Home / জাতীয় / ঢাকা ছাড়ছে সোয়া কোটি মানুষ

ঢাকা ছাড়ছে সোয়া কোটি মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি : ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা। এবারের ইদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রায় সোয়া কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়ছে। এরমধ্যে রাজধানী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর-সাভার শিল্পাঞ্চল রয়েছে। আজ বুধবার সরকারি ছুটির দিনে ভোর থেকে মানুষ ছুটছে গন্তব্যে। ট্রেন, বাস ও লঞ্চে কোথাও স্থান নেই। এবারে মহাসড়কে তেমন একটা যানজট হবে না বলে দাবি সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী। গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী যখন এই দাবি করছিলেন, সেসময় যানজট ও জলজটে নাকাল ছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঘরমুখো মানুষ। আগামী শুক্র-শনি ও রোববার ঈদুল ফিতরের ছুটি। ৩ দিনের ছুটি হলেও স্রোতের মতো ঢাকা ছাড়ে যাচ্ছে মানুষ। নাড়ির টানে বাস-লঞ্চ-ট্রেনে ছুটছে সবাই। ট্রেনের ছাদে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তবে, ঝামেলামুক্ত থাকতে ঈদের ক’দিন আগে থেকেই অনেকের পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আজ থেকে পাল্টাতে শুরু করেছে ব্যস্ত রাজধানীর চিরচেনা দৃশ্য। নগর যানজট অথবা শব্দ দূষণ কবে আসছে। ঈদ উপলক্ষে ঠিক কত মানুষ রাজধানী ছাড়বে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও অনুসন্ধানে একটি ধারণাগত তথ্য পাওয়া যায়।

জাতিসংঘের ওয়াল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। পরিসংখ্যান বলছে, জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান ১১তম। কিন্তু ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা পৌঁছে যাবে ষষ্ঠ স্থানে। ৩০’ সালের মধ্যে তা পৌঁছবে ২ কোটি ৭৪ লাখে। এসময় ঢাকা পেছনে ফেলবে করাচি, মেক্সিকো সিটি, কায়রো, সাও পাওলো এবং নিউইয়র্কের মতো শহরগুলোকে।

অন্যদিকে বছর খানেক আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (নিপোর্ট) এক গবেষণায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ বাস করছে। রেলওয়ে ও পরিবহন ও লঞ্চ মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হিসাব মিলিয়ে দেখা গেছে, এবারের ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানী ছাড়বে প্রায় কোটির ওপরে মানুষ।

ট্রেনে ঈদে বাড়ি যাওয়ার চতুর্থ দিন সকালে কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিল উপচেপড়া। তবে ট্রেন ছাড়তে দেরিতে অসন্তোষ জানিয়েছেন যাত্রীরা। ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। প্রতিটি ট্রেনের ছাদে কোনো ঠাঁই ছিল না। আজ বুধবার বাড়ি যাচ্ছেন ৪ জুন অগ্রিম টিকেট কেনা যাত্রীরা। এদিন সকালে রাজশাহী, দেওয়ানগঞ্জ, পার্বতীপুর, লালমনিরহাট ও খুলনার উদ্দেশে পাঁচটি বিশেষ ট্রেন ছেড়ে যায়। সারাদিনে মোট ৫৯টি ট্রেন ছাড়ে কমলাপুর থেকে। এসময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ১০টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, বুধবার বেলা ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ২১টি ট্রেন ছেড়ে যায়। সকালে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পর কমলাপুর স্টেশন ছেড়েছে। এরমধ্যে দুটি বিশেষ ট্রেনের দুটিই ছাড়তে দেরি হয়েছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদে প্রতিটি স্টেশনে যাত্রী নামতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। কারণ সবাই সপরিবারের মালামাল নিয়ে বাড়ি ফিরেন। অতিরিক্ত ভিরের কারণে স্টেশনে যাত্রীদের নামতে নির্ধারিত সময়ে বেশি সময় লাগছে। এতে সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।

এদিকে দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছাড়ার সময় ছিল সকাল পৌনে ৯টা থাকলেও তা ছেড়ে যায় নির্ধারিত সময়ের পৌনে একঘণ্টা পর। লালমনিরহাটের লালমনি ঈদ স্পেশাল ট্রেন বেলা সোয়া ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা। এটি ছাড়ে সকাল ১১টায়। দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ট্রেনের যাত্রী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মী তারা মিঞা বলেন, সকাল ৮টায় এখানে এসে বসে আছি। কিন্তু ট্রেন ছাড়তে দেরি করছে। এখন তো আরো দেরি করবে। কখন পৌঁছাব জানি না। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস কমিউটার ট্রেন সকাল সাড়ে ৯টার পরিবর্তে ২০ মিনিট দেরি করে বেলা ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। জামালপুরের তারাকান্দি রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়েছে। এছাড়া দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস ২০ মিনিট দেরি করে বেলা ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়েছে।
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাড়ার সময় সকাল ৮টার পরিবর্তে সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা ছাড়ে। অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনে ময়মনসিংহ যাচ্ছেন একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আবদুল আলীম। ঈদে বাড়ি যেতে পেরে খুশি হলেও রেলসেবা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে তার। আলীম বলেন, ট্রেনের ভেতরের অবস্থা ভালো না। দেখেন আমরা প্রথম শ্রেণির চেয়ার কোচের টিকেট কিনেছি। কিন্তু সিট ভাঙা। আবার কয়েকটি সিট পেছনে কাত হয়ে যায়। সোজা হয়ে বসা যায় না। আবার প্রথম শ্রেণিতে অনেক দাঁড়ানো যাত্রী নেয়া হয় বলে প্রচ- ভিড়ে কষ্ট হয়। ট্রেনের সেবা আরো উন্নত করা সময়ের দাবি বলে মনে করেন অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের আারেক যাত্রী আব্দুল খালেক। অবসরপ্রাপ্ত এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে টিকেট কেনা থেকে শুরু হয় ভোগান্তি। শেষ হয় বাড়ি পৌঁছার মধ্য দিয়ে। টিকেট কেনার জন্য মানুষকে কি ভোগান্তিটা পোহাতে হয়। ছোট্ট একটা জায়গায় হাজার হাজার মানুষ। সেখানে সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় টিকেট পাওয়া যায় না। আর রেলের কোচ-বগি এসবের সঙ্কট তো আছেই। এসব বাড়ানো খুব জরুরি। তবে এসব কষ্ট বাড়ি যাওয়ার আনন্দের কাছে কিছুই না জানালেন, মিরপুরের গৃহিণী শামীমা মেহফুজ। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের এই যাত্রী পরিবারের সঙ্গে দিনাজপুর যাচ্ছেন। বাড়িতে বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি আছেন। এছাড়া আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দই তো অন্যরকম। এছাড়া ঈদের পরে আমার ছোট ভাইয়ের বিয়ে। গরম অনেক এজন্য কিছুটা কষ্ট হচ্ছে তবে এটা খুব বেশি কিছু না। এদিন আগের চেয়ে ভিড় বেশি হয়েছে বলে জানান কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, কয়েকটি ট্রেন সামান্য দেরি করেছে, এটা বড় কিছু নয়। বিভিন্ন কারণে কয়েকটি ট্রেন দেরি করে গেছে। তবে ঈদের সময় ১৫-২০ মিনিট দেরি করে যাওয়া বড় কিছু নয়। এটা ঠিক হয় যাবে।

অন্যদিকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রকট যানজটের তেমন কোন খবর মেলেনি। তবে, লঞ্চে ভিড় ছিল অস্বাভাবিক। ঢাকার সদরঘাট ও ফতুল্লাহ টার্মিনাল থেকে নৌপথের প্রতিটি লঞ্চে প্রচুর যাত্রী ছিল। জায়গা না পেয়ে অনেকে ওঠতে ব্যর্থ হয়েছে। লঞ্চে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ ভয়াবহ। তাদের ওয়াস রুম ব্যবহার থেকে বঞ্চি থাকতে হয় প্রায় ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা। ঈদকে সামনে রেখে এবারে ৪০টির ওপরে প্রায় দেড়শতাধিক নৌযান চলাচল করছে। প্রতিটি ট্রিপ নামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় ফিরে আসার নির্দেশ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতির। কাছাকাছি রুটে প্রতিটি নৌযান দুইটি করে ট্রিপ মারেন। নৌপথে প্রায় ৩০ লাখের মতো যাত্রী আসা যাওয়া করবে জানান লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১৩ জুন/এসকে

Loading...

Check Also

মাশরাফির স্মরণীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১০ ডিসেম্বর : মাশরাফি বিন মুর্তজার মাইলফলকের ম্যাচে জয়ে সিরিজ শুরু ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *