডকে মেনে নেয়নি পরিবার

বিনোদন ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ২২ মার্চ : সমকামিতা এখনো ভারতীয় সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই স্বীকৃত নয়। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *