Home / আন্তর্জাতিক / চিঠি খুঁজতে তোলপাড় মোদির কার্যালয়

চিঠি খুঁজতে তোলপাড় মোদির কার্যালয়

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার সরাসরি অস্বস্তিতে পড়লো নরেন্দ্র মোদির দপ্তর। সিবিএসই’র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির কিছু প্রশ্ন যে পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয়ে গেছে, সেই কথা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন লুধিয়ানার জাহ্নবী বহল নামের এক ছাত্রী। গেলো ১৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ওই চিঠি লিখেছিলেন বলে জানিয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী জাহ্নবী। গতকাল রোববার ছুটির দিন ওই চিঠি খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো ঘাম ঝরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের।

দুই বছর আগে জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (জেএনইউ) ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারকে তার সঙ্গে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার আহ্বান জানিয়ে প্রথমবার খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তখন দশম শ্রেণির ছাত্রী জাহ্নবী। এবার তার দাবি, দশম শ্রেণির গণিত ও জীববিদ্যা এবং দ্বাদশ শ্রেণির অর্থনীতি ও হিসাববিজ্ঞান প্রশ্নফাঁসের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে গেল ১৭ মার্চ চিঠি লিখেছিলেন তিনি। জাহ্নবীর বক্তব্য, যারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস করছিল, আমার স্কুলের এক শিক্ষক এবং এক ছাত্র তাদের খোঁজ পেয়েছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলে পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীরা মনোবল হারিয়ে ফেলছে।

বিষয়টি সামনে আসার পরই জাহ্নবীর সেই চিঠির খোঁজ শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে। একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন অসংখ্য চিঠি আসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এখন জাহ্নবীর চিঠিটি কবে এসেছে বা আদৌ এসেছে কিনা, তা সবার আগে নিশ্চিত জানা প্রয়োজন। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চিঠি লিখে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুললেই পরীক্ষা বন্ধ করা যায় না। তার জন্য প্রমাণ দিতে হয়। তিনি বলেন, এবার প্রশ্নফাঁস হয়েছে বলে দাবি করে প্রশ্নের নমুনাসহ কয়েকশ’ অভিযোগ জমা পড়েছে মন্ত্রণালয়ের কাছে। কিন্তু দুটি ছাড়া সব অভিযোগই ভুয়া। ইউটিউবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এরকমই একটি ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যাচ্ছে। হিন্দির একটি প্রশ্নপত্রও হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরছে। সেটি দুই-তিন বছর আগের।

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে মোদীর নিরবতা নিয়ে এরইমধ্যে সরব কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তুলেছে তারা। তদন্তে নেমে ঝাড়খণ্ডের চাতরার একটি কোচিং সেন্টারের অন্যতম মালিক সতীশ পাণ্ডেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কংগ্রেসের অভিযোগ, সতীশ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) নেতা। প্রশ্নফাঁসে এবিভিপি’র হাত থাকার অভিযোগ তুলে দিল্লিতে তাদের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই। এবিভিপি’র মিডিয়া আহ্বায়ক সাকেত বহুগুণা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোচিং সেন্টার খোলার পরই ওই ব্যক্তিকে সংগঠন থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। এবিভিপি জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দুইদিন ধরে বিক্ষোভ দেখাবে তারা। সিবিএসই চেয়ারপারসনের ইস্তফার দাবিও উঠেছে।

ঢাকা প্রতিদিন ডটকম/০২ এপ্রিল ২০১৮

Loading...

Check Also

পশ্চিমবঙ্গে বুলবুলের আঘাতে নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা প্রতিদিন.কম : ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার থেকে ১২৫ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ভারতের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *