Home / অর্থ-বাণিজ্য / ডিমের উৎপাদন ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে

ডিমের উৎপাদন ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১৪ অক্টোবর : ডিমের উৎপাদন ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তবে উৎপাদন বাড়াতে ইতোমধ্যেই তারা উদ্যোগও নিয়েছেন। বিশ্ব ডিম দিবসের আলোচনায় বক্তারা এ তথ্য জানান।

গত শুক্রবার সিরডাপ মিলনায়তনে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে। আলোচনা সভার প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক।

সভায় বিপিআইসিসি’র সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, বিগত প্রায় এক বছর ডিমের দাম না পেয়ে অনেকেই খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এইচ৯এন১ ভাইরাসের সংক্রমণে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। সার্বিক বিচারে ডিমের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে উদ্যোক্তারা উত্পাদন বাড়াতে ইতোমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, চাল, চিনি, দুধ, আটা এমনকি লবণের বিজ্ঞাপনও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয় কিন্তু সাধারণত ডিমের কোন বিজ্ঞাপন দেখা যায় না আমাদের দেশে। ডিম বিক্রি থেকে যে লাভ পাওয়া যায় তা দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চারা যেন সপ্তাহে অন্তত দু’টি ডিম খায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশনের আদলে বাংলাদেশেও একটি এগ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন। নকল ডিম উৎপাদন বিষয়ে বলেন, নকল ডিম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব নয়।

ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, ডিমের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

বিপিআইসিসি’র হিসাব মতে, দেশে বর্তমানে ডিমের বাণিজ্যিক উত্পাদন দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ডিম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৬৫ কোটি পিস। এর মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর -এই তিন মাসে ডিমের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪৩৩ কোটি পিস। প্রতিটি ডিমের গড় মূল্য ৭ টাকা ধরা হলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ১০ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার ডিম কেন্দ্রিক বাণিজ্য হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ১১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকারও অধিক ডিম কেন্দ্রিক বাণিজ্য হবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী এবং বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন নাহার নাহিদ বলেন, ডিম নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে ডিম হার্টের জন্য উপকারী, ডিম খেয়ে ওজন কমানো যায়, ব্রেন ডেভেলপমেন্ট এবং হাড় মজবুত করতে ডিম অত্যন্ত কার্যকর। ডায়াবেটিসের রোগীরাও ডিম খেতে পারবেন। অনেকে ডিমের কুসুম না খেয়ে সাদা অংশ খান এতে তারা ডিমের পরিপূর্ণ পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয় যা পল্টন মোড় ঘুরে সিরডাপ মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। সারাদিন ঘুরে ঘুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, কারওয়ান বাজার, মিরপুর এবং ধানমন্ডিস্থ রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ৩০ হাজার সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হয়। এস.ও.এস শিশু পল্লী, স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানা, ঢাকা অরফানেজ সোসাইটি’র শিশুদের জন্য এবং প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে ১৫ হাজার ডিম দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

মহান বিজয় দিবস কাল

বিশেষ প্রতিনিধি : আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। সারাদেশে উড়ছে মৃত্যুমাখা স্বাধীনতার বিজয় নিশান। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *