Home / আন্তর্জাতিক / ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে পাঁচ রোহিঙ্গা উদ্ধার
ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে পাঁচ রোহিঙ্গা উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে পাঁচ রোহিঙ্গা উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে পাঁচ রোহিঙ্গা উদ্ধারডেস্ক রিপোর্ট : ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ এলাকা থেকে কমপক্ষে পাঁচজন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে উদ্ধার করেছে দেশটির জেলেরা। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে তাদেরকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। এ বছর ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে রোহিঙ্গা পদার্পণের এটাই প্রথম ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা। অসমর্থিত মিডিয়া সংবাদকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আরও পাঁচ রোহিঙ্গার সাগরেই মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নৌকাটি কোন দেশ থেকে রওনা করেছে তা জানা যায়নি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ইতোমধ্যে জাতিগত নির্মূলের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত বলে আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রশ্ন তুলেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে তাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ ছাড়া আর কী নামে ডাকা হবে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গা তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও এনেছে জাতিসংঘ। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের বড় অংশটি বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও কারও কারও প্রচেষ্টা থাকে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেওয়ার।

শুক্রবার দিনের আলো ফোটার আগেই পূর্ব আচেহ এলাকার জেলেরা সুমাত্রার উত্তরাঞ্চলীয় ভাগ থেকে পাঁচজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে দুইজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং একজিন শিশু রয়েছে। কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্ট বলছে আরও পাঁচ রোহিঙ্গা সাগরেই মারা গেছে। তবে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

পূর্বাঞ্চলীয় আচেহ’র জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা রাজালি বলেন, রাত দেড়টার দিকে তারা তীরে পৌঁছায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নৌকায় করে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের ইন্দোনেশিয়া গ্রহণ করলেও সেখানে তাদের বসবাসের অধিকার সীমিত। বেশিরভাগকেই বছরের পর বছর ধরে শরণার্থী শিবির কিংবা আটককেন্দ্রে কাটিয়ে দিতে হয়।

সম্প্রতি মালয়েশিয়াও লংকাবি দ্বীপে পৌঁছানো ৫৬ জন রোহিঙ্গাবাহী নৌকাকে আটকে দিয়েছে। মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির মহাপরিচালক জেনারেল জুলকিফিলি আবু বকর বলেন, মানবিকতাবোধ থেকে শরণার্থীদেরকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। রয়টার্সকে পাঠানো একটি টেক্সট মেসেজে তিনি আরো বলেন, ‘তাদেরকে অভিবাসন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে ২০১২ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর লাখো রোহিঙ্গাকে সাগরপথে বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে পালাতে দেখা গেছে। অনেকে আবার তখন মানব পাচারকারীদের কবলেও পড়েছিলেন। ২০১৫ সালে সাগরপথে দলবদ্ধভাবে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। সে সময় আন্দামান সাগর হয়ে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/০৬ এপ্রিল ২০১৮

Loading...

Check Also

পশ্চিমবঙ্গে বুলবুলের আঘাতে নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার থেকে ১২৫ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ভারতের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *