Home / অর্থ-বাণিজ্য / মানি লন্ডারিং রোধে প্রযুক্তি ও দক্ষ লোকের অভাব: বিআইবিএম

মানি লন্ডারিং রোধে প্রযুক্তি ও দক্ষ লোকের অভাব: বিআইবিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিন দিন ক্যাশলেস (টাকা ছাড়া) পেমেন্ট সিস্টেমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এদিকে ঝুকিও বাড়ছে এই সিস্টেমে। তবে বিশ্বের অনান্য দেশের মতো ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের ঝুকি ব্যবস্থাপনায় উপযুক্ত প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি এখনো বাংলাদেশে তৈরি হয়নি বলে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমন্টের এক গবেষণায় জানা গেছে।

বুধবার রাজধানীর মিরপুর বিআইবিএম-এর সেমিনার হলে বাংলাদেশর নতুন পেমেন্ট সিস্টেমে টাকা পাচার ও তা রোধে দুর্বলতা বিষয়ক কর্মশালায় এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থান করা হয়। এছাড়া সেমিনারে উপস্থিত বক্তারাও মানি লন্ডারিং বন্ধে প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল অভাবেবর ওপর গুরুত্ব দেন।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে মানি লন্ডারিং বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং জনশক্তি দুটোরই অভাব আছে আমাদের। এ সমস্যা সমাধানের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী আইটি নির্ভরশীলতা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তাই তাদের সাথে তাল মেলাতে সামনে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কেনাকাটা, বাস ভাড়া ও ব্যাংকিংসহ সবকিছুই কার্ডের মাধ্যমে হয়। টাকার লেনদেন খুবই কম। তাই তাদের সাথে তাল মেলাতে আমাদেরকেও প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি দক্ষতা অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি। তাই অনেক সময় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিকতার সাথে তাল মেলাতে পারেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের মহা ব্যবস্থাপক লিলা রশিদ বলেন, আমাদের দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম মাত্র শুরু হয়েছে। আমরা এই সেক্টরে একেবারেই নতুন। তারপরেও বাংলাদেশের মোট লেনদেনের ৬ শতাংশ মোবাইলের মাধ্যমে এবং ১ শতাংশ লেনদেন হয় বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে। সে দিক থেকে ইন্টারনেট লেনদেনের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

আমাদের দেশের ব্যাংকাররা বিভিন্ন সফটওয়্যার কেনার ক্ষেত্রে ভেন্ডারদের (সফটওয়ার প্রস্তুতকারক) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। যখন ব্যাংকারদের অডিট এর জন্য ডাকা হয় তখন তারা ভেন্ডারদের সাথে নিয়ে আসেন। কিন্তু এটা তাদের ব্যবসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আপনি আপনার ভেন্ডার এর কাছ থেকে শুধুমাত্র প্রযুক্তি কিনবেন এবং আপনি ব্যবসা করবেন। কিন্তু আপনার সমস্ত খবরা-খবর যদি ভেন্ডারকে জানিয়ে দেন তাহলে কিছুদিন পর আপনার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্য নিজেদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ফারুক মাইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন পেমেন্ট সিস্টেমে গতি বেড়েছে কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই গতি নিয়ন্ত্রণ করতে স্পিড বেগার এর প্রয়োজন। অনেক সময় দেশ থেকে অসাবধানতার কারণে টাকা পাচার হয়ে যায়। নিজেদের পাসওয়ার্ড অন্যদের সাথে শেয়ার করা যেকোনো কম্পিউটার থেকে লগ ইন করা মানি লন্ডারিং এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।

আই পে সিস্টেম লিমিটেডের ফাউন্ডার ও সিইও জাকারিয়া স্বপন বলেন, অতীতের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। তবে এখনো কোন ব্যাংক শুধুমাত্র একাউন্টের মাধ্যমে কোন গ্রাহককে সনাক্ত করতে পারে না। কিন্তু আই পে সিস্টেমের মাধ্যমে শুধুমাত্র একাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের অবস্থান, লেনদেনের পরিমাণ ও ডিটেইল বের করে দেয়া সম্ভব। বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে আমাদের অবশ্যই ক্যাশলেস ট্রানজেকশন এর দিকে আগাতে হবে। এজন্য বিকাশ,রকেট ও আইপেসহ সকল মাধ্যমকে একে অপরের সাথে সমন্বয় রাখা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএম এর পরিচালক শাহ মোহাম্মাদ আহসান হাবিব।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১০ অক্টোবর/এসকে

Loading...

Check Also

স্বর্ণ নীতিমালা চূড়ান্ত

অর্থনীতি ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১৩ ডিসেম্বর : স্বর্ণ নীতিমালা- ২০১৮ এ মাসেই ঘোষণা করা হবে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *