Home / জেলার খবর / সংখ্যালঘু আনন্দ হত্যার প্রকৃত রহস্য উম্মোচন

সংখ্যালঘু আনন্দ হত্যার প্রকৃত রহস্য উম্মোচন

আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট থেকে : বহুল আলোচিত লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বান্দের কুড়ার সংখ্যালঘু আনন্দমোহন হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ এক বছর পর বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে প্রকৃত খুনিদের দীর্ঘদিন পর গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সাথে স্থানীয় এক রাঘব বয়াল জড়িত আছে বলে ওই এলাকায় চলছে জল্পনা-কল্পনা।

মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর পুনরায় সেখানে এক কর্মকর্তার উপর তদন্তের ভার ন্যাস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর হত্যকান্ডের প্রকৃত রহস্য ও তদন্তের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন হয়েছে। ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে ওই এলাকার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নিদের্শে তার সাঙ্গপাঙ্গরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের বান্দের কুড়া গ্রামের মৃত দক্ষিনা বর্ম্মনের পুত্র আনন্দ মোহনের স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন থেকে পার্শ্ববর্তী শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবকের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তদন্তের পর বিষয়টি সিআইডি পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া-বিবাধ হতো। একপর্যায়ে আনন্দের স্ত্রী কল্পনা রানী নারায়নগঞ্জে তার ভাই স্বপনের কাছে চলে যায়। এরপর থেকে আনন্দ তার নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতো। এদিকে আনন্দ মোহনের স্ত্রী কল্পনা রানীর পরকিয়ার ছোবলই তাকে হত্যা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া আনন্দ মোহনের প্রায় ৭০ শতাংশ জমি রয়েছে, যা অন্যের কাছে বন্ধক আছে। তার জমি মূল্যবান হওয়ায় একটি মহল জমি আত্মসাৎ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। কল্পনার প্রেমিকার সাথে আঁতাত করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, নিহতের স্ত্রীর সাথে একাধিক ব্যক্তির অবৈধ সম্পর্ক থাকার কারণে তারা কিলার বাহিনীকে ভাড়া করে তাকে হত্যা করার জন্য। এদিকে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আনন্দ মোহনকে শাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে মর্মে রিপোর্ট পাওয়া গেলেও থানা পুলিশ বাদির দায়েরকৃত এজাহারটি নথিভুক্ত না করে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা নুরুল হক আলামত নষ্ট করেছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন। এতদ সংক্রান্ত বিস্তারিত খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে পুলিশের টনক নড়ে এবং পরে বাদীকে গত বছরের ২৪ আগস্ট থানা পুলিশ ডেকে নিয়ে মামলার এজাহার গ্রহন পুর্বক হত্যা মামলা রুজু করেন। যার মামলা নং-২৮ তারিখ ২৪/৮/১৭ ইং, ধারা ৩০২/৩৪। এ মামলায় আঃ মতিনসহ ৬ জনকে আসামী করা হয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মামলাটির কোনো কূল কিনারা না পেয়ে সিআইডি’র উপর ন্যস্ত করা হয় এবং অল্প দিনের মধ্যে সিআইডি পুলিশ বুলবুলি বেগমকে গ্রেফতারসহ রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু বুলবুলি বেগম সিআইডি’র জিজ্ঞাসাবাদে কি তথ্য দিয়েছে তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ইতো মধ্যে বিজ্ঞ জজ আদালত থেকে ৩ আসামী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে সিআইডি পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আনন্দ মোহনের স্ত্রী কল্পনা রানী, তার ভাই স্বপন চন্দ্র (৪৬), তার প্রেমিকা লক্ষন চন্দ্র (৩৪), মাখন চন্দ্র রায় (৩৪) ও সুজিৎ চন্দ্র রায়কে (২৮) গ্রেফতার করেছে। তারা বর্তমানে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে রয়েছেন। মামলার বাদি জানায়, এ হত্যাকান্ডের সাথে অনেক বড় বড় রাঘব বোয়াল জড়িত আছে। যা গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে স্বপন চন্দ্রসহ সকলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে এসবের সঠিক তথ্য বেড়িয়ে আসবে। তবে স্বপন চন্দ্র জানায়, আমরা এতদুর থেকে শিয়ালখোয়া বাজারে গিয়ে তো আমরাই একা মারতে পারিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী শিয়ালখোয়া এলাকায় হত্যাকান্ডের সাথে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে তা স্পষ্ট ভাবে বুঝা যাচ্ছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশেনের (অকিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. শরীফ উদ্দিন জানান, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা সহযোগীতা করায় এ হত্যা মামলার এতো অগ্রগতি এবং মামলার আসামীদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

এই ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) নুরুন্নবীর সাথে মোবাইল ফোনে ২৪ জুন বিকেলে কথা হলে তিনি জানান, তদন্তে গ্রেফতারকৃত ৬ আসামির মধ্যে ১ আসামি তার দোষ স্বীকার করায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/২৫ জুন/এসকে

Loading...

Check Also

ডিবি পরিদর্শক জালাল হত্যার সন্দেহভাজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত

সাভারে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

এম এ হালিম, সাভার থেকে : সাভারে র‌্যাবের (র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান) সাথে বন্দুকযুদ্ধে রাজধানীর আগারগাঁও ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *