Home / অর্থ-বাণিজ্য / জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পিডিবি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পিডিবি

অর্থনীতি ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ৮ নভেম্বর : আন্তর্জাতিক বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতি ব্যারেল তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম ৭৫ থেকে ৮৬ মার্কিন ডলারে উঠানামা করছে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ তা ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে জ্বালানি-অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এমন অব্যাহত দাম বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে দেশের বিদ্যুত্ খাতের নেতৃত্বস্থানীয় সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং অন্য উত্পাদকদের কাছ থেকে পাইকারি দরে কেনা- উভয়ক্ষেত্রেই লোকসান দেখছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৩৩ শতাংশ (ক্যাপটিভ বাদে) আসে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে। ডিজেলচালিত বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর জ্বালানি তেলের দামও পরিশোধ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটিই। তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র থেকে বেশি দামে বিদ্যুত্ কিনে আর্থিকভাবে এমনিতেই লোকসান গুনছে পিডিবি। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বোর্ডটির লোকসানের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আর্থিক সংকটের কারণে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুত্ কিনে নির্ধারিত সময়ে পাইকারি বিদ্যুত্ ও জ্বালানি তেলের দাম পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত দাম বৃদ্ধি পিডিবির আর্থিক চাপ আরো বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এ পরিস্থিতি সরকারকে হয়তো ভর্তুকির পরিমাণ এখনকার চেয়ে দ্বিগুণ করতে হবে। তা না হলে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। আর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অন্যান্য খাতে। তবে নির্বাচনী মৌসুমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই।

এ প্রসঙ্গে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব দেশের বিদ্যুত্ উত্পাদনে পড়ছে। তেলের দাম যত বাড়বে বিদ্যুতের উত্পাদন খরচও সে হারে বাড়বে। তাই বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়ানো না গেলে খরচ মেটানো কঠিন হয়ে যাবে। আর্থিক চাপ বাড়বে। সেক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি বাড়ানোর বিকল্প আপাতত নেই।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছুয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা কমতে থাকে এবং ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারের নিচে নেমে আসে। গত বছরের নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অন্যতম জোগানদাতা ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শেল অয়েলের উত্পাদন কমে যাওয়া এ দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। উত্পাদন কমিয়ে পণ্যটির দাম বাড়াতে চাইছে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকও। গত অক্টোবরেই প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ৯০ ডলারের কাছাকাছি চলে যায়। ব্লুমবার্গ ও দি ইকোনমি ফোরকাস্ট এজেন্সির প্রতিবেদন বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের এ দরবৃদ্ধি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ২০১৯ সাল শেষ নাগাদ তা ১১৮ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।

পিডিবি জানায়, সব মিলিয়ে দেশে দৈনিক সাড়ে ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্যাসভিত্তিক প্রতি ইউনিট বিদ্যুত্ উত্পাদনে ব্যয় (অনিরীক্ষিত) হয়েছে ২ টাকা ৮০ পয়সা। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য ফার্নেস তেলে খরচ ১১ টাকা ৪৮ পয়সা, ডিজেলে ১৯ টাকা ৩০ পয়সা, কয়লায় ৭ টাকা ৩৮ পয়সা এবং জলবিদ্যুতে মাত্র ১ টাকা ৩২ পয়সা। এছাড়া প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ১৬ টাকা ১৪ পয়সা।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

ঐক্যফ্রন্টের ভোট পেছানোর দাবি, আওয়ামী লীগের ‘না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১৫ নভেম্বর :একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল পুননির্ধারণ করা হলেও আরো তিন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *