Home / অর্থ-বাণিজ্য / পলিথিন নিষিদ্ধকরণে আইন আছে, প্রয়োগ নেই

পলিথিন নিষিদ্ধকরণে আইন আছে, প্রয়োগ নেই

অর্থনীতি ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম ২২ এপ্রিল : প্লাস্টিক পদার্থের নিয়মিত ব্যবহার দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অপচনশীল এ পদার্থ পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করছে। ফলে মাটি, পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এতে খাল-বিল, নদী-নালা থেকে শুরু করে মহাসমুদ্র পর্যন্ত প্লাস্টিক পদার্থ ও প্লাস্টিক কণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে উন্নত বিশ্বের প্রসিদ্ধ কোম্পানির বোতলজাত পানিতেও বিষাক্ত প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে বিশ্বের সকল স্তরের জীববৈচিত্র্য আজ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। অণুজীব থেকে শুরু করে তিমি মাছ পর্যন্ত মারাত্মক হুমকিতে। ফুড চেইনের মাধ্যমে অন্যান্য প্রাণিসহ আমরাও মারাত্মক হুমকিতে রয়েছি বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। শনিবার ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’ (পবা) কার্যালয়ে ‘পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’ পবা এই সেমিনারের আয়োজন করে।

পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো. আবদুস সোবহান বলেন, প্লাস্টিক দূষণ আমাদের নদী, সাগর, মহাসাগর ও ভূমিকে বিষাক্ত করছে, সামুদ্রিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশে সরকার ২০০২ সালে আইন করে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে; কিন্তু এই আইনের কোনো বাস্তবায়ন নেই। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় এক হাজার দুইশ কারখানায় নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর বেশির ভাগই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক।

ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসেবে শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো দ্বারা ড্রেন, নালা-নর্দমা, খাল, ডোবা ইত্যাদি ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৩৫ লাখের বেশি টিস্যু ব্যাগ উত্পাদন ও বাজারজাত হচ্ছে। এসব ব্যাগ পলিথিনের হলেও কাপড়ের ব্যাগ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, প্লাস্টিক শুধু আসবাবপত্র বা পলিথিনের ভিতরে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে নামিদামি কসমেটিক কোম্পানির সাবান, ফেসওয়াশ, টুথপেস্ট, বডিওয়াশ, ডিটারজেন্ট ইত্যাদিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিতে মাইক্রোবিড নামক ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি দেখা যায়। যা ব্যবহারের পর নদী-নালা, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয়ে পতিত হচ্ছে এবং মাছের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। তিনি পলিথিন ও টিস্যু ব্যাগের বিকল্প হিসাবে পাট, কাপড়, কাগজের ব্যাগ ও ঠোংগা ব্যবহার করা, এগুলো সহজলভ্য করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, এবছর বিশ্বে ৫ ট্রিলিয়ন প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার হবে। যা প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৬০ হাজার। এগুলো একটির পর আরেকটি রাখা হলে তা প্রতি ঘণ্টায় পৃথিবী সাত বার ঘুরবে এবং ফ্রান্সের দ্বিগুণ এলাকা আচ্ছাদন করবে। এর দশ শতাংশেরও কম পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা হয়। এগুলোর বেশির ভাগই পলিইথিলিন যা ক্ষয় হতে কয়েকশ বছর লাগে। প্রতি টন প্লাস্টিক ব্যাগ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা হলে তা ১১ ব্যারেল তেল সমতুল্য শক্তি সংরক্ষণ করে। তারা বলেন, প্রতি বছর ৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক সমুদ্রে জমা হয়। সমুদ্রে প্লাস্টিক অতি ক্ষুদ্র টুকরায় ভেঙে যায়। এসব টুকরা মাছ খায়; কিন্তু হজম হয় না। মাছের পেটে জমা হতে থাকে এবং খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান-এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. লেলিন চৌধুরী, সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, নাসফ-এর সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক জুবাইদা গুলশান আরা, নাসফের আইন বিষয়ক সহ-সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, বিসিএইচআরডি-র পরিচালক মো. মোনতাজুর রহমান মোহন, হীল-এর পরিচালক জেবুন নেসা, সবুজ ছাতা হেল্থ কেয়ার লিঃ-এর এমডি মো. শরিফুজ্জামান খান সাঈদ, পবার সদস্য মোসতারি বেগম প্রমুখ।

ঢাকা প্রতিদিন.কম/এআর

Loading...

Check Also

হিলিতে পণ্যের দাম নিম্নমুখী

হিলি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের বাজারে দ্রব্যমূল্যের ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকলেও দিনাজপুরের হিলি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *