Home / জাতীয় / জালেমদের কাছে যেন ক্ষমতা না যায়: প্রধানমন্ত্রী

জালেমদের কাছে যেন ক্ষমতা না যায়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা প্রতিদিন.কম ১৬ মে : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খুনি আর জালেমদের কাছে যেন বাংলাদেশের ক্ষমতা না যায়, যারা বাংলাদেশকেই বিশ্বাস করে না, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গ্রেনেড হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সৈয়দ ফারুক রহমান ও সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান বিবিসিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছিলেন যে, তৎকালীন উপ-সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান সেই হত্যাকাণ্ডের কথা জানতেন। জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে তারা ‘সবুজ সংকেতও পেয়েছিলেন’।

‘জাতির পিতার হত্যার সঙ্গে যে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিল তাতে তো কোনো সন্দেহ নেই। এটা তো খুনি ফারুক, রশিদ নিজেরাই বিবিসিতে ইন্টারভিউ দিয়ে বলেছে। এই পরিবারটা খুন-খারাবিই করতে পারে। আর কিছু জানে না।’

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের জন্য টাকা এসেছে, তাও চুরি করে খেয়ে বসে আছে।’

বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই।

রমনা থানার দায়ের করা এই মামলার বিচার চলে পুরো ১০ বছর। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়ার পাশাপাশি তার ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে গ্রেনেড হামলা করায়, মানুষ খুন করে, এতিমের টাকা মেরে খায়, তার নাম তারা বলে গণতন্ত্রের মা। খুনির মা বলতে হয়, গণতন্ত্রের মা না। চোরের মা। কারণ, তার ছেলে মানি লন্ডারিং করে.. আমেরিকা থেকে এফবিআই এসে সাক্ষী পর্যন্ত দিয়ে গেছে। তার জন্য সাজা পেয়েছে।’

মুদ্রাপাচার মামলায় তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ভোট চুরিতে এক্সপার্ট, মানুষ খুনে এক্সপার্ট, দুর্নীতিতে এক্সপার্ট, কালো টাকা সাদা করে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে; সে আবার গণতন্ত্রের মা হয়। এ হলো- বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে তামাশা করা।’ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালানো ওই হামলায় নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মী মারা যান।

নিহত হয়েছিলেন আরও দুজন, যাদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। হামলার সময় আওয়ামী লীগের নেতারা মানববর্ম সৃষ্টি করে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই হামলার পর দলটির নেতাকর্মীরা আহতদের সাহায্যে এগিয়ে গেলে সেখানে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা দলকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা- এটাই ছিল বিএনপির উদ্দেশ্য। যেহেতু খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, তার ক্যাবিনেটের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী- তারাই এর সঙ্গে জড়িত। এটা তো স্পষ্ট বোঝা যায়, তাদের উদ্দেশ্যই ছিল- আমাদের সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা।

ওই ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এটা খুব স্পষ্ট, তখন বিএনপি ক্ষমতায় খালেদা জিয়া, তার ছেলে এবং তার দল ও তার ক্যাবিনেটের মন্ত্রীরা জড়িত।

ওই হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হলেও সেদিন সন্ধ্যায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা ধ্বংস করা হয়। এ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আলামতগুলো তারা নষ্ট করে ফেলল।’

তিনি বলেন, ‘যে গ্রেনেড ব্যবহার হয় যুদ্ধক্ষেত্রে আর সেই গ্রেনেড দিনদুপুরে ব্যবহার হলো। এমন নয় যে, একটা গ্রেনেড মেরে দিয়ে পালাল, তা নয়। একটার পর একটা, ১৩টা গ্রেনেড মারা হলো।’

‘এই জাতীয় ঘটনা যারা ঘটাতে পারে.. আমি বিরোধীদলীয় নেতা। আমাকে হত্যার জন্য সরকারের প্রধান এবং তার ছেলে মিলে যদি ষড়যন্ত্র করে, তাহলে সেই দেশে কী অবস্থা আপনারা চিন্তা করতে পারেন! এসব ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।’

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে এই মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ ওঠার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্তের পর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরও ৩০ জন আসামির তালিকায় যোগ হন।

এই মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপি আমলে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানোর অভিযোগ আসে। তাদের পাশাপাশি ওই সময়কালের তিন পুলিশপ্রধানও এখন মামলার আসামি।

৫২ আসামির মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গিনেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

এই মামলায় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হত্যার বিচার চলছে। আমরা আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি এই বিচারের রায় হবে। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায়। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অভিনেত্রী মায়া ঘোষের চিকিৎসার জন্যও তার হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।

শেখ হাসিনা বলেন- যত দিন বেঁচে থাকব তত দিন এই হামলায় নিহতদের স্বজন এবং আহতদের সহায়তা করে যাব। কেবল এই হামলা নয়; বিএনপি-জামায়াত আমলে আওয়ামী লীগের যত নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে, সবার পাশে থাকব।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর আফতাবনগরের একটি ভবন থেকে পড়ে আনারুল ইসলাম নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *