Home / তথ্য প্রযুক্তি / ক্যান্সার শনাক্ত হবে ৫০০ টাকায়!

ক্যান্সার শনাক্ত হবে ৫০০ টাকায়!

শাবি প্রতিনিধি : রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তকরণ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল গবেষক। এতে খুব অল্প খরচে জানা যাবে কোন ব্যক্তির শরীরে ক্যান্সার আছে কি নেই। এর জন্য সময় লাগবে ৫-১০ মিনিট এবং খরচ পড়বে ৫০০ টাকারও কম। এক বছরের মধ্যে মানুষ এই প্রযুক্তির সুফল পাবেন বলে জানান গবেষক দলের সদস্যরা।

গবেষক দলের সদস্য ড. শরিফ মোহাম্মদ শরাফউদ্দিন বলেন, এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ২৫ সদস্যের গবেষণা টিম কাজ করে। এরমধ্যে পাঁচজন শিক্ষক এবং বাকিরা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি’র শিক্ষার্থী ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, রক্ত থেকে লাল অংশ বাদ দিয়ে কেবল সেরাম ডিভাইসে দিলে প্যারামিটারে মান জানা যাবে। আর সেটা থেকেই বোঝা যাবে শরীরে ক্যান্সার আছে কি নেই। তবে এই পদ্ধতি ক্যান্সার নির্ণয়ে শতভাগ কাজ করবে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। ডিভাইসটির উন্নতির জন্য আরো কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মূল বিষয় ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস’, যা ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম যাত্রা শুরু করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাবিপ্রবিতে প্রথমে শিক্ষার্থীদের থিওরিটিক্যাল কোর্স আকারে বিষয়টি পড়ানো হতো। পরে ব্যবহারিক চর্চার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে তা ক্যান্সার শনাক্তকরণে কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষক দলের প্রধান ড. ইয়াসমিন হক। তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্তকরণের এই পদ্ধতি নিয়ে প্রথমে ১০ জন সাধারণ এবং ৬০ জন ক্যান্সার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর রক্তের সেরামে একটা পরিবর্তন আসে। নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগেভাগেই এর পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

ড. ইয়াসমিন হক আরো বলেন, ১৯৯৯ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রথম আবেদন করা হয় এবং সেখান থেকে পাওয়া ৮ লাখ টাকা দিয়ে এই নন-লিনিয়ার অপটিকসের মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তকরণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালে হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ)-এর সহায়তায় ৩ কোটি টাকার একটি ব্যাসিক প্রজেক্টের কাজ শুরু করা হয়। আর গবেষণার জন্য একটি নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিকস রিসার্চ ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংগ্রহ করে গবেষণার কাজ শুরু হয়।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে বায়োমার্কার নির্ণয়’ শীর্ষক প্রকল্পটি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের প্রকল্প হেকেপের আওতায় আনা হয় এবং ৬ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়ে নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিকস রিসার্চের আরেকটি ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহায়তায় এই হেকেপ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ড. ইয়াসমিন হক আরো বলেন, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ শুরু হলেও এর ফলাফল পাওয়া যায় অক্টোবর মাসে। ফলাফল পাওয়ার পর সরাসরি তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রয়ারি মাসে গবেষণার এই কাজের থিওরিটিক্যাল কাজ শুরু করা হয়।

শাবিপ্রবি’র এ ল্যাবরেটরিগুলোতে নন-লিনিয়ার অপটিক্স নিয়ে আরো উচ্চতর গবেষণা সম্ভব উল্লেখ করে ড. ইয়াসমিন হক বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের এখানে হাইপাওয়ার লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/০৭ সেপ্টেম্বর/এসকে

Loading...

Check Also

টেসলারের নতুন চেয়ারম্যান ডেনহোম

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১১ নভেম্বর : ইলেকট্রনিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার চেয়ারম্যান পদে ইলন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *