Home / অর্থ-বাণিজ্য / মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি,কৃষক-ভোক্তা উভয়ে ঠকছে

মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি,কৃষক-ভোক্তা উভয়ে ঠকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ২২ অক্টোবর : ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও অবাক করা তথ্য হল- কৃষক তা বিক্রি করছেন মাত্র ১০ টাকায়। এর ফলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ে ঠকলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা যে লাভবান হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

জানা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ১৫ টাকা। তার মানে কেজিতে গড়ে কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫ টাকা। অথচ সেই পেঁয়াজই বাজার থেকে ভোক্তারা কিনছেন কয়েকগুণ বেশি দামে, যা মোটেই কাম্য নয়।

পেঁয়াজ এমন একটি পণ্য- যার প্রয়োজন বিকল্প কোনো কিছু দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। বস্তুত বছরের পর বছর ধরে এ সুযোগটিই গ্রহণ করছে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা।

অভিযোগ রয়েছে, পেঁয়াজের বাণিজ্য নিয়ে দেশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। মূলত এ সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই প্রতিনিয়ত ঠকে চলেছেন কৃষক ও ভোক্তারা।

কৃষক কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করলেও দামের বেলায় অধিকাংশ সময় বঞ্চিত ও প্রতারিত হন। শুধু পেঁয়াজ নয়, অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।

কৃষকের সামনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কমমূল্যে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সরাসরি বাজারে আনার ব্যবস্থা করা উচিত। তা না হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।

আরেকটি বিষয়- প্রয়োজনের তুলনায় দেশে কোল্ডস্টোরেজের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় পেঁয়াজসহ পচনশীল বিভিন্ন সবজি ও তরিতরকারি সংরক্ষণ করা যায় না। এসব ফসল উত্তোলনের পর যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে পারত না, এ কথা জোর দিয়ে বলা যায়।

দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা অন্তত ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত হয় ২১ লাখ টন। এর বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয় ১০ লাখ টনের মতো।

হিসাব থেকে এটা পরিষ্কার- চাহিদার তুলনায় দেশে কমপক্ষে ৭ লাখ টন পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকে। তারপরও বিভিন্ন উৎসব ও পার্বণের কথা বাদ দিলেও স্বাভাবিক সময়ে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রহস্য কী- তা উদঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

এ কথা সত্য, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সময়ে সময়ে চেষ্টা করেছে। কিন্তু চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনী। এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে টিসিবিকে শতভাগ কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া উচিত।

উদার বাণিজ্য ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত থাকে। অতীতে সময় ও সুযোগ বুঝে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলার নানারকম প্রয়াস চালানো হয়েছে।

যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি যদি বাধাগ্রস্ত করা হয়- তবে একদিকে যেমন ভোক্তাস্বার্থের হানি ঘটে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। ব্যবসায়ে মুনাফা অর্জন স্বতঃসিদ্ধ ও স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু মুনাফা অর্জনের নামে নীতিজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়।

উদ্বেগজনক হল, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ খুব দ্রুত তাদের ক্রয়ক্ষমতা হারাচ্ছে। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বিগত কয়েক বছরে শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত মানুষেরও নাভিশ্বাস উঠেছে।

এ অবস্থায় শক্তহাতে বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকার পেঁয়াজসহ কৃষকের উৎপাদিত অন্যান্য ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

ঐক্যফ্রন্টের ভোট পেছানোর দাবি, আওয়ামী লীগের ‘না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১৫ নভেম্বর :একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল পুননির্ধারণ করা হলেও আরো তিন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *