Home / জেলার খবর / সদরপুরে সংঘর্ষে একজন নিহত, ১৪৪ ধারা জারি

সদরপুরে সংঘর্ষে একজন নিহত, ১৪৪ ধারা জারি

আলমগীর হোসেন, সদরপুর থেকে : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর নগরকান্দা ইউনিয়নবাসীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও অর্ধ শত লোক আহত হয়েছে। পুলিশ ১৭টি টিআর সেল ও সর্টগানের ১৩৭টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ সোমবার সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে কৃষ্ণপুর বাজারসহ আশপাশের এলাকায়। এই সংঘর্ষে নিহত মান্নান সিকদার মানু (৫৫) নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের হাজী কছিমদ্দিন সিকদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য নিয়ে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ফকিরের সঙ্গে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাইয়ুম হিরু চৌধুরীর বিরোধ চলে আসছিল। সাবেক চেয়ারম্যানের গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আখতারুজ্জামান তিতাস।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাংলা বছর ১৪২৫ সালের কৃষ্ণপুর হাটের ইজারা পান আখতারুজ্জামানের সমর্থক কুদ্দুস সরদার। গতবছর এই হাটটি ইজারা নিয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ফকির। এই বছর বিল্লার হোসেনের ভাই ইনজামুল হক মিঠু হাটের ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পূর্বের বিরোধ ও হাটের ইজারা নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, সকাল ৬টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সংঘর্ষে নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ও ডাঙ্গী ইউনিয়ন এবং সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের দুই সহস্রাধিক লোক অংশ নেয়। ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে শৈলডুবি, পশ্চিম ভাষাণচর, উত্তর ভাষাণচর, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের লোক অংশ। সাবেক চেয়ারম্যানের পক্ষে রথখোলা, নিজগ্রাম, রামনগর, তালমা, রাধানগর, ভবুকদিয়া, ডাঙ্গিসহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজন অংশ নেয়। দুই পক্ষের আনুমানিক দুই সহস্রাধিক লোক ঢাল, সড়কি, বল্লম, ট্যাটা ও ইটসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়।
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। এ সংঘর্ষের সময় সকাল ৭টার দিকে কৃষ্ণপুর বাজারে গিয়ে প্রতিপক্ষের কোপে নিহত হয় সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থক নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের হাজী কছিমদ্দিন সিকদারের ছেলে মান্নান সিকদার মানু (৫৫)। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশত লাক আহত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন পুলিশের গুলিতে আহত হন। এ সংঘর্ষে পুলিশের আট সদস্য ইটের আঘাতে আহত হন। সংঘর্ষের সময় কৃষ্ণপুর বাজারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের অন্তত ৩০টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরে পুলিশ এসে টিআর সেল ও সর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ফকির বলেন, গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরে কোর্ট এলাকায় আমার ছোট ভ্ইাএ্যাডঃ ইনজামামুল হক মিঠু ফকিরের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে ও সোমবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক আকতারুজ্জামান তিতাস বলেন, গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকির কৃষ্ণপুর বাজারের ইজারা পান। এবার আমার এক সমর্থক বাংলা নতুন বছর থেকে কৃষ্ণপুর বাজারের ইজারা পেয়েছেন। বিল্লাল ফকিরের ভাই শিডিউল জমা দিয়েও ইজারা পায়নি। গতকাল ছিল ওই বাজারের প্রথম হাট। আমারা যাতে হাটের খাজনা ঠিকমত তুলতে না পারি এ জন্য ভাইয়ের উপর কথিত হামলার গুজব ছড়িয়ে এক অরাজকতা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে ইউপি চেয়ারম্যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ওসি হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা বিবাদমান দুইপক্ষের মাঝে অবস্থান করে সংঘর্ষ ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। সংঘর্ষ ঠেকাতে ১৭টি কাদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়েছে এছাড়া সর্টগানের ১৩৭টি গুলি ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ থানায় কোন অভিযোগ দেয়নি। নগরকান্দা থানার ওসি সৈয়দ লুৎফর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/১৬ এপ্রিল/এসকে

Loading...

Check Also

শেরপুর-৩ আসন : চাচা-ভাতিজার লড়াই

মো. আবু রায়হান, ঝিনাইগাতী থেকে : শেরপুর-৩ আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে সব সময় সরকারি দলের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *