Home / জাতীয় / রাজধানীতে জব্দ চাল-আটা রেশনের, ওএমএসের নয়

রাজধানীতে জব্দ চাল-আটা রেশনের, ওএমএসের নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকায় দু’সপ্তাহ আগে সরকারি গুদাম থেকে যেসব চাল ও আটা জব্দ করা হয়েছিল, তা বিভিন্ন বাহিনীর রেশনের জন্য নির্ধারিত খাদ্যপণ্য ছিল। জব্দকৃত ওইসব খাদ্যপণ্য ওএমএসের ছিল না বলে দাবি করেছে ওএমএস ডিলারদের একটি সংগঠন। আজ সোমবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর ওএমএস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ বলেন, কালোবাজারে বিক্রির জন্য গুদাম থেকে বের করার সময় জব্দ করা ওই খাদ্যপণ্যের সঙ্গে ডিলারদের জড়িয়ে সামাজিকভাবে তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও সরকারি খাদ্যগুদাম, কাকরাইল, কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ২১৫ টন চাল ও আটা জব্দ করার কথা জানিয়েছিল র‌্যাব। তখন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে ১৪১টি ট্রাকে করে ওএমএসের এসব চাল ও আটা বিক্রি করার কথা। তা না করে খাদ্য গুদামের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব কালোবাজারে বিক্রি করে ছিলেন।

র‌্যাবের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ওএমএস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা হারুন অর রশিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওএমএসে প্রত্যেক ডিলারের জন্য প্রতিদিনের বরাদ্দ থাকে ১ টন চাল ও ২ টন আটা। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সিএসডি থেকে তুলে ওই পণ্য বিকাল ৫টার মধ্যে বিক্রি করতে হয়। অবিক্রিত মালামাল তাদারকি কর্মকর্তা ব্যালেন্স হিসেবে দেখিয়ে ডিলারের জিম্মায় দিয়ে দেন। পরদিন ডিলার নিজের খরচে নির্দিষ্ট বিক্রয় কেন্দ্রে তা বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। অবিক্রিত মালামাল সিএসডিতে ফিরিয়ে নেয়ার কোন সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক আলমগীর সৈকত বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যেসব মালামাল জব্দ করা হয়েছে তা বিভিন্ন বাহিনীর রেশনের জন্য নির্ধারিত খাদ্যপণ্য ছিল। অথচ আমাদের পাচারকারী অপবাদ দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, আমাদের ৩ জন ডিলারের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে হারুন বলেন, তেজগাঁও সিএসডি থেকে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, টিআর, কাবিখা এবং জেলখানার রেশনের মালামালও তোলা হয়। রেশনের বস্তা এবং ওএমএসের বস্তার গায়ে একই রকম লেখা থাকে। সারাদেশে ৮ শতাধিক ডিলার ওএমএসের মালামাল বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং মিথ্যা অপপ্রচারের কারণে তারা সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান হারুন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিলার সমিতির এমন দাবির বিষয়ে জানতে চেয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তেজগাঁওয়ের সরকারী খাদ্য গুদামসহ রাজধানীর কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। ওই রাতের অভিযানে উদ্ধার হওয়া বস্তার গায়ে লেখা ছিল সুলভমূল্যে বিক্রির জন্য। যা সাধারণত ওএমএসের বস্তায় লেখা থাকে। নিশ্চই বিভিন্ন বাহিনীর রেশনের জন্য নির্ধারিত খাদ্যপণ্যে নয়। তিনি আরো জানান, ওই দিনের ঘটনায় উদ্ধারকৃত ওই বস্তা ও মালামালের জব্দ তালিকাসহ মামলা করা হয়েছে। এখন ডিলাররা যেহেতু নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে, তাই তারা আদালতে গিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করুক। আদালতই এখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/২৪ সেপ্টেম্বর/এসকে

Loading...

Check Also

অগ্নিদগ্ধ সাগরও মারা গেলো

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরখানে লিকেজ গ্যাস লাইন থেকে লাগা অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মক দগ্ধ সাগরও (১২) ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *