Home / অপরাধ / নারীকে ফাঁদ বানিয়ে যেভাবে অপহরণ করা হয় রাজকে

নারীকে ফাঁদ বানিয়ে যেভাবে অপহরণ করা হয় রাজকে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যবসায়ীদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করার মতো ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু চারদিন আগে পুরান ঢাকার বাসিন্দা একটি সিমেন্ট কোম্পানীর কর্মকর্তাকে অনেকটা অভিনব কায়দায় অপহরণ করে একটি চক্র। টানা দু’দিনের চেষ্টার পর অপহরণকারী ওই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। অপহৃত ওই ব্যক্তিকেও সুস্থভাবেই উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম আবদুল হক রাজ (৬১)। তিনি শাহ্ সিমেন্ট কোম্পানীতে এস.আর পদে চাকরি করেন। আজ সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১২ জুলাই আশা নামের এক মেয়ে তাকে ফোন করে কনস্ট্রাকশনের কাজের জন্য অনেক সিমেন্ট লাগবে বলে গেন্ডারিয়ার সোনালী নুপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ডেকে নেয়। ওই নারী জানায় তার কনস্ট্রাকশনের সাইট টঙ্গীর দত্তপাড়ায়। কি পরিমান সিমেন্ট লাগবে তা নিশ্চিত হতে সাইট পরিদর্শন করতে হবে। এক পর্যায়ে রাজকে টঙ্গীর দত্ত পাড়ার একটি ৩ তলা বাসায় নেয়া হয়। যেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিলো অপহরণকারী চক্রের অন্য সদস্যরা। তারা রাজকে জিম্মি করে ফেলেন। এর আগে রোববার টঙ্গী ও উত্তরা কামারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ভিকটিম রাজকে। গ্রেফতাররা হলেন- সবুজ (৪২), বশির (৩০), ফারুক (৩৬), লাভলু (৪০) ও জালাল মিয়া (৩৬)।

ডিসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা রাজকে জোড় করে আটকে রেখে ভয়ভীতি ও মারধর করে। তারা মুক্তিপণ হিসেবে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা আনার জন্য রাজকে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি চলে যায়। অপহরণ চক্রের সদস্যরা তা বুঝতে পেরে রাজকে নিয়ে স্থান পরিবর্তন করে। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই তারা উত্তরার কামারপাড়ায় জালাল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে রাজকে আটকে রাখে। তারা মুক্তিপণের টাকার জন্য ভিকটিমকে নির্যাতন করতে থাকে। পরে পুলিশ সেখানেও অভিযান চালায় এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখান থেকে রাজকে উদ্ধার করা হয়, গ্রেফতার করা হয় বশির, ফারুক ও জালালকে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী হতে সবুজ ও লাভলুকে গ্রেফতার করা হয়।

ওয়ারীর ডিসি বলেন, চক্রটির নারী সদস্য আশা এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওই ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১৬ জুলাই/এসকে

Loading...

Check Also

১৫ আগস্ট দিনটি লজ্জার ও কলঙ্কের: দুদক চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১৬ আগস্ট : দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ১৫ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *