Home / জেলার খবর / লাংগুলিয়া নদীতে ব্রিজ নেই, সাঁকোই ভরসা

লাংগুলিয়া নদীতে ব্রিজ নেই, সাঁকোই ভরসা

শরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল থেকে : টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনয়িনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া লাংগুলিয়া নদীর খাটরা-বিলচকিনাই এলাকার মানুষের যাতায়াতে কাঠের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। একটি সেতুই পারে এই দু’এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক ও জীবনমানের পরিবর্তন ঘটাতে।

জানা যায়, এলাকার ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াতে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন একটি ব্রিজের জন্য। কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে নিয়মিত তাদের সমস্যা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে স্কুলগামী কোমলমতি শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরা। অথচ স্বাধীনতার ৪৭ বছররে এ নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সাঁকোর উপর দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে মাঝে-মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। ব্রিজ নির্মাণ হলেই গ্রামবাসীর ভাগ্যের পরির্বতন আসতে পারে বলে জানায় এলাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে এপার থেকে ওপারে যাচ্ছে স্থানীয় কাউলজানী সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয়, লুৎফা শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হাজারও শিক্ষার্থী। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে অনেকটা ভীতির মধ্যে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান। নদীটির ওপর কোন সেতু না থাকায় ৪ কিলোমিটার ঘুরে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিগত দিনে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত এলাকাবাসীর ভাগ্যে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। সাঁকো দিয়ে কোন রকমে পায়ে হেটে পারাপার সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার ও কৃষি কাজের জন্য দু’পাড়ের মানুষকে প্রায় সময়ই নদী পার হতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। ফলে এলাকাবাসী তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে অসুবিধার সম্মুখীন হন। কখনও কাঠের সাঁকো, আবার কখনও ছোট নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয় এলাকাবাসীর।

খাটরা গ্রামের ব্যবসায়ী রাম প্রসাদ অভিযোগ করে জানান, তারা এ অঞ্চলের জনগন খুবই অবহেলিত । তারা অনেক দিন ধরে একটি ব্রিজের স্বপ্ন দেখে আসছে কিন্তু আমাদের স্বপ্ন যেন স্বপ্নই রয়ে গেলো, দুঃখ জনক হলেও সত্য তাদের কাঙ্খিত স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ ধারণ করলো না।
খাটরা গ্রামের ব্যবসায়ী মো. রফিক জানান, অনেকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের যাতায়াতের পথে সেতু নির্মাণ করে দেয়ার। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর খোঁজ-খবর নেয়নি।

স্থানীয় শিক্ষক আল আমীন চৌধুরী জানান, বিলচিকনাই-খাটরা গ্রাম থেকে আমার স্কুলে মেয়েরা কাঠের সাঁকো দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিতে পারাপার হয়। অনেক ছাত্রীরা কাঠের সাঁকো পারাপারের ভয়ে অনেক দূরের স্কুলে যেতে বাধ্য হয় এবং অনেকে লেখা-পড়া বন্ধ করে দেয়। স্কুলের ছাত্রীদের বেশি কষ্ট হয় বৃষ্টির দিনে। এই সময় সেতু পিছলে নিচে পরে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অনেক। তাই স্থানীয়দের জন্য সেতুটি অত্যন্ত জরুরী। অতিসত্ত্বর সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম জানান, ব্রিজটি নির্মাণের জন্য পরিক্ষা-নীরিক্ষা ও পরিমাপ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলেই ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, প্রায় তিন মাস আগে ওই স্থানে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনী কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১৭ এপ্রিল/এসকে

Loading...

Check Also

গোয়াইনঘাটে হাঁসের ধান খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, কৃষক নিহত

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাটে হাঁসের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে সাইফুল ইসলাম (৩২) নামে এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *