Home / খেলাধুলা / লড়াই হবে তারায় তারায়
লড়াই হবে তারায় তারায়

লড়াই হবে তারায় তারায়

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট কাটতে আগামীকাল বুধবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। এই সেমিফাইনাল জিততে মরিয়া দুই দলই। তাই আভাস মিলছে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার। গত দুই ম্যাচে টাইব্রেকারে উতরে যাওয়া ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে শেষ পর্যন্ত।

বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। এ লড়াইয়ে যে জিতবে, তারাই চলে যাবে ফাইনালে। তবে এ লড়াই কেবল দুটি দেশের লড়াই নয়। দুই দলের তারকাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চও এ ম্যাচ।

গত ৭ জুলাই দিনের প্রথম ম্যাচে সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ড সেমি ফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড। আর শেষ ম্যাটে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে গেছে স্বাগতিক রাশিয়া। সোচির ফিশ্ট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও হলো দুই গোল। ২-২ সমতায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। অবশেষে, ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় ক্রোয়েশিয়া।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ফাইনালে পৌঁছে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের সেরা অর্জনের হাতছানি ক্রোয়েশিয়ার সামনে। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। সেবার সেমি-ফাইনালে জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল তারা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংরেজদের একমাত্র শিরোপা ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয় এসেছিল তাদের ঘরের মাঠেই।

১৯৯১ সালে যুগোস্লোভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর ছয়টি বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের অভিষেকেই শেষ চারে পা রেখেছিল তারা। ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে সেমি-ফাইনালে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় জয় পায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এটাই বিশ্বমঞ্চে দেশটির সেরা পারফরম্যান্স।

চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত ক্রোয়েশিয়া। ‘ডি’ গ্রুপে তিন ম্যাচই জিতে পুরো নয় পয়েন্ট নিয়ে নক আউট পর্বে পা রাখে জ্লাতকো দালিচের দল। প্রতিপক্ষের জালে সাতবার বল জড়ানোর বিপরীতে নিজেরা হজম করেছে মোটে একটি।

অন্যদিকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নক আউট পর্বে ওঠা ইংল্যান্ড বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ১-০ গোলে হারে।
দুই গোল করে চলতি আসরে ক্রোয়েশিয়ার সেরা গোলদাতা অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ।

ছয় গোল করে টুর্নামেন্টে গোলদাতাদের তালিকায় সবার উপরে আছেন হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু ১০ গোল করা গ্যারি লিনেকারের। তবে এক জায়গায় পূর্বসুরিকে ঠিকই স্পর্শ করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ছয় গোলের রেকর্ড ছিল সাবেক স্ট্রাইকার লিনেকারের। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েন তিনি। ৩২ বছর পর কেইনের সামনে এখন রেকর্ডটা এককভাবে নিজের করে নেয়ার হাতছানি।

চলতি টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের করা ১১টি গোলের আটটিই এসেছে পেনাল্টিসহ সেট পিস থেকে। এক বিশ্বকাপে সেট পিস থেকে এর চেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড নেই কোনো দলের। ১৯৬৬ সালে পর্তুগালও সেট পিস থেকে আটটি গোল করেছিল। রেকর্ডটা এককভাবে নিজেদের করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে কেইন-রাহিম স্টার্লিংদের।

১৯৬৬ সালে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের আসরে সর্বোচ্চ ১১টি গোল করেছিল ইংল্যান্ড। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা। সেমি-ফাইনালে রেকর্ডটা নতুন করে লেখার সুযোগ থাকছে তাদের সামনে। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা নিজের শেষ ৩০টি ম্যাচে হারের মুখ দেখেননি মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন। যে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড এটি। শেষ ষোলোয় কলম্বিয়ার বিপক্ষে জিততে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয় ইংলিশদের। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে সহজেই ২-০ গোলে সুইডেনকে হারায় তারা।

অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফর্ম করা ক্রোয়েশিয়ার নক আউট পর্বটা এখন পর্যন্ত সহজ হয়নি। শেষ ষোলোয় টাইব্রেকারে ডেনমার্ককে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়া বাধা পেরোতেও দরকার পড়েছে পেনাল্টি শুট আউটের।

বিশ্বকাপে এর আগে কখনোই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়নি ক্রোয়েশিয়া। আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে দুই দলের একমাত্র দেখাটা হয়েছিল ২০০৪ সালের ইউরোয়। সেবার ৪-২ গোলে ইংলিশদের পরাস্ত করে ক্রোয়াটরা।

সব মিলিয়ে দুই দলের দেখা হয়েছে সাতবার। চার জয় নিয়ে এগিয়ে আছে থ্রি লায়ন্স। ক্রোয়েশিয়ার জয় দুটি। ১৯৯৬ সালে দুই দলের প্রথম ম্যাচটি ছিল গোলশূন্য ড্র।

ক্রোয়েট তারকা মারিও মানজুকিচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের সবটা দেবে ক্রোয়েশিয়া। হেরে গেলেও যেন অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে না হয় সেভাবে লড়বে দলের খেলোয়াড়রা। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত গ্যারি সাউথগেটের শিষ্যদের মোকাবিলা করতে চান মানজুকিচ, চিন্তা করবেন না, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়তে এখনো আমার মধ্যে কিছু (শক্তি) আছে। আমরা সবাই শেষ পর্যন্ত লড়বো। তারপরও যদি আমরা হেরেও যাই, যেন কেউ আমাদের দোষ দিতে না পারে।

নকআউটে ক্রোয়েশিয়ার সফলতার পেছনে দারুণ অবদান মানজুকিচের। শেষ ষোলোতে পিছিয়ে পড়েও ডেনমার্কের বিপক্ষে তার গোলে সমতা ফেরায় দল। রাশিয়ার বিপক্ষেও একটি গোলে অ্যাসিস্ট ছিল তার। যদিও দুটি ম্যাচই শেষ হয়েছে টাইব্রেকারে। জুভেন্টাস স্ট্রাইকার দেশের জন্য আরও অবদান রাখতে চান, আমি সবসময় আমার দেশের জন্য সেরাটা দেই।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১০ জুলাই/এসকে

Loading...

Check Also

‘বৈরী আবহাওয়ায় বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিতে’

* জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ মিটার উঁচুতে রয়েছেন * ঘূর্ণিঝড় ও ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *