Home / জাতীয় / শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখুন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখুন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ২৭ সেপ্টেম্বর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের অবশ্যই শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশে বুধবার ভোর) অ্যাকশন ফর পিসকিপিংয়ের (এফোরপি) ওপর উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা একটি বৈশ্বিক জনকল্যাণমুখী সেবা। এ বাহিনীর মর্যাদা ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে অবশ্যই একটি ইতিবাচক চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। এটা অনেকের জীবনের আশার আলো জ্বালিয়েছে। আমাদের অবশ্যই এ আশার আলোকে সম্মান জানাতে হবে।’

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ (ইউএন) সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে (বাংলাদেশ সময় কাল ভোর) জাতিসংঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদ হলে তার এ ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। এ বছর অধিবেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘সকল মানুষের উপযোগী জাতিসংঘ গড়ে তোলা : বিশ্ব নেতৃত্ব এবং শান্তি, সমতা ও টেকসই সমাজের জন্য দায়-দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়া।’

শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা : জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে এফোরপির এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় জাতিসংঘ সদর দফতরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে। এতে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সেনা ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সংস্কারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের এখন নির্দিষ্ট স্থানগুলোয় মোতায়েন করা হচ্ছে। ওইসব স্থানে শান্তি বজায় রাখার মতো পরিস্থিতি নেই। রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তারা ক্রমবর্ধমান হুমকির শিকার হচ্ছে।’

শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো রাষ্ট্রের সদস্যদের মোতায়েনের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতি এবং সেই অনুযায়ী কতটা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে, তা বিবেচনা করা উচিত।

জীবন রক্ষার জন্যই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যয় ও শান্তরক্ষী কমালে মাঠপর্যায়ে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’ তিনি বলেন, ‘শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ফ্রন্টলাইনে যারা আছেন, তাদের কথা অবশ্যই শুনতে হবে। মিশনে যেসব দেশের সেনা ও পুলিশ অবদান রাখছে, নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘ সচিবালয়কে তাদের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।’

শান্তিরক্ষাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শান্তিরক্ষায় জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে আমরা কখনও পিছপা হইনি। চলতি বছর আমরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ৩০ বছরের অবদান উদযাপন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিশনে দায়িত্বরত অবস্থায় বাংলাদেশি অনেক রক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। তারপরও দায়িত্ব পালনে আমরা কুণ্ঠিত নই। এখন আমরা সম্ভাব্য সবচেয়ে কম সময়ে আমাদের শান্তিরক্ষীদের মোতায়েন করতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ভালো এবং অগ্রসর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। তারা জনগণের হৃদয় ও মন জয়ের লক্ষ্যে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিজেদের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে সক্ষম। আমরা নিজস্ব সম্পদে মালিতে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে সুরক্ষিত যানবাহন সরবরাহ করেছি। এই নীতি আমরা অন্যান্য মিশনেও অনুসরণ করব।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত আগ্রহে নারী শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা প্রথমে আমাদের নারী হেলিকপ্টার পাইলটদের কঙ্গোতে মোতায়েন করেছি, এটি মাইলফলক।’

সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ : প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিপূর্বে দেয়া তার পাঁচ দফা প্রস্তাবের পাশাপাশি আরও কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরবেন বলে ২০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী জানিয়েছিলেন। ওইদিন তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তি, নিরাপদ অভিবাসন, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন।

প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী বিকালে জাতিসংঘ সদর দফতরের প্লেনারি হলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক সেশনে প্রদত্ত ভাষণ দেন। এ সময় তিনি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বল্প খরচে প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট অতিথি ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশ। আমাদের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জই হচ্ছে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা এবং সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করা। যাতে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা বিধান করতে পারে।’

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘তার সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করা; যাতে সবাই যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল পেতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য স্বল্প ব্যয়ে এবং সহজে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা বৃহৎ প্রযুক্তি উৎপাদনকারী দেশ নই, তাই আমরা যাতে সহজে এবং স্বল্পমূল্যে প্রযুক্তি পেতে পারি, সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার প্রসারে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, নানা বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান করছি। নারী শিক্ষাকে উৎসাহ প্রদান করছি। প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীকে আমরা বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট ১০ লাখের অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের জন্য শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

আগামী জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগদানের জন্য শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ফোরামের প্রেসিডেন্ট বোর্গে ব্রেনডি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার নিউইয়র্কে অবস্থানকালীন হোটেল গ্রান্ড হায়াতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ব্রেনডি আমন্ত্রণ জানান।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সপ্তাহব্যাপী সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছেন। এ কয়েক দিন সেখানে তিনি ব্যস্ততম সময় অতিবাহিত করেন। ১ অক্টোবর সকালে লন্ডন হয়ে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

তুরস্ক ন্যাটোর মূল অংশীদার : জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : তুরস্ক ন্যাটোর মূল অংশীদার বলে জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *